ঢাকা, রোববার 23 July 2017, ৮ শ্রাবণ ১৪২8, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সোনার মোরগ

নাগর হান্নান : এক গ্রামের এক অলস লোক ছিল। সে ছিল খুব লোভিও বটে। তার মাথায় সব সময় কাজ করত, কিভাবে খুব তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়া যায়। সে শুয়ে শুয়ে ভাবত- জীবনে যদি কখনো পরিশ্রম করা না লাগত। জীবনটা কতই না মধুর হত। একদিন সে রাত্রিতে একা একা হাঁটছে। দুইজন স্বর্গের দূত তার পথ রোধ করে দাঁড়াল। তাকে বলল- আমরা তোমার মনের বাসনা পূরণ করতে পারি। আমরা তোমাকে এমন কিছুর সন্ধান দিতে পারি। যা দিয়ে তুমি সারা জীবন বসে বসে খেতে পারবে। তোমাকে কোন পরিশ্রম বা সাধনা করতে হবে না। লোকটি তার দু’টি চোখ জ্বলমল করে জানতে চাইল। সেই জিনিসটা কি? স্বর্গের দূতেরা বললেন তুমি আগামীকাল দক্ষিণের বনে যাবে। সেখানে গিয়ে দু’টি বনমোরগ দেখতে পাবে। তুমি সেই বনমোরগগুলোকে ধরে নিয়ে আসবে। তোমার হাতের ছোঁয়া পেলেই বন মোরগের সারা শরীর স্বর্ণে রূপান্তরিত হবে। বনমোরগের চোখগুলো হবে হীরার মার্বেল। তবে সেই বনটি খুবই নির্জন এবং গভীর ও প্রসস্থ। তোমার পক্ষে বনটির এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দৌড়ে আসতে সময় লাগবে কমপক্ষে তিন রাত তিন দিন। এ কথা বলেই দুজন অদৃশ্য হয়ে গেল।
লোকটি দেবদূতে কথা মতো বনের ভেতর ঢুকল। ঢুকেই দেখতে পেল দু’টি বনমোরগ এদিক ওদিক কক, কক করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। লোকটি তার লোভাতুর দৃষ্টি মেলে এক নজর দেখে নিল। দেখেই মোরগের পিছু নিল। বনমোরগকে ধরার জন্য দৌড়াতে শুরু করে। বন মোরগ কক কুর কুক, কক কুর কুক করে ছুটছে তো ছুটছেই। লোকটিও পিছু ছাড়ছে না। এক পর্যায়ে ছুটতে ছুটতে ছুটতে গহীন বনের ভেতর ডুকে পড়ল। খুব খিদে পেয়েছে। লোকটি ভাবল এইত আর একটু আর একটু। কখনো প্রায় বনমোরগকে ধরেই ফেলল। কিন্তু না একটুর জন্য ফসকে গেল। এভাবে দিন গনিয়ে রাত্র হল। এখন বনমোরগের সাথে সাথে সে নিজেও ভীষণ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তবুও ধীরে- সুস্থে বন মোরগকে ধাওয়া করছে। এক পর্যায়ে ক্লান্ত অবসন্ন দেহ নিয়ে বনমোরগ দুটোকে ধরেই ফেলল। অবশেষে বনমোরগটির প্রায় দেড় দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। সোনার মোরগ দুটিকে গলায় ঝুলিয়ে আনন্দে নেচে উঠল। এবার বাড়িতে পৌঁছতে পারলেই হল। সারা জীবন আরাম আয়েশে বসে শুয়ে কাটিয়ে দিতে পারব। কিন্তু মুহুর্তেই পেটে ভীষণ ক্ষুধা অনুভব করল। না আর যেন কিছুতেই সহ্য হচ্ছে না। খাবারের সন্ধানে পানির সন্ধানে সোনার বন মোরগ গলায় ঝুলিয়ে দিক বিদ্বিক ছুটছে। না কোথাও খাবার ও পানির সন্ধান পাওয়া গেল না। এবার যে দিক দিয়ে বনে ঢুকে ছিল, সেই দিক দিয়ে বাহির হতে রওয়ানা দিল। হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে পা দু’টি যেন অবশ হয়ে আসল। তারপর মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে যেতে লাগল। এক পর্যায়ে তাও আর সম্ভব হচ্ছে না। পানি পানি বলে চিৎকার শুরু করে দিল। না তাও আর সম্ভব হচ্ছে না। গলার স্বর যেন নরম ও ক্ষীণ হয়ে আসছে। চোখ তুলে তাকাল সামনের দিকে দুটো লোক যেন কয়েক মাইল দূরে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে ধবধবে সাদা মার্কিন পোশাক। হাতে আগুনের লণ্ঠন। লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে ইচ্ছা হলো পানি পানি বলে ডাক দিতে। কিন্তু গলা থেকে যেন স্বর বেরুচ্ছে না এক ফোঁটা পানির অভাবে। প্রাণটা যেন এখন নাকের ডগায় এসে ঠেকছে। হাত দু’টো ফসকে সোনার মোরগ ছুটে পড়ে যায়। মোরগ দু’টো ছাড়া পেতেই জীবন্ত হয়ে কক- কক- কক করে তার নিস্তব্দ নিথর দেহের উপর দিয়ে হেটে যায় বনের ভেতর। ততক্ষণে দু’জন দেবদূত তার চোখের সামনে এসে দাড়ায়। তুমি কি সোনার মোরগ ধরতে পেরেছ? লোকটা ঠোঁট দু’টো হালকা নড়ে চড়ে বলতে চেষ্টা করে এক ফোঁটা পানি পানি পা-নি। বলতে না বলতেই তার প্রাণ পাখি যেন হাওয়ায় উড়ে গেল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ