ঢাকা, রোববার 23 July 2017, ৮ শ্রাবণ ১৪২8, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকার চাইলে ১৯৯১ সালের ফর্মুলায় নির্বাচন হতে পারে -----ব্যারিস্টার মওদুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনািপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সরকার চাইলে ১৯৯১ সালের ফর্মুলায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। তবে দেশে ৫ জানুয়ারি স্টাইলে আর কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। 

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমাদের সমস্যা এখন একটাই। যার সঙ্গে রোডম্যাপের কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা হলো মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। ১৯৯১ সালে যেভাবে হয়েছে সেভাবে একইভাবে নির্বাচন। বিভিন্ন পন্থা থাকতে পারে, ভিন্ন পথ থাকতে পারে। কিন্তু একই লক্ষ্য অর্জন করার জন্য একটা সমঝোতার মাধ্যমে যদি নির্বাচন করা যায় সেখানে সংবিধান কোনো মুখ্য অন্তরায় হবে বলে আমি মনে করি না।

নির্বাচন কমিশনের দেয়া রোডম্যাপকে একদলীয় শাসন কায়েমের রোডম্যাপ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই রোডম্যাপে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার কোনো দিক নির্দেশনা নেই। 

মওদুদ বলেন, সরকার আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে, তবে তাতে সফল হওয়ার কোনো রাস্তা খুঁজে পাবে না আওয়ামী লীগ।

জনগণ এবার তাদের ভোটের অধিকার আদায় করে ছাড়বে হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আলোচনায়-সমঝোতায় আসাই হবে আওয়ামী লীগের জন্য সঠিক পথ।

সংবিধানের দোহাই না দিয়ে একাদশ নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট এড়াতে ক্ষমতাসীনদের সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, বর্তমান সঙ্কটটি রাজনৈতিক। সংবিধানের কথা বলে সমঝোতার পথ এড়িয়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না। সংবিধানকে এখানে বড় করে দেখার কোনো উপায় নেই। সংবিধান তো মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। সুতরাং সংবিধানকে দোহাই দিয়ে এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভবপর হবে না।

সংবিধান সংশোধনের পর নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠনের সুযোগ নেই বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বলে আসার প্রতিক্রিয়ার জবাবে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন,  নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েও তারা একই দাবি করে আসছে, তবে তাতে গা নেই আওয়ামী লীগ নেতাদের।

সরকারকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে মওদুদ ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচনের নজির তুলে ধরে বলেন, সমঝোতার উপর ভিত্তি করেই আগামী নির্বাচন হতে পারে। ১৯৯১ সালে যেভাবে হয়েছিল। তখন রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর ভিত্তি করেই সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। সেটা করতে হয়েছিল কেন? রাজনৈতিক কারণে, সাংবিধানিক কারণে নয়। সংবিধানে এই ধরনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ বলেন, এতে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো রোডও নাই, ম্যাপও নাই। একটু খেয়াল করে দেখবেন, নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সকল রাজনৈতিক দলের সমান অধিকার দেয়া হবে- এই শব্দগুলো অনুপস্থিত। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে না।  বেগম জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার পালিয়ে যাওয়ার কোনো রেকর্ড নাই।

২০০৮ সালে তখনকার সেনা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে প্যারোলে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমাদের নেত্রীকে অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি আপস করেন নাই। পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস নেই বেগম খালেদা জিয়ার।

ঢালী আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,  গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) সভাপতিম-লীর সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক শাম্মী আখতার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ