ঢাকা, সোমবার 24 July 2017, ৯ শ্রাবণ ১৪২8, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় ব্যাটারিচালিত পাখি ভ্যানে ভ্রাম্যমান গার্মেন্টস

এফএ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিভিন্ন পল্লীতে চলছে ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানে ভ্র্যাম্যমাণ গার্মেন্টসসহ কাপড়ের ব্যবসা। জেলার বিভিন্ন পল্লী গ্রামের যুবকেরা ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান নানারকম পসরা সাজিয়ে পল্লী অঞ্চলকে ঘিরে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলায় প্রায় ৩ শতাধিক বেকার যুবক এই ব্যবসায় নেমেছে বলে জানা গেছে।
জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের ইসলাম মন্ডলের ছেলে আশরাফুল (৩৫) জানান, বাজারে ব্যবসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। বাজারে একটা দোকান ঘর ভাড়া নিতে গেলে সর্বনি¤œ ১লাখ টাকা অগ্রীম দিতে হয়। তাছাড়াও বাজারে ব্যবসা করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আমি একটি পুরাতন পাখি ভ্যান কিনে তার উপরে ছাউনি দিয়ে সাজিয়ে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ হাট থেকে বিভিন্ন ধরনের ৫০হাজার টাকার গামেন্টর্স ও কাপড় কিনে এলাকার বিভিন্ন পল্লী এলাকায় গিয়ে বেচা কেনা করি। এতে গড়ে আমার ৫শত টাকা লাভ হয়। এত অল্পপুজি নিয়ে ৫ জনের সংসার চালিয়ে সাড়ে ৩ বছরের এই ভ্র্যাম্যমান ব্যবসা করে আমার বর্তমানে লক্ষাধিক টাকা পুঁজি বেড়েছে।
দামুড়হুদার নতুন বাস্তপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে জহুরুল ইসলাম জানান, আমি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পাখিভ্যান কিনে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ হাট থেকে গার্মেন্টস ও ছিট কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল কিনে সপ্তাহে ৬ দিন এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে বেচা বিক্রি করি, বেচা বিক্রি ভালোই হয়। এর মধ্যে বাকি বকেয় ও পড়ে। বিভিন্ন উৎসবের আগে বেচা বিক্রি খুবই ভালো হয় আবার উৎসব শেষে বেচা বিক্রি কমে যায়। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার পোড়াদহ হাট থেকে মালামাল কেনা হয়। গড়ে প্রায় প্রতিদিনই খরচ বাদে ৭/৮ শত টাকা লাভ হয়। জহুরুল ইসলাম আরো জানান, দামুড়হুদা এলাকায় ৭০/৮০ জন এইভাবে ব্যবসা করছেন।
দামুড়হুদার পুরাতন হাউলি গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলা মনিরুল ইসলাম (৩০) জানান, স্যালো ইঞ্চিন চালিত করিমন নিয়ে এলাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গ্রামের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে বেচা বিক্রি করে থাকি বেচা বিক্রি ভালোই হয় পল্লী এলাকায় মহিলা খরিদ্দার বেশি হয়। এছাড়াও জেলায় দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তি এই ব্যবসা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
আবার বাকি টাকা আদায় করতে হালখাতার নির্দিষ্ট দিনে গাড়ীতে রঙিন কাগজ লাগিয়ে মিষ্টি মিঠাই নিয়ে বাড়ী বাড়ী হাজির হতেও দেখা যায় এ সমস্ত ক্ষুদ্র ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ