ঢাকা, শুক্রবার 21 July 2017, ৬ শ্রাবণ ১৪২8, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ে আগেই তৎপর কেসিসি

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে গত ঈদ-উল আযাহায় নির্ধারিত স্থানে পশু কুরবানিতে তেমন সাড়া না মেলায় এ বছর আগে-ভাগেই তৎপর হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। ইতোমধ্যে পশু জবাইয়ে জন্য নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ১৬০টি স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের আগের দিন পর্যন্ত নেয়া হয়েছে প্রচারণাসহ নানা উদ্যোগ। অবশ্য কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ঈদে খুলনা নগরীতে প্রথম চালু হওয়ায় সাড়া কম ছিলো। তবে এবার শতকরা ৬০ ভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে।

কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছর ঈদ-উল আযাহায় নগরীতে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কেসিসি। কিন্তু মাত্র শতকরা ৩৬ ভাগ কুরবানির পশু কেন্দ্রে আসে। বাকি ১০ ভাগ সড়কে এবং ৫৫ ভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ির ছাদে, গ্যারেজে ও বাড়ির মধ্যে উন্মুক্ত জায়গায় পশু জবাই করা হয়। ফলে কর্পোরেশনের উদ্যোগ অনেকটায় ভেস্তে যায়। তাই এ বছর নিধারিত স্থানে পশু জবাইয়ে উৎসাহিত এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগে-ভাগেই নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। ইতোমধ্যে পশু জবাইয়ে জন্য নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ১৬০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো ১নং ওয়ার্ড ৫টি, ২নং ওয়ার্ডে ৫টি, ৩নং ওয়াডে ৫টি, ৪নং ওয়ার্ডে ৫টি, ৫নং ওয়ার্ডে ৫টি, ৬নং ওয়ার্ডে ৫টি, ৭নং ওয়ার্ডে ৬টি, ৮নং ওয়ার্ডে ৫টি, ৯নং ওয়াডে ৬টি, ১০নং ওয়ার্ডে ৫টি, ১১নং ওয়ার্ডে ৫টি, ১২নং ওয়ার্ডে ৫টি, ১৩নং ওয়ার্ডে ৬টি, ১৪নং ওয়ার্ডে ৭টি, ১৫নং ওয়ার্ডে ৮টি, ১৬নং ওয়াডে ১১টি, ১৭নং ওয়ার্ডে ৫টি, ১৮নং ওয়ার্ডে ৫টি, ১৯নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২০নং ওয়ার্ডে ৭টি, ২১নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২২নং ওয়ার্ডে ৪টি, ২৩নং ওয়ার্ডে ৪টি, ২৪নং ওয়ার্ডে ৪টি, ২৫নং ওয়ার্ডে ৮টি, ২৬নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২৭নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২৮নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২৯নং ওয়ার্ডে ৩টি, ৩০নং ওয়ার্ডে ৫টি ও ৩১নং ওয়ার্ডে ৫টি। নির্ধারিত ওই সব স্থানে নগরবাসীকে এবার পশু এনে কোরবানী করতে হবে। ইতোমধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এছাড়া এছাড়া ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রচারণাসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কর্পোরেশনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা নিয়ে এবারও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগরীর অনেক বাসিন্দা।

সাঈদ ও কামাল হোসেনসহ নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কর্পোরেশনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যত এবারও সুফল বয়ে আনবে না। কারণ নির্ধারিত ওই সব স্থানে কোরবানি দিতে গেলে কুরবানিদাতাদের ভোগান্তি বাড়বে। এক জায়গায় অনেক পশু নিয়ে হাজির হলে সময় নষ্ট হবে এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। মাংস আনার ক্ষেত্রেও ঝামেলায় হবে। এছাড়া এক শ্রেণির দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা কোরবানি পশুর পিছনে শ্রম দিয়ে টাকা আয় করতো তারাও ওই উপার্জন থেকে বঞ্চিত হবে।

কর্পোরেশনের ভেটিনারি সার্জন ডা. রেজাউল করিম বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং কুরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরীর পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতেও এ উদ্যোগ বেশ কাজে আসছে। যার নজির গত বছরই লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, এ বছরও এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থান গুলো প্রস্তত করার কাজ যেমন পানি ও জবাইকারীর সুব্যবস্থা, রোদ বৃষ্টির জন্য সামিয়ানা, কুরবানি দাতাদের বসার জন্য চেয়ার, মাংস পরিবহনে ভ্যান, নারীভুড়ি পরিষ্কারের ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য শ্রমিক ও গাড়ি ব্যবস্থা থাকবে।

ভেটিনারি সার্জন আরও বলেন, কর্পোরেশনের এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ, ক্যাবল টিভিতে প্রচার, খুদে বার্তা প্রেরণ, ঈদে আগে সাত জুড়ে মাইকিং করবে। তিনি আরো বলেন, কোনো কুরবানিদাতার বাড়ির মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে সে বাড়ি কুরবানি করতে পারবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে যাবতীয় ময়লা নিজস্ব উদ্যোগে মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে। কোনোভাবে ড্রেনে ফেলা যাবে না। কোনো ব্যক্তি রাস্তায় কুরবানি করলে আর ওই ময়লা ড্রেনে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ