ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 July 2017, ৫ শ্রাবণ ১৪২8, ২৫ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ব্যাটিংয়ে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল আমার : লিটন

স্পোর্টস রিপোর্টার : অস্ট্রেলিয়া সফরে দারুণ করেছে বাংলাদেশ এইচপি দল। সফরের সবগুলো ম্যাচেই জয় পেয়েছে দলটি। সামনে থেকে দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান লিঠন কুমার দাস। ডারউইনে পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি তিনদিনের ম্যাচ খেলে দেশে ফিরেছে বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দল। আর দেশে ফিরেইে এইচপি দলের কোচ সাইমন হ্যালমটসহ সবার প্রশংসা পাচ্চেন লিটন কুমার। তবে এসব প্রশংসায় গা ভাসিয়ে দিতে চান না লিটন। কারন তিনি মনে করেন আরও ভালো করার সুযোগ ছিল  ছিল তার। আর সেটা করতে না পেরেই কিছুটা হতাশ তরুণ এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে এইচপি দলের অধিনায়ক লিটন বলেন, ‘আমার ব্যাটিংয়ে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। কিন্তু পারিনি। ফর্ম সব সময় থাকে না। আর কন্ডিশন আমাদের অনুকূলে ছিল না। প্রথম দিন যাওয়ার পরই আমাদের একটা অন্যরকম অনুভূতি এসেছে। কারণ এখানকার আবহাওয়া, আর ওখানকার আবহাওয়া একটু ভিন্ন। প্রথম ম্যাচটি আমরা অনেক কষ্ট করে জিতেছি। তবে বেশ কিছু পরিকল্পনায় আমরা সফল হতে পারিনি।’ নিজের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলীয় ব্যাটিংটাও ভালো ছিল না দলের। আর তাতে হতাশাটা রয়েই গেছে লিটনের। এ নিয়ে লিটন বলেন,‘দলীয়ভাবে আমরা আরও একটু ভালো  খেলতে পারতাম। আমরা তিনশ’র বেশি কিন্তু একটি ম্যাচেই করেছি। আর এটাও ঠিক যে সুযোগও বেশি পাইনি। পরে ব্যাটিং করেছি দুই-তিনটি ম্যাচে। যদি সুযোগ হত এবং আরও কয়েকটা সেঞ্চুরি হত, তাহলে আরও ভালো লাগতো।’  সফরে অধিনায়কের দায়িত্বটা বেশ উপভোগ করেছেন লিটন। তার মতে, ‘খুব ভালো একটি অভিজ্ঞতা ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে সব সময় খেলি। এবার একটা অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল- নেতৃত্ব দেওয়া। এ বিষয়টাতে পছন্দেরও একটা ব্যাপার থাকে। আমার কাছে অধিনায়কত্ব মজার একটি বিষয়। আমি এবার এটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছি।’ এই সফর নিয়ে লিটন বলেন,‘ এই সফরে অনেক কিছুই শিখেছি। ওই উইকেট থেকে আমাদের উইকেট অনেক ভিন্ন। আমাদের এখানে অনেক বেশি ঘাম ঝরে। দশ মিনিট  খেললেও প্রচুর পরিমাণে শরীর ঘামে। কিন্তু ওখানে ওটা হয় না। আবার ওখানে প্রচুর পরিমাণে বাতাস থাকে। এটা অনেক সময় পক্ষে থাকে আবার বিপক্ষেও চলে যায়। এসব বিষয়েই খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি এখান থেকে গিয়েছিলাম কিছু শেখার জন্য। আবহাওয়া কেমন, উইকেটটা কেমন, উইকেট নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ করা যায় নাকি- এগুলোতেই আমার মূল লক্ষ্য ছিল। সবারই কম-বেশি এটা লক্ষ্য ছিল।’ এই সফরে নর্দার্ন টেরিটরি দলটির বিপক্ষে সবগুলো ম্যাচই জিতেছে বাংলদেশ। দলটি পুরো শক্তির দল না হলেও অত খারাপ নয় বলে জানালেন লিটন, ‘দলটা ভালো ছিল। হয়ত ওদের চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রা ছিল না। এদের ভিতরে যারা নর্দার্ন টেরিটরির ভালো খেলোয়াড় তারা  খেলেছে আমাদের বিপক্ষে। আমাদের মান কিন্তু অনেক উঁচুতে ছিল। আমাদের প্রায় সবাই বড় বড় পর্যায়ে অনেক দিন ধরে খেলছি। ওখানে হয়ত ওমন পর্যায়ে কেউ ছিল না।’ নতুন কন্ডিশনে খেলতে গিয়ে মানসিকতার উন্নতি করাটাই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন লিটন। তিনি বলেন, ‘আসলে এখানে মানসিকতা সবথেকে বড় জিনিস। আমরা প্রিমিয়ার লিগে বিকেএসপির মাঠে খেলেছি। আমাদের মাঠগুলো ছোট ছোট। ওখানে অনেকগুলো বড় মাঠ। তখন একটা সংশয় তৈরি হয় যে আমি এই শটটা মারবো কি, মারবো না। এছাড়া বাতাসও পরিবর্তন হয় ঘনঘন। এগুলো ব্যাটসম্যান কিংবা বোলারদের সমস্যা তৈরি করে। এ জিনিসগুলো খাপ খাওয়ানোর বিষয় থাকে। মূলত বাইরের কন্ডিশনে এগুলো খাপ খাওয়ানোটাই জরুরি।’ ডারউইনের সফরটা লিটনকে ব্যক্তিগত ভাবে কাজে দেবে বলে জানান লিটন, ‘আসলে ওখানকার অভিজ্ঞতা অনেক কাজে আসবে। বিশেষ করে আমার জন্য। পরবর্তীতে খেলতে গেলে বোঝা যাবে এ জায়গাটাতে খেলতে গেলে কীভাবে খেলা দারকার।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ