ঢাকা, সোমবার 24 July 2017, ৯ শ্রাবণ ১৪২8, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইমাম বুখারীর আহ্বান

দিল্লীর ঐতিহাসিক জামে মসজিদের শাহী ইমাম মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ বুখারী কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ইমাম কাশ্মীর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতি দিনের পর দিন খারাপ হতে চলেছে। এ জন্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। কাশ্মীরের শান্তি পরিবেশ সৃষ্টি করতে দেরি হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। সুতরাং ওই ইস্যুর সমাধানের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাশ্মীরকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যথাসাধ্য প্রয়াস চালানো উচিত। এছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোসহ পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনারও আহ্বান জানিয়েছেন ইমাম বুখারী। তিনি বলেন, পৃথিবীতে ভূস্বর্গ নামে পরিচিত কাশ্মীর শান্তি ও আনন্দময় জীবন যাপনের জন্য পরিচিত ছিল, কিন্তু আজ তা কান্নার উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ইমাম বুখারী। আসন্ন ঈদুল আযহায় মুসলমানদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহার সময় মহিষ অথবা ছাগল পরিবহনকারী লোকদের উপর যাতে কোন জুলুম না হয় তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। পশু রক্ষার নামে যদি তাদের মারধর করা হয় তাহলে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ঈদুল আযহার সময় পশু কুরবানি দেয়া ইসলাম ধর্মের ঐতিহ্য হওয়ায় এতে কোনভাবেই বাধা আসা উচিত নয়।
দিল্লীর ঐতিহাসিক জামে মসজিদের ইমাম যেসব বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। বিষয়গুলো শুধু ভারতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমাদের এই অঞ্চলের শান্তি ও প্রগতির জন্যও বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। আর ইমাম বুখারী এমন এক সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন যখন দেশটির বিভিন্ন অংশে গরুর গোশতকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এমনকি ইতোমধ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণে বেশকিছু মুসলিম নাগরিক নিহতও হয়েছেন। আমরা তো জানি যে, ভারতের নেতৃবৃন্দ ভারতকে একটি ধর্মনিপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রচার করে থাকে। ভারতের সংবিধানেও তেমন কথা লেখা আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মুসলমানদের ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবে গরু জবাইতে বাধা দেয়া হবে কেন? বিষয়টি কি অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক নয়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ