ঢাকা, রোববার 23 July 2017, ৮ শ্রাবণ ১৪২8, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যশোর কারা ফটকের সামনে থেকে বিএনপি কর্মী রাজুকে তুলে এনে খুলনায় ক্রসফায়ার!

 

খুলনা অফিস : খুলনায় গুলীবিদ্ধ অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রাজু আহমেদ। সে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার গোলাম মোস্তফার ছেলে। রাজু বিএনপির কর্মী ছিল। গত বৃহস্পতিবার সে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর থেকে নিখোঁজ ছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। 

ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের পার্শ্ববর্তী কাঞ্চনপুর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গুলীর চিহ্ন রয়েছে। সন্ধ্যায় তার পরিচয় সনাক্ত হয়। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় মামলা হয়েছে। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজিব খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, এই স্থানেই গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে। 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিহতের ছবি দেখার পর চৌগাছার রাজু আহমেদের স্ত্রী মিসেস সেতু আহমেদ তাকে সনাক্ত করেন। নিহত রাজুর দু’টি কন্যা সন্তান রয়েছে। 

রাজু আহমেদের প্রতিবেশী অধ্যাপক আতিক জানান, রাজু বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। মহেশপুর উপজেলার একটি মোটর সাইকেল চুরির আলোচিত মামলায় কয়েক মাস আগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মামলায় জামিন হলে আবার নতুন নতুন মামলায় তাকে শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়। সর্বশেষ যশোর ঝিকরগাছা শার্শা থানার বিএনপির ৮০ জন নেতাকর্মীর নামে দেয়া নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত মঙ্গলবার সব মামলায় রাজু আহমেদের জামিন হয়। বৃহস্পতিবার রাজু আহমেদের স্ত্রী কারাগারে স্বামীকে আনতে গেলে জানতে পারেন-একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে।

যশোরের চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান জানান, রাজু আহমেদকে মহেশপুর থানার চুরি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তার পরিবারের সদস্যরা লাশের ছবি দেখে সনাক্ত করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে নিশ্চিত করে কিছু জানেন না বলে জানান। যশোর জেলারের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ডেপুটি জেলার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তা তাদের জানা নেই।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ মে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা চত্বর থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পান্তাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন মহেশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৮ মে চৌগাছা থানা পুলিশ রাজু আহমেদকে গ্রেফতার করে। ১৯ মে তাকে ঝিনাইদহের আদালতে প্রেরণ করা হয়। গত ১৯ জুলাই বুধবার সে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। আদালত থেকে বের হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ খুলনা-সাতক্ষীরা সীমান্তের ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত রাজুর ভগ্নিপতি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদরউদ্দীন রহমান বিল্টু তার লাশ নিয়ে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ