ঢাকা, সোমবার 24 July 2017, ৯ শ্রাবণ ১৪২8, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগৈলঝাড়ায় পানি বৃদ্ধির আতঙ্কে নৌকা কেনার ধুম

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা: উত্তর অঞ্চলের বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাংলা চলতি মাসের শেষভাগে পানি বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। তাই পানি বৃদ্ধির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে আগৈলঝাড়াবাসীর মধ্যে। আর একারনেই আগাম বন্যার পানি মোকাবেলায় এতদাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলবাসীদের মধ্যে নৌকা কেনার ধুম পরেছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া ও আটঘর, কুড়িয়ানার নৌকা বিক্রির হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওইসব হাটে গত কয়েকদিন ধরে নৌকা বিক্রির ধুম পরেছে।
আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৪শতাধিক পরিবার নৌকা তৈরির পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। সূত্রমতে, এসব এলাকায় পেনিচ ও ঢালাই নামের দু’ধরনের নৌকা তৈরী করা হয়। পেনিচ নৌকা একহাজার টাকা এবং ঢালাই নৌকা ১ হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আগৈলঝাড়ার বারপাইকা গ্রামের প্রায় দু’শতাধিক পরিবার নৌকা তৈরির পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। ওই গ্রামের নৌকা তৈরির মিস্ত্রি প্রবীর মধু, সঞ্জয় বালা, সুরেন মিস্ত্রি জানান, প্রতিবছরের জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে নৌকা তৈরীর কাজ শুরু করে একটানা আশ্বিন মাস পর্যন্ত তিনি এ কাজ করেন। এর মধ্যে জারুল, রেইনট্রি, চাম্বল, কদম, রয়না, উরিয়া আম কাঠ দিয়ে ডিঙ্গি ও ছোট-বড় আকারের নৌকা তৈরি করেন।
তবে এবার আগাম বন্যার আশংকায় ইতোমধ্যে নৌকা বিক্রির ধুম পরেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন আমি এ পেশার সাথে জড়িত থাকলেও স্বল্প পুঁজির কারনে এবার চাহিদা থাকা সত্বেও বেশি নৌকা তৈরী করতে পারছিনা। কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ার কারনে ও আগাম বন্যা মোকাবেলায় ক্রেতারা নৌকা ক্রয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ার কারনে গত বছরের তুলনায় এবছর নৌকার দামও একটু চড়া। আগৈলঝাড়ার সাহেবেরহাটে নৌকা কিনতে আসা উজিরপুর উপজেলার জল্লা গ্রামের ধীরেন মজুমদার জানান, তাদের এলাকাটি নিন্মাঞ্চল হওয়ায় আগে ভাগেই বন্যা মোকাবেলার জন্য তিনি নৌকা ক্রয় করতে এসেছেন। একথা শুধু ধীরেন মজুমদারের একারই নয় একইভাবে ওই হাটে নৌকা ক্রয় করতে আসা অন্যান্য ক্রেতারাও একই কথা জানালেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ