ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 July 2017, ৫ শ্রাবণ ১৪২8, ২৫ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিম্নচাপ ও মওসুমী বায়ূর সক্রিয়তায় ফের বেড়েছে বৃষ্টির দাপট

সাদেকুর রহমান : নিম্নচাপের প্রভাবে মওসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে বেড়ে গেছে বৃষ্টি। তবে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টি তুলনামূলক  বেশি ঝরছে। এদিকে বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ফের ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। 

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এক মাসের বেশি সময় ধরে পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। গত সপ্তাহে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসে। কিন্তু দুদিন ধরে বৃষ্টি আবারও বেড়েছে। বৃষ্টির এই ধারা আরও দু-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে মাটি নরম হয়ে যায়। এ কারণে এসব এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

গত ১৩ জুন পার্বত্য তিন জেলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে শতাধিক মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে রাঙামাটিতেই নিহত হয় ১২০ জন। কয়েক হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। 

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ গতকাল বুধবার বিকেলে বলেন, সন্ধ্যার পরে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, এদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেশি বৃষ্টি হয়েছে সন্দ্বীপে ৭১ মিলিমিটার। এ সময় রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৫ মিলিমিটার। তবে, রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টি কম হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি জানিয়ে আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, উড়িষ্যা উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থলনি¤œচাপটি সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে ০৩ (তিন) নম্বর পুনঃ ০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। একই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। 

আবহাওয়া অফিস আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে আরো জানিয়েছে, নি¤œচাপ ও মওসুমী বায়ূর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দম্কা/ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সে. হ্রাস পেতে পারে। 

দুদিন বিরতির পর নিম্নচাপ ও মওসুমী বায়ূর প্রভাবে আবারো বৃষ্টির দাপট পরিলক্ষিত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী চব্বিশ ঘন্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সন্দ্বীপে, ১৮৭ মিলিমিটার। একই সময় রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১১ মিলিমিটার। একই সময়ে টাঙ্গাইল ৭ মিলিমিটার, ফরিদপুর ২,মাদারীপুর ১২, গোপালগঞ্জ ৬, নেত্রকোনা ২৬, চট্টগ্রাম ৬২, সীতাকুন্ড ৮৯, রাঙ্গামাটি ১৮, কুমিল্লা ৩৬, চাঁদপুর ৬৬, মাইজদীকোর্ট ১২৩, ফেনী ১৪২, হাতিয়া ৮৭, কক্সবাজার ৭১, কুতুবদিয়া ৮৪, টেকনাফ ১১২, সিলেট ৪, শ্রীমঙ্গল ১০, রাজশাহী ৭, বগুড়া ৯, বদলগাছী ১,তাড়াশ ১, রংপুর ৬, দিনাজপুর ১, সৈয়দপুর ১, ডিমলা ৯, রাজারহাট ৮, মংলা ৪৭, সাতক্ষীরা ৬, যশোর ৫, চুয়াডাঙ্গা ৮, বরিশাল ৩৬, পটুয়াখালী ৪৮, খেপুপাড়া ৬৮ ও ভোলায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান। আজ সকালে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নিম্নচাপটি দুর্বল হলেও তার প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে সক্রিয় রয়েছে মওসুমী বায়ু। এ জন্য ২২ বা ২৩ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। 

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও এর আশপাশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল উড়িশ্যা ছাড়াও আসাম, সিকিম, মণিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানায় সংস্থাটি।

এদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃষ্টিপাতের ওপর বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, বিপদসীমার ওপরে থাকা দেশের নদনদীর পানি দ্রুত নামছে। যমুনার পানি সিরাজগঞ্জে কিছুটা ওপরে ছিল। সেটিও কমে আসবে। ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি হলেও দুই-তিন দিন পর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি বোঝা যাবে। এর মধ্যে যদি দেশের নদনদীর পানি কমে যায়, তাহলে তা দেশের জন্য ভালো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ