ঢাকা, সোমবার 24 July 2017, ৯ শ্রাবণ ১৪২8, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জনগণ ভোটের সুযোগ পেলে ক্ষমতাসীন আ. লীগ সরকারকে নির্বাসিত করবে -ড. মোশাররফ

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে রেখে একাদশ নির্বাচন প্রহসন হবে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ ভোটের সুযোগ পেলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে নির্বাসিত করবে। কারণ শেখ হাসিনাকে এদেশের জনগণ বিশ্বাস করে না। এজন্য আমরা যারা বিরোধী দল তারাও আপনাকে বিশ্বাস করি না। এমনকি বিএনপিসহ বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক দলের আপনার ওপর আস্থা নাই। আওয়ামী লীগ সুযোগ পেলেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ড. মোশাররফ বলেন, সোজা কথা- আগামী সংসদ নির্বাচনের সময়ে আপনি যদি ক্ষমতায় থাকেন সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। সেটা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রহসন এবং গণতন্ত্রকে হত্যা করা হবে। 

প্রসঙ্গত, নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েও তারা একই দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সংবিধান সংশোধনের পর নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠনের সুযোগ নেই বলে আওয়ামী লীগ নেতা বলে আসছেন। সংবিধানের দোহাই দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খন্দকার মোশাররফ।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার এখন জনগণের দাবি, এই দাবি বড় কোনো দাবি নয়, এটা আমাদের অধিকার। আমরা একটা প্রস্তাব দেব- সরকার বলবে মানি না। তারা বলবে, আমাদের অধীনে নির্বাচন করতে হবে- আমরা বলব মানি না।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে সময় মতো আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেবেন। যে রূপরেখায় সকল দলের জন্য নির্বাচনী পরিবেশসহ থাকবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। সেই রূপরেখায় সকল দলের আস্থা থাকবে বলে বিশ্বাস করে বিএনপি।

এদেশের জনগণ সেজন্য উৎকন্ঠিত যে একাদশ নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আবার একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নানাবিধ ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাই, আমরা দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই, আমরা জনগণের ভোটের অধিকার তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, নির্বাচন কমিশন যতই সংস্কার করা হউক না কেন নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ না হলে নির্বাচন কমিশন কখনও স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না। তাদের পথনকশা কার্যকর হয় না। তাই স্পষ্ট করে বলছি- নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ফয়সালা ব্যতীত ইসি’র রোডম্যাপ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। একাদশ নির্বাচনের সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত ব্যক্ত করেন তিনি। 

সাবেক এই স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, এদেশে যেমন সংবিধানের বাইরে নির্বাচন হওয়ার উদাহরণ আছে। ১৯৯১ সালে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ সাহেব। আবার আমরা অতীতে দেখেছি, জনগণের প্রত্যাশা, জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী দিনেও সহায়ক সরকারের ব্যাপারে যদি প্রয়োজন হয়, জাতি চায়, সংবিধান পরিবর্তন করে, সংশোধন করে সেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা সংবিধানে সন্নিবেশিত করতে হবে।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের আজকে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, এটা করতে হবে। এটা না করলে জনগণ তাদের বাধ্য করবে। তাহলেই সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ব্যাপারে সমঝোতা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে এর ফয়সালা করা হবে বলেও জানান তিনি। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়ে ফয়সালা না হলে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ কোনো ভূমিকাই রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ।

সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ নির্যাতিত, নিপীড়িত। অর্থনীতি লুটেরাদের হাতে। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কাকে কখন তুলে নিয়ে গিয়ে গুম খুন করবে সেই চিন্তায় দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। গোটা দেশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিক্ষা ব্যবস্থা পদদলিত। পাসের হার বৃদ্ধি করতে গিয়ে সরকার শিক্ষার মানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে এই সরকার অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকার। জনগণের কাছে এই সরকারের কোনও জবাবদিহিতা নেই।

আওয়ামী লীগ দেশের মান সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বলেন, এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। 

দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি অপকর্মের জন্য ক্ষমা চান এরপর আমার আপনাকে মেনে নেওয়ার জন্য একটা পথ বের করি। আমাদের নেত্রীর কাছে গিয়ে বলি আপনি ক্ষমা চেয়েছেন। আগে খারাপ ছিলেন এখন ভাল হয়ে গেছেন। আপনি অপকর্ম করবেন আবার সেটা জাস্টিফাই করার জন্য সংবিধানের দোহাই দিবেন সেটা হবে না।

সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, মহানগর বিএনপি উত্তরের সহসভাপতি একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ