ঢাকা, সোমবার 16 December 2019, ০১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

তুরস্ক-গ্রিস উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক: এজিয়ান সাগরের কাছে গ্রিস ও তুরস্কের উপকূল বরাবর শক্তিশালী ভূমিকম্পের সংবাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

শুক্রবার ভোরে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার এই কম্পনে অন্তত দুইজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন বলে গ্রিক ও তুর্কি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

ভূমিকম্পে গ্রিসের কোস দ্বীপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপটি বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের ভ্রমণকারীদের কাছে অবসর কাটানোর স্থান হিসেবে বেশ প্রিয়।

এখানেই দুই ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে মেয়র জর্জ কিরিতসিস জানিয়েছেন।

অন্য কয়েকটি সূত্র আহতের সংখ্যা ৩০ এবং তাদের মধ্যে দুই পর্যটকও আছেন বলে জানিয়েছে।

পুলিশ দ্বীপের একটি বারের ছাদ ধসে পড়ার খবর দিয়েছে। ক্যাফে ও বারসমৃদ্ধ কোস বন্দরেরও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

স্থানীয় কোসটুডে ডটকম ওয়েবসাইটে দেওয়া ছবিতে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রে পানি ঢোকার চিত্র দেখা গেছে; পানির তোড়ে ছোট একটি মাঝ ধরার নৌকা রাস্তায় উঠে এসেছে। 

এজিয়ান সাগরে অবস্থিত তুরস্কের বদরুম অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর প্রায় ৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; কম্পনের পর হুডোহুডির মধ্যে এরা আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভূমিকম্পের পরপরই তুরস্কের জরুরি বিভাগ নাগরিকদের পরাঘাত সম্পর্কে সতর্ক করে। সেখানে ভবন ধস বা হতাহতের বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

টেলিভিশনের এক ফুটেজে কম্পনের সময় স্থির থাকা গাড়িগুলোকে নড়তে এবং দোকানের তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ার দৃশ্য এবং ভূমিকম্পের পর মুগলা প্রদেশে ভবনগুলোর নিচে হাজার হাজার লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। 

প্রদেশের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে মেয়র ওসমান গুরুন জানিয়েছেন। ইউরোপের ভূমিকম্প বিষয়ক সংস্থা ইএমএসসি অল্প মাত্রার সুনামি হতে পারে এমন আশঙ্কা করলেও কর্মকর্কাদের বরাত দিয়ে তুর্কি গণমাধ্যমগুলো সাগরতীরে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ার কথা জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। কম্পনের উৎপত্তি সমুদ্র তলদেশের ৬ দশমিক ২ মাইল নিচে ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে। 

এ নিয়ে চলতি বছরে এজিয়ান সাগরের তীরে দ্বিতীয়বারের মতো ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূকম্পন ঘটলো।

আরব ও ইউরেশীয় প্লেটের ওপর অবস্থিত তুরস্ককে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবেই বিবেচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১১ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ ভানে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ছয়শ’রও বেশি লোক মারা যায়।

১৯৯৯ সালে দেশটির জনবহুল উত্তরপশ্চিমে শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মারা যায় ২০ হাজারেরও বেশি।

একই বছর গ্রিসেও ৫ দশমিক ৯ মাত্রার এক ভূমিকম্পে দেড় শতাধিক লোকের মৃত্যু ঘটে।-রয়টার্স

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ