ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিপর্যয় মানবিকে

অনলাইন ডেস্ক: চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৫ জন। অন্যদিকে মানবিক, ইসলামী শিক্ষা ও সংগীত বিভাগে পাসের হার ৫৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছেন এক হাজার ৭২৬ জন।

অংশগ্রহণে বেশি, ফলাফলে পিছিয়ে

মানবিক বিভাগে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অন্য দুই বিভাগের চেয়ে বেশি। অথচ পাসের হার সবচেয়ে কম। নয় লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে চার লাখ ৮৭ হাজার ২২৯ পরীক্ষার্থী মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন দুই লাখ ৮৩ হাজার ২৯৩ জন। অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশও পাস করতে পারেননি।

এদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়েছেন দুই লাখ ১৪ হাজার ৩৫২ জন। ওই বিভাগে পাস করেছে এক লাখ ৭৮ হাজার ২২০ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে দুই লাখ হাজার ৩৫৭ জনের মধ্যে পাস করেছেন এক লাখ ৮৩ হাজার ৪২৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৯ দশমিক ৬৫ জন। ওই বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২৪২ জন।

মানবিক বিভাগের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় ঘটেছে কুমিল্লা বোর্ডে। মোট ৪২ হাজার ৩৯৩ জনের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৬ হাজার ২৭২ জন। পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

মানবিকে এগিয়ে মেয়েরা

মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিলেন ঢাকা বোর্ডে। ওই বোর্ডে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ছিল চট্টগ্রাম বিভাগে। সংখ্যাটা ৩১ হাজার ১৯৬ জন।

মানবিক বিভাগে ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছেন মেয়েরা। দুই লাখ ৭২ হাজার ৬৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৮১৪ জন ছাত্রী। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে পাসের হার ৬১ দশমিক ৩১। অন্যদিকে দুই লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৪৭৯ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক১৪ শতাংশ।  

‘আছে উদাসীনতা’

মানবিক শাখায় অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি, পড়ালেখায় মনোযোগ কম এবং শিক্ষকদের অবহেলাকে মানবিক বিভাগের ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বরিশালের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সচীন কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের উদাসীনতাও রয়েছে মানবিক বিভাগের ছাত্রদের প্রতি।’ মানবিক বিভাগের ফল বিপর্যয় উচ্চশিক্ষায় কোনো প্রভাব ফেলবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মূলত বিজ্ঞান ও ব্যবসায় বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও কলা অনুষদে ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা।’  

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘‌বাংলাদেশের শহরকেন্দ্রিক স্কুল-কলেজে মানবিক বিভাগ পড়ানো হয় না। এ ছাড়া গ্রাম ও শহরের গরিব শিক্ষার্থীরাই মানবিক বিভাগে পড়ে। ফলে এ বিপর্যয় হয়েছে বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কেউই আনন্দ সহকারে নিতে পারে না। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে ও মানবসম্পদ তৈরিতে সব বিভাগকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে বিভাগভিত্তিক পড়ালেখার বিরুদ্ধে আমি।’ এ ছাড়া প্রাথমিক ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ শিক্ষাবিদ।

এ ব্যাপারে গণসাক্ষরতা অভিযানের কোষাধ্যক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা উপদেষ্টা ম. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অসদুপায় অবলম্বন করে মফস্বলের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষকতার সুযোগ পান। ফলে তাঁদের পাঠদানের জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব থাকে। আর মানবিক বিভাগে মফস্বলের শিক্ষার্থী বেশি থাকায় তারা প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারে না। এ ছাড়া মুখস্থ বিদ্যার ও নোটমুখী পড়ালেখার কারণে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীরা লিখতে পারে না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ