ঢাকা, সোমবার 24 July 2017, ৯ শ্রাবণ ১৪২8, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সেই ইউএনও’র মামলা প্রত্যাহার

 

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণপত্রে ছাপানোর অভিযোগ এনে আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।

গতকাল রোববার বেলা ১২টার দিকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হলে বিচারক অমিত কুমার দে আবেদনটি আমলে নিয়ে বাদীর জবানবন্দী শেষে মামলাটি খারিজ করে দেন। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আফজালুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু বলেন, ছবি বিকৃত হওয়ার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি। এখন বুঝতে পেরে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ছবিটি ৫ম শ্রেণীর শিক্ষীর্থী এঁকেছে তা জানতাম না। মামলা হওয়ার পর আদালতে মূল ছবি জমা দেয়ার পর বিষয়টি জেনেছি। ভুল বুঝতে পেরে মামলা প্রত্যাহার করেছি। 

মামলার বিবাদী ইউএনও গাজী তারিক সালমন আদালতে উপস্থিত না থাকলেও তার পক্ষে বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় কমিশনার জানান, মামলা প্রত্যাহারের জন্য আদালতে বাদী আবেদন করলে বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। তবে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শিরোনামে সেখানে এক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় আগৈলঝাড়ার এস এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

এই প্রতিযোগিতার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দুটি ছবির জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। আর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণপত্রে ছবি দুটি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে প্রথম স্থান পাওয়া জ্যোতি মন্ডলের ছবিটি আমন্ত্রণপত্রের কভারে এবং অদ্রিজা করের দ্বিতীয় ছবিটি ব্যবহার করা হয় আমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায়।

পেছনের পাতায় ছাপা হওয়া ছবিটির জন্যই ইউএনও গাজী তারিক সালমানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতের অভিযোগে মামলা করেন আওয়ামী লীগ নেতা সাজু। পরে এটা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। অতি উৎসাহী হয়ে মামলা করায় আওয়ামী লীগ থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়

বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিক সালমনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। 

মামলা প্রত্যাহারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মামলার বাদী বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি (আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত) ওবায়েদুল্লাহ সাজু। এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে বিচারক অমিত কুমার মামলাটি খারিজ করে দেন।

ওবায়েদুল্লাহ সাজু বলেন, ‘ছবিটি যে একটি শিশুর আঁকা সেটি আমার জানা ছিল না। তা ছাড়া প্রথমে বিকৃত মনে হলেও পরে মনে হয়েছে ছবিটি আসলে বিকৃত নয়। যে কারণে আমি মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

আদালতে উপস্থিত বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহসান হাবীব জানান, মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানির সময় ইউএনও তারিক সালমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এজলাস কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ইউএনওকে হাতকড়া পরিয়ে টেনেহিঁচড়ে আদালত থেকে হাজতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আদালত পুলিশের ছয় সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে এ নির্দেশ জারি করা হয়। 

গত ৭ জুন ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদুল্লাহ সাজু। মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্কিৃত করে ছাপা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি দেখে মর্মাহত হয়ে তিনি পাঁচ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা করেন।

ওই মামলায় বিবাদী ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে সমন দেওয়া হয়। এরপর গত ১৯ জুলাই বুধবার বেলা ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন ইউএনও। তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন জেলার মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. আলী হোসাইন। প্রায় তিন ঘণ্টা কোর্টহাজতে থাকার পর দুপুর ২টায় আবার তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন একই বিচারক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ