ঢাকা, শুক্রবার 21 July 2017, ৬ শ্রাবণ ১৪২8, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে ২ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

 

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার কদমতলী এলাকায় দুই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলেন, জামাল খান পাটোয়ারি, রাজিব হাওলাদার, জাকির শিকদার, মো. রফিকুল ইসলাম শামীম ও মফিজ উদ্দিন সরকার।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, জামালকে ফতুল্লা ও রাজিবকে ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আর জাকির ও রফিকুলকে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুর এবং মফিজকে কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গত ১৮ জুন রাতে কদমতলী থানার নামা শ্যামপুর পূর্ব জুরাইন এলাকা থেকে পারুল বেগম নামে এক নারীর হাঁত-পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আর ১০ জুলাই পূর্ব জুরাইন থেকে ফরিদা বেগম নামে আরেক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই নারীকেই ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহ থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করে জানিয়ে ফরিদ উদ্দিন বলেন, পারুলের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জামাল ও রাজিব আর ফরিদার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জাকির, রফিকুল ও মফিজকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের কাছে তারা ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জামাল ও রাজিব পরস্পরের বন্ধু। আর পারুলের সঙ্গে পরিচয় ছিল রাজিবের। ওই পরিচয়ের সূত্রধরে সেই রাতে রাজিব ও জামাল পারুলের বাসায় হালিম, পানীয় ও আম-পেয়ারা নিয়ে যায়। ওই রাতে পারুলের গাড়ি চালক লিটন তার কর্মস্থলে ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন, হালিম ও পানীয়তে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আনে তা পারুলকে খাওয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছে রাজিব ও জামাল। “পারুল ওই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তারা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে পারুল জেগে উঠলে দুজন মিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর ঘর থেকে মোবাইল, সোনার দুল ও টাকা নিয়ে চলে যায়।”

তিনি বলেন, “ফরিদার ঘটনাটি ঘটিয়েছে জাকির, রফিকুল ও মফিজ। রফিকুল ও মফিজ ফরিদার সঙ্গে একই পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে তারা পূর্ব পরিচিত। স্বামী মারা যাওয়ার পর পূর্ব জুরাইনে একটি বাসায় ফরিদার একা থাকার বিষয়টি রফিকুল ও মফিজ জানতো। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ৭ জুন তিনজন ফরিদার বাসায় যায়।”

পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ফরিদা তাদের সঙ্গে কথা বলছিল জানিয়ে পুলিশের উপ-কমিশনার ফরিদ উদ্দিন বলেন, “এসময় রফিকুল জোর করে ফরিদাকে ধর্ষণ করে। পরে বাকি দুজনও তাকে ধর্ষণ করে। “ফরিদা শেষের দিকে চিৎকার শুরু করলে মফিজ তার মুখে চাকু ঢুকিয়ে দেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে।”

গ্রেপ্তারকৃতরা ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের কোনো চক্র কিনা জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এদেরকে ওইভাবে চক্র বলা যাবে না। তবে রাজিব ছিল পেশাদার চোর। এ ঘটনার আগে কিছু চুরি ও ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরেছি।”

এর আগে সকালে তাদের গ্রেফতারের তথ্য জানানোর সময় এটি সংঘবদ্ধ কোনো চক্র হতে পারে সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী। ওই সময় তিনি বলেন, “তারা একটি চক্র বলে মনে হচ্ছে, যারা ধারাবাহিকভাবে এরকম ধর্ষণ ও হত্যা চালিয়ে আসছিল। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”

তাদেরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার ফরিদ উদ্দিনও।

উপ কমিশনার আরো জানান, নিহতের ভাই মো. নয়ন ১৯ জুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ দিন তদন্ত করে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়। অবশেষে কদমতলী থানা পুলিশ বুধবার রাতে তাদের গ্রেফতার করে।

এ সময় মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. ইউসুফ আলী, শ্যামপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ফজলুর রহমান, মিডিয়া সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কান্তি চৌধুরী, কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাজু মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ