ঢাকা, শুক্রবার 21 July 2017, ৬ শ্রাবণ ১৪২8, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রবল বর্ষণে খুলনায় জলাবদ্ধতা

খুলনা অফিস : প্রবল বর্ষণে খুলনা মহানগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মওসুমী নিম্নচাপে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুলনায় অবিরাম বর্ষণ চলছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরের বাইরে বের হননি। ফলে নগরী অনেকটাই ফাঁকা। নগরীর বড়বাজার ও অনেক অভিজাত মার্কেটের দোকানপাট প্রায় বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে মওসুমী নিম্নচাপের ফলে মংলা বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে নিম্নচাপ আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য খালাস-বোঝাই কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে খাদ্যবাহী জাহাজের কাজ। 

অতি বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরীর রয়্যালের মোড়, বাইতি পাড়া, তালতলা, শান্তিধাম মোড়, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, পিকচার প্যালেচ মোড়, পিটিআই মোড়, সাতরাস্তার মোড়, নিরালা, বাগমারা, মিস্ত্রিপাড়া, ময়লাপোতা, শিববাড়ি মোড়, বড়বাজার, মির্জাপুর রোড, খানজাহান আলী রোড, খালিশপুর, দৌলতপুর, নতুনবাজার, পশ্চিম রূপসা, আহসান আহমেদ রোডসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে।

এদিকে, পানির কারণে রিকশা, মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর অধিকাংশ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। যারা অফিস-আদালতে গেছেন তাদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়া কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মওসুমী নিম্নচাপের ফলে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। বৃষ্টিপাত বৃহস্পতিবার দিনভর চলবে। শুক্রবার থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে।

মওসুমী নিম্নচাপের ফলে মংলা বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে নিম্নচাপ আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য খালাস-বোঝাই কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে খাদ্যবাহী জাহাজের কাজ। গত বুধবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ অঞ্চলে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে মংলা বন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সঙ্কেত এবং এক নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানরত সাগরের মওসুমী নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে অতিক্রম করেছে। মওসুমী বায়ুর প্রভাবেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এদিকে, নিম্নচাপের প্রভাবে মংলা বন্দরসহ আশপাশের উপকূলের ওপর দিয়ে গত মঙ্গলবার রাত থেকে প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ট্রাফিক গোলাম মোস্তফা জানান, বন্দরে ক্লিংকার, গ্যাস, কন্টেইনারবাহীসহ মোট ছয়টি জাহাজ রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে এসব জাহাজের পণ্য ওঠানো ও নামানো (খালস-বোঝাই) ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রাখা হয়েছে খাদ্যবাহী জাহাজের কাজ। এছাড়াও পরিবহনের কাজও কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম (মংলা) জোনের অপারেশন কর্মকর্তা এম ফরিদ উদ্দিন জানান, এ জোনের আওতাধীন ১৬টি স্টেশনের নানা ধরনের নৌযানসমূহকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝড়ে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গাছ পড়ে গেছে, রাতে কিছু সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তিন নম্বর সংকেতের কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল। মাছ ধরা জেলেদের নিরাপদে আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। প্রচন্ড ঝড়ো বাতাসের কারণে সাগরে পাঁচ শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদে সুন্দরবনের দুবলার চর সংলগ্ন বিভিন্ন ছোট-ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক মো. মেহেদ্দীজ্জামান জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বনের অভ্যন্তরের সকল ক্যাম্প ও স্টেশনের কাছে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বনের নৌযানসমূহকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া সব নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে নিরাপদে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ