ঢাকা, শুক্রবার 21 July 2017, ৬ শ্রাবণ ১৪২8, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিবচরে পানি কমলেও নদী ভাঙন বৃদ্ধি শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

মাদারীপুর সংবাদদাতা : সাম্প্রতিক লাগাতার প্রবল বর্ষণে ও পদ্মা,আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বৃদ্ধিতে মাদারীপুরের শিবচরে বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে । গতকয়েকদিনে পানি কমলেও নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় অনেক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে ক্রম্ইে। এ পর্যন্ত প্রশাসনের নিকট থেকে আশ্বাস ব্যাতীত কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি ফলে দুভোর্গের শিকার অসহায় মানুষের চরম ক্ষোভ বেড়েছে। নদী ভাঙন ও প্রবল বর্ষণে মাদারীপুর শহর রক্ষা বাঁধ হমকির মুখে রয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায় ,প্রবল বর্ষণ ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে মাদারীপুর শহর রক্ষা বাঁধসহ আশেপাশের এলাকা নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও নদীর পানির ¯্রােত অতি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চঘাটের গুরুত্বস্থাপনাসহ অনন্ত অর্ধশতবাড়িঘর যেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যাবার আশংকা করা হচ্ছে। লঞ্চঘাটের মূল পয়েন্টে শহররক্ষা বাঁধে ইতিপুর্বে থাকা স্লাব নদীতে তলিয়ে যাবার পর পানিউন্নয়ন বোর্ডের নিক্ষিপ্ত বালুর বস্তাও প্রবল স্্েরাতের কারণে ক্রমশ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় আতংক ছড়িয়েছে এলাকায় । রাতের মধ্যে লঞ্চঘাট এলাকার বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হবার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে এলাকাবাসী জানায়। 

 শহর রক্ষা বাঁধে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চঘাট এর মূল পয়েন্টে সাংবাদিক আলী আকবর খোকার বাসভবন সহ আশেপাশের অন্তত ৫০টি বাড়িঘর নদীভাংগনের মুখে পড়েছে। গত বছর আগস্ট মাসে ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়ে মাত্র ২ দিনের মধ্যে সমস্ত স্লাব(সিসি ব্লক)নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় জরুরিভিত্তিতে ,তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা হয়। তখন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মাদারীপুর ভাঙন পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী পানিউন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে সি সি ব্লক ও জিও ব্যাগ তৈরীর কাজ করে। কিন্তু সংস্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকতারা ভাঙ্ন রোধে পর্যাপ্ত ব্লক ও জিও ব্যাগ তৈরী করেছে এবং জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে তবে তারা জানান হঠাৎ করে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত সি সি ব্লক ডাম্পিং ও প্লেসিং করা সম্ভব হয়নাই যা শুকনো মৌসুমে করা হবে। 

কিন্তু শহর রক্ষা বাধ ভাঙন রোধে এই মুহূর্তেই সি সি ব্লক ফেলানো দরকার বলে এলাকাবাসী মনে করেন।ভাঙনের মুখে বাসীন্দা সাংবাদিক আলী আকবর খোকা জানান, শহর রক্ষা বাঁধের মূল পয়েন্টে নদীর পানির ¯্রােত বারবার আঘাত হানায় আমার বাড়িঘর এখন যে কোন মুহূতে নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে তাই আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে বিনিদ্র রাত্রী যাপন করছি। 

এদিকে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম নদীর পানি বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, গত ১২ ঘন্টায় আড়িয়াল খাঁ নদীর পানির কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি পরিমাপ হিসাবে গত ১২ ঘন্টায় ২.২৭ সেঃমিঃ পানির লেভেল রয়েছে। তবে বিপদসীমার অনেক নীচে রয়েছে। 

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মাদারীপুর শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় ইতিমধ্যে যে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছিলো তা মেরামত করা হয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধ যাতে কোন ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সি সি ব্লক মজুদ রয়েছে । প্রয়োজনে সেগুলো ফেলা হবে। 

এদিকে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙ্গনে মাদারীপুর শিবচর উপজেলার ৩ ইউনিয়নের শতাধিক বাড়ি ঘর, মসজিদ, ফসলী জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে স্কুল-মাদ্রাসাসহ অসংখ্য বাড়িঘর। 

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের পানি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় শিবচর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল কাঁঠালবাড়ি, চরজানাজাত ও আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী সন্ন্যাসীরচরে নদী ভাঙনে শতাধিক ঘর-বাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

নদী ভাঙন কাছাকাছি চলে আসায় শিবচরের কাউলিপাড়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও মাদানী কমপ্লেক্স সরিয়ে নেয়া শুরু হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে চরাঞ্চলের ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়সহ অসংখ্য ঘরবাড়ি। ভাঙনের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্তরা ঘর বাড়ি গবাদি পশু সরিয়ে নিতেও হিমশিম খাচ্ছেন। 

এছাড়াও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে সন্নাসীরচর উচ্চ বিদ্যালয়, ৭৬ নং সন্ন্যাসীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, সেতুসহ অসংখ্য স্থাপনা। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ এখন না খেয়ে জীবন যাপন করছে। সরকারি কোন সাহায্য-সহযোগিতা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। দূর থেকে কাউকে আসতে দেখলেই ভাঙ্গন কবলিতরাভাবে এই বুঝি কেউ আমাদের জন্য সাহায্য নিয়ে আসছে। সব চেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পদ্মা বেষ্টিত চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের মানুষ।  

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে পদ্মা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাওলিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরিফুল ইসলাম পরিদর্শন করেন। এসময় তারা ত্রাণ তৎপরতা শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন। 

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদী ভাঙন কবলিতদের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ত্রাণের চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করি দু‘এক দিনের মধ্যেই আমরা ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ