ঢাকা, রোববার 23 July 2017, ৮ শ্রাবণ ১৪২8, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কৃষি শিল্পের সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা হলে স্বল্প সুদে এসএমই ঋণ

 

স্টাফ রিপোর্টার : গ্রামাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে ৩৪টি ব্যাংক ও ২৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ভূমি ও দালান ছাড়া অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০  কোটি টাকা হলে এই ঋণ পাওয়া যাবে। যাদের কাছে এর চেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে- তারা এই সুবিধা পাবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মফস্বলভিক্তিক শিল্প স্থাপনে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম। বর্তমানে এই স্কিমের আওতায় ৩৪টি ব্যাংক ও ২৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ আছে। এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ (প্রচলিত ব্যাংক রেট + ৫%) সুদে অর্থায়নের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন করা হয়। তবে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এই সুদহার ৯ শতাংশ।

সূত্র জানায়, কৃষিভিক্তিক শিল্পে স্বল্পসুদে ঋণ পেতে হলে ভূমি ও দালান ছাড়া স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা হতে পারবে। অর্থাৎ মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি হলে এই সহায়তা পাওয়া যাবে না। স্বল্প সুদে ঋণ পেতে এই শিল্পের অবস্থান অবশ্যই বিভাগীয় সদর, নারায়ণগঞ্জ শহর, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে হতে হবে। এই স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন, মধ্যম মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ অর্থায়ন করা যাবে। চলতি মূলধন ঋণ ১ বছর মেয়াদী, মধ্যম মেয়াদী ঋণ সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণ ৫ বছর মেয়াদী হতে পারে। এই স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন পেতে শ্রেণিকৃত ঋণের হারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যা অন্যান্য স্কিমের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের কম হওয়া বাঞ্ছনীয়।

 যে সব ব্যাংক থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে তা হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, ইস্টার্ণ ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এবি ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্টান্ডার্ড ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, দ্য ফারমার্স ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক।

কৃষিভিত্তিক শিল্পে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আইআইডিএফসি লিমিটেড, প্রাইম ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, মাইডাস ফাইন্যান্সিং, ইউনাইটেড লিজিং পিপলস লিজিং, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, ইসলামিক ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, বে লীজিং, ফিডেলিটি এসেটস এন্ড সিকিউরিটিস, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফার্স্ট লিজ ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যশনাল লিজিং, জিএসপি ফিন্যান্স, মেরিয়ান ফাইন্যান্স, সিএপিএম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের ২৩৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিবদ্ধ তহবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ফান্ড থেকে ১৫০ কোটি টাকা নিয়ে ‘কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মফস্বলভিক্তিক শিল্প স্থাপনে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে এই তহবিল যাত্রা শুরু করে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই স্কিম থেকে ২ হাজার ৫৮৪টি কৃষিভিক্তিক শিল্পে ঘূর্ণায়মাণ পদ্ধতিতে সর্বমোট ১ হাজার ১২৩ কোটি ২৪লাখ টাকা পুনঃঅর্থায়ন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ