ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নতুন কি পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হলো এইচএসসির খাতা?

অনলাইন ডেস্ক:বাংলাদেশে এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) সার্বিক পরীক্ষার ফলে পাসের হার উল্লেখযোগ্য কমে যাওয়া, ইংরেজি বিষয়ে ফেল করার পরিমাণ ব্যাপক বেড়ে যাওয়া, এমনকি এমসিকিউ অংশেও বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার পর আলোচনায় উঠে এসেছে পরীক্ষার নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি।

কিন্তু কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা? আগের বারের চেয়ে এর পার্থক্য কি? যারা এসব খাতা মূল্যায়ন করেছে তারাই বা কতটুকু দক্ষ? ইংরেজিতে বিপর্যয়ের কারণ কি?

এসব বিষয়ে বিবিসি বাংলা'র সাথে কথা বলেছেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল খালেক। এ বোর্ডের মোট পরীক্ষার্থীর অর্ধেকও এবারের পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেনি। এর মধ্যে প্রায় ৩৮শতাংশ শিক্ষার্থী শুধু ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে।

এবার কিভাবে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা একটা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যারা ঢাকায় বারবার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাদের বা তেমন শিক্ষক না পাওয়া গেলে জেলা র‍্যাংকিংয়ে যারা উপরে আছেন তাদের নিয়োগ দেন পরীক্ষক হিসেবে।

এদের মধ্য থেকে চার পাঁচজনকে নিয়োগ দেন একটি বিষয়ের উপর, যেমন ইংরেজির। এমন কয়েকজন বসে প্রশ্নপত্র নিয়ে একটা সলিউশন তৈরি করেন। এরপর এটার ভুল ভ্রান্তি সব যাচাই করে সঠিকটা প্রিন্ট করেন। এরপর বোর্ড কর্তৃপক্ষ থেকে ইংরেজির পরীক্ষকদের ডেকে আনা হয়।

আব্দুল খালেক বলেন, "ধরুন ৬০ বা ৩০ জন আসলো। তাদের প্রধান পরীক্ষক ব্রিফ করেন ও সলিউশন শীটটা দিয়ে দেন। মূল্যায়ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন এবং সেটা বুঝে নিয়ে তারা খাতা নিয়ে চলে যান। পরে মূল্যায়ন শেষে নাম্বার প্রধান পরীক্ষকের কাছে পৌঁছে দেন। প্রধান পরীক্ষক সেটি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করেন"।

গতবারের সাথে এবারের মূল্যায়ন পদ্ধতির পার্থক্য কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন বড় কোন পার্থক্য নেই,তবে কিছুটা পার্থক্য আছে।

"গত তিন বছর পরীক্ষা মূল্যায়নে যে কাজ চলছিলো সেটি তৃতীয় বছরে এসে এখন একটি পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, মূল্যায়ন যাতে গুণগত মানের হয়"।

কিন্তু যারা মূল্যায়ন করছেন তারা কতটুকু দক্ষতার সাথে সেটি করতে পারছেন - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রধান পরীক্ষক করা হয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের।

"চাকুরীর বয়স, পদ ও একাডেমিক যোগ্যতাকে বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়রটির ভিত্তিতে শিক্ষকদের একটি র‍্যাংকিং করা হয়। এরপর তাদের মধ্য থেকে পরীক্ষক নিয়োগ করা হয়। এদের মধ্য থেকেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ করা হয়। তার নির্দেশনা মতো প্রশিক্ষণ দিয়ে উত্তরপত্র পরীক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য দেয়া হয়।

এবার পাসের হার কমে যাওয়া বিশেষ করে কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজিতে এতো ব্যাপক অকৃতকার্য হওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন প্রশ্ন কঠিন হয়নি আর নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষকরা যথাযথভাবে খাতা দেখেছে এতে রেজাল্ট আসার এসেছে।

"আসলে নকল মুক্ত পরিবেশে এবার পরীক্ষা হয়েছে আবার ইংরেজি শিক্ষকের স্বল্পতাও আছে। এইচএসসিতে অনেক ভর্তি হয় কিন্তু সে অনুপাতে শিক্ষকও নেই"।-বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ