ঢাকা, রোববার 23 July 2017, ৮ শ্রাবণ ১৪২8, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাসূলের জীবনাদর্শ শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি

শাহ্ আব্দুল হান্নান : আমি অল্প বয়সে রাসূল সা:-এর জীবনী পড়েছি। এর ফলে তার অসাধারণ জীবনাদর্শে প্রভাবিত হয়েছি। তখনই আমার জীবনের মোড় পরিবর্তন হয়ে যায়।
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রাসূল সা:-এর জীবনী পড়া জরুরি। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির পথ প্রদর্শনের জন্য এক দিকে কুরআন পাঠিয়েছেন, অন্য দিকে রাসূল সা:- কে পাঠিয়েছেন। এ জন্য রাসূলের জীবনী জানা জরুরি।
আমার জানা মতে, রাসূলের জীবনীর পূর্ণ বিবরণ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় না। সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও রাসূলের জীবনের প্রধান প্রধান ঘটনাকে ভিত্তি করে একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স স্কুল ও কলেজে পড়ানো উচিত। আমি আলোচনা করে দেখেছি, বেশির ভাগ কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী রাসূলের জীবনী পড়েনি। এ জন্য আমি মনে করি, অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের ও ছোট ভাইবোনদের অল্প বয়সেই সংক্ষিপ্তভাবে রাসূলের জীবনী পড়িয়ে দেয়া। এ জন্য দশ পর্বে একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স প্রণয়ন করেছি। তা এখানে উল্লেখ করা হলো।
যিনি এ সংক্ষিপ্ত কোর্স পড়াবেন, তাদের রাসূলের একটি বিস্তৃত জীবনীগ্রন্থ পড়ে নিতে হবে। কোর্সের প্রথম পর্বে থাকবে রাসূলের পরিবার, তার জন্ম, মরুভূমিতে ধাত্রী হালিমার কাছে মানুষ হওয়া, তার দাদা আবদুল মুত্তালিব ও চাচা আবু তালেবের অবদান। দ্বিতীয় পর্বে থাকবে তার আল আমিন ও আল সাদিক উপাধি পাওয়া। শিশুদের এরকম হতে বলা এবং তার ‘হিলফুল ফুজুল’ সংগঠন গড়ে তোলা ও জনসেবা। শিশুদের এ প্রসঙ্গে জনসেবক হওয়ার কথা বলতে হবে। রাসূলের ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজা রা:-এর সাথে বিয়ে এবং রাসূলের ৫২ বছর বয়স পর্যন্ত খাদিজা রা:-এর সাথে থাকা, তখন খাদিজা রা:-এর বয়স ৬৫ বছর, যখন তিনি মারা যান। রাসূলের জীবনের বেশির ভাগ সময় এক স্ত্রীর সাথেই তিনি জীবনযাপন করেছেন।
তৃতীয় পর্বে থাকতে পারে রাসূলের নবুয়ত লাভ, কুরাইশদের বিরোধিতা ও অত্যাচার, তায়েফে দাওয়াতের জন্য গমন ও সেখানকার ঘটনা। চতুর্থ পর্বে থাকতে পারে রাসূলের মিরাজ, হিজরতের আগে ও পরের ঘটনা, মদিনায় প্রথম মসজিদ তৈরি করা। পঞ্চম পর্বে থাকতে পারে, ইহুদিদের সাথে চুক্তি, মদিনা সনদ ঘোষণা, যাতে সবাইকে সম-অধিকার দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মদীনা সনদের প্রধান ধারাগুলো জানিয়ে দেয়া যায়। ষষ্ঠ পর্বে থাকতে পারে বদর, ওহুদ ও আহজাবের যুদ্ধের পূর্বাপর বর্ণনা; বনি কুরাইশদের বিশ্বাসঘাতকতা ও তাদের ওপর রাসূল সা:-এর ব্যবস্থা গ্রহণ। সপ্তম পর্বে আলোচনা করা যায় ওমরাহ করার জন্য রাসূল সা: ও সাহাবিদের মক্কার উদ্দেশে রওনা হওয়া; কুরাইশদের বাধা এবং পরে হুদাইবিয়ার সন্ধি, হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলাফল। অষ্টম পর্বে আলোচনা করা যায় মক্কা বিজয়ের আগে ও পরের ঘটনা এবং হুনাইনের যুদ্ধের বিবরণ। নবম পর্বে আলোচনা করা যায় বিদায় হজের বিস্তারিত বিবরণ; বিদায় হজে রাসূলের ভাষণ, তার ঘোষণা যে, আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কালোর ওপর সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা। তা নিয়ে নেয়া যায় না; নারীদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা ইত্যাদি। দশম পর্বে আলোচনা করা যায় রাসূলের অসুস্থতার বিবরণ; আয়েশা রা:-এর ঘরে রাসূলের ইন্তেকাল; তার নামাজে জানাজা, আয়েশা রা:-এর ঘরেই তাকে কবর দেয়া; তার মৃত্যুর পর সবার সম্মতিতে আবু বকর রা:-এর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ, রাসূল সা:-এর গুণাবলি এবং তিনি কোনো সম্পদ রেখে যাননি এসব বিষয়।
এসব আলোচনা দশ পর্বেও হতে পারে; কম-বেশিও হতে পারে। আশা করি, যারা এ লেখা পড়বেন তারা সবাই এর পক্ষে জনমত সৃষ্টি করবেন।
লেখক: সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ