ঢাকা, মঙ্গলবার 25 July 2017, ১০ শ্রাবণ ১৪২8, ৩০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয়

-আলাউদ্দিন ইমামী
ইসলামে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদসহ দেশ ও মানবতা বিরোধী সকল কাজই হারাম। ইসলাম এসেছে সকল শ্রেণীর সব মানুষের শান্তি ও মুক্তির জন্য। অশান্তি সৃষ্টিকারী মুসলিম অমুসলিম যেই হোক তাকে দমন করাই ইসলামের নির্দেশ। আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, যে অন্যায় দেখে সে যেন তা হাতে দমন করে। যেহেতু সকল শ্রেণীর সব মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা মুসলমানের দায়িত্ব, সেহেতু আল্লাহ তাদেরকে সর্বোত্তম জাতি বলে ঘোষণা করেছেন। আর বলেছেন তারা হল আল্লাহর বাহিনী। মানবতার স্বার্থে, সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রে অন্যায় বন্ধ করে ন্যায় চালু করা মুসলমানের কাজ। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং মানবতা বিরোধী সকল কাজ বন্ধ ও নির্মূল করাই ইসলামের উদ্দেশ্য। এই জন্যই ইসলাম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আল্লাহ বলেন, তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের উপকার করার জন্য। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দিবে। অন্যায় কাজে বাধা দিবে। আল-কোরআন। এই কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা চরম অপরাধ। আল্লাহর নবী (সঃ) বলেন, মানুষের মধ্যে সেই ভাল যে মানুষের উপকার করে। আল হাদীস। মানুষের কল্যাণ আর উপকারের জন্য আল্লাহ যে মুসলমান জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, তারা কী ভাবে জঙ্গি আর সন্ত্রাসী হয়? আসলে ইসলামের শত্রুরাই সন্ত্রাসী আর জঙ্গিবাদী সৃষ্টি করে এবং অজ্ঞ মুসলমানদেরকে জঙ্গি হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়ে মুসলমান ও মুসলমান দেশের ক্ষতি করতে চায়।
জঙ্গিবাদের গডফাদার কে?
মানুষের মধ্যে মুমীন মুসলমানদের জঘন্য দুশমন হলো ইহুদীরা। এরা প্রিয় নবীর যমানা হতে ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতি সাধনে ব্যস্ত। হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত মাবিয়ার (রাঃ) সংঘাতে এদের হাত। হযরত হোছাইন ও এজিদের যুদ্ধও এদের চক্রান্তের ফসল। তাহাজ্জুদ গুজার দরবেশ বেশে প্রিয় নবীর লাশ চুরির চক্রান্ত এরাই করেছিল। কিছুদিন আগে আমেরিকার টুইন টাওয়ার এ হামলা, লাদেন ইস্যু, আফগানিস্তানে আমেরিকার হামলা সবই ইহুদিদের পরিকল্পনার অংশ। এই জন্যই আল্লাহ মানুষের মধ্যে ইহুদিদেরকে মুসলমানদের চরম দুশমন ঘোষণা করে বলেন, অবশ্যই তোমরা মানুষের মধ্যে ঈমানদারদের জন্য চরম দুশমন পাবে ইহুদিদেরকে, এরপর তারা যারা শিরিককারী (মূর্তি পুজারী)। আল কোরআন। ছুরায়ে মায়েদা আয়াত নং-৮২।
এ আয়াত থেকে বুঝা যায় বাংলাদেশে খুন, ঘুম, অপহরণ ও জঙ্গিবাদী কাজ যা হচ্ছে এর পেছনেও ইহুদী মুশরেক যারা ইসলাম ও মুসলমানের দুশমন, তাদের হাত। বাস্তবতাও তাই।
কিছুদিন আগে তথ্যমন্ত্রির উপস্থিতিতে ঢাকার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন বাংলদেশে যা হচ্ছে এর পিছনে ইহুদীদের হাত। এর কিছু দিন পর বাইতুল মোকাদ্দাছের ইমাম বাংলাদেশে এসেছিলেন, তিনিও ইহুদীদেরকে দায়ী করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ড: জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেব বলেছেন, জঙ্গিবাদী কাজগুলো ‘র’ করাইতেছে। কিছুদিন আগে বিএনপির নেতা ব্রিগেডিয়ার মরহুম হান্নান শাহ বাংলাদেশে ‘র’ এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। যাদেরকে আল্লাহ মুসলমানদের ১নং ও ২নং শত্রুর স্থান দিয়েছেন, যাদের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, তারা তোমাদের ক্ষতি সাধনে ত্রুটি করে না। তোমরা কষ্টে থাক তাতেই তাদের আনন্দ। এরা তোমাদের বিরুদ্ধে তাদের মুখ (মিডিয়া) ও হাত (শক্তি) ব্যবহার করবে। আল কোরআন। এরাই জঙ্গিবাদীদের গডফাদার।
জঙ্গিবাদীরা কি চায়?
জঙ্গিরা চায়, দেশকে পঙ্গু এবং ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করতে। জঙ্গি এবং তাদের গডফাদেরেরা মুসলমানদের জেহাদী প্রেরণা ধ¦ংস করতে চায়, মুসলমান অমুসলমানের ঈমানী পার্থক্যের দেওয়াল ভেঙ্গে দিয়ে মুসলিম তরুণও যুবকদেরকে বেঈমানীর দিকে নিতে চায় এবং সাধারণ শিক্ষিত ও সাধারণ মুসলমানকে আলেম ওলামাদের ব্যাপারে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা ইসলামের পোশাক পরে, ইসলামের নাম নিয়ে এ হামলা চালিয়ে সরকারের সাথে ইসলামপন্থীদের সংঘাত সৃষ্টি করে দিতে চায় এতে সরকারকে ব্যবহার করে ইসলামপন্থীদের ক্ষতি করা যাবে। সরকারের ক্ষতি হলেও তাদের লাভ। ইসলাম, মুসলমান, আলেম ওলামা ও মসজিদ মাদরাসার ক্ষতি হলেও এদের লাভ। জঙ্গিবাদী হামলা চালিয়ে বাংলদেশে ইসলাম কায়েমের আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। জঙ্গিরা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা করে, এ দেশ জঙ্গিবাদী হয়ে গেছে এবং এদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নেই এমন ভাব সৃষ্টি করে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর নাম করে বিদেশী এবং ভারতীয় বাহিনী ঢুকাতে চায়। তাই দেশ ও ইসলামের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে অথবা সরকারের বিরোধিতার নাম করে আমরা যেন দেশ ও ইসলামের ক্ষতি না করি। ইহুদী, মুশরেক ও নাস্তিকদের সাহায্যকারী যেন না হই। যদি হই, দেশ, ধর্ম ও জাতির সর্বনাশের সব পরিণতি আমাদেরকে এবং আমাদের বংশধরকে ভোগ করতে হবে। ফলে বংশধরেরা আমাদেরকে দুনিয়ায় ও লানত দিবে আখেরাতেও লানত দিবে।
জঙ্গিবাদ সৃষ্টির কারণ ও করণীয়: জঙ্গি নির্মূল করতে হলে জঙ্গি সৃষ্টির কারণ নির্ণয় করতে হবে। কারণ নির্ণয় ছাড়া জঙ্গি নির্মূল সম্ভব নয়। কারণ গুলোর উপর ভর করেই গড ফাদারেরা জঙ্গি তৈয়ার ও হাত করে। জঙ্গি সৃষ্টির কারণগুলো নিম্নরূপ।
ইসলামের শত্রুদের পরিকল্পনা : ইসলামের শত্রুরা প্রিয় নবীর জামানা থেকে নানা রকম মারাত্মক চক্রান্ত করেছে। বর্তমানেও তাদের এ চক্রান্ত জারি আছে। ইসলাম বিনাশী জঙ্গিবাদ সৃষ্টি তার একটি অংশ। তারা বিভ্রান্ত, ধর্মানুরাগী, আবেগ প্রবণ, অত্যাচারিত, অভাবী ও হতাশ তরুণ এবং যুবকদেরকে হাত করে, তাদেরকে জঙ্গি বানায়।
এ ব্যাপারে করণীয় হল : ইসলামের শত্রুদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত চক্রান্ত সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা। ইসলাম ও মুসলমানের শত্রু কারা তা কোরআন ও হাদীছ থেকে জনগণের সামনে তুলে ধরে, তারা এ ধরনের শয়তানী কেন করে তাও জনগণকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি : ইসলামের সঠিক জ্ঞান এবং ইসলামী শাসন চালু না থাকায়, যুবকদেরকে জঙ্গিরা ইসলামের নাম দিয়ে সহজে জঙ্গি বানাতে পারে।
এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও জ্ঞান দান করার উদ্যোগ নিতে হবে। ইসলামী অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে হবে। তরুণ, যুবকদেরকে ঈমান, ইসলাম, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবতা শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সকল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন সুন্নাহর শিক্ষা চালু করতে হবে। এ ব্যাপারে ইমাম, খতীব ও ওয়ায়েজদের দায়িত্ব হল ওয়াজে, বয়ানে, খুতবায় জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সবাইকে সাবধান করা। সরকারের দায়িত্ব হল দেশে সঠিক ইসলামী শিক্ষা সর্বস্তরে চালু করা।
জিদ, ক্ষোভ ও হতাশা : সামাজিক ঘাত-প্রতিঘাত, জুলুম, অত্যাচার, অবিচার, বিলম্ব বিচার ও অভাব অনটনের কারণে, প্রলোভনে পরে, অর্থের লোভে তরুণ যুবকেরা অনেক সময় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হয়ে যায়।
যে সব কারণে তরুণ, যুবক ও মানুষের মধ্যে জিদ, ক্ষোভ, প্রতিশোধ স্পৃহা সৃষ্টি হয়, তার নিরসন করতে হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের মোটিভেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং দেশ থেকে ইসলাম বিরোধী কাজ নির্মূল করা।
দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক গুণের অভাব : দেশপ্রেম ও নৈতিকতা বর্জিত মানবতাবোধহীন মানুষগুলো জংলি স্বভাবের হয়। তারা স্বার্থের জন্য জঙ্গি হতে দেরি হয় না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যার ভুরি ভুরি প্রমাণ মিলতেছে। এ ব্যাপারে তরুণ, যুবক ও দেশবাসীকে ছোট কাল থেকে দেশপ্রেমিক, নৈতিকগুণ সম্পন্ন এবং মানবতাবাদী করে গড়ে তুলতে হবে। ইসলামী, ঈমানী ও মানবিক শিক্ষাই শুধু উক্ত গুণ সম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে পারে। প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষা এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক এবং আলেম সমাজ অনেক গ্রুপে বিভক্ত হওয়ার পরও কোরআন হাদিছের ইসলামী শিক্ষার কারণে সেখানে কোন রকমের সংঘাত, অশান্তি নেই। অথচ সাধারণ শিক্ষার উচ্চ প্রতিষ্ঠানে ইসলামী শিক্ষার অভাবে যা খুনাখুনী অনাচার অশান্তি
জঙ্গিবাদ নির্মূলের বিশেষ কর্মসূচী
ক. যারা তরুণ ও যুবকদেরকে বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দেয়, আর যারা জঙ্গিবাদের বিরোধিতা করতে গিয়ে ইসলাম ও ইসলামী জেহাদের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক করার জন্য রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও মিডিয়াকর্মীদের নিয়ে জাতীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত কমিটি গঠন করে, জাতিকে জঙ্গিবাদী মহল ও ইসলামের শত্রুদের ইসলাম বিরোধী প্রচারণার হাত থেকে রক্ষা করা। আল্লাহ বলেন, তোমরা সবাই মিলে শত্রুদের মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ কর। তোমাদের ক্ষতি হলেই তাদের কাছে ভাল লাগে। আল-কোরআন। যুবকদেরকে ইসলাম ও নামাযমুখী করার উদ্যোগ নিতে হবে। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় নামাজ অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে। আল-কোরআন। জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে যারা চায় তাদের দায়িত্ব¡ হল সমাজ ও প্রতিষ্ঠানে ইসলামী শিক্ষা ও নামাজ চালু করা।
খ. প্রশাসনের উদ্যোগে সকল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলকে গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়ে তাদেরকে আস্থায় এনে সম্মিলিতভাবে জঙ্গি প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি কমিটি গঠন করা এবং এলাকায় এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ কেন্দ্রিক সন্ত্রাস ও জঙ্গি প্রতিরোধ তৎপরতা জোরদার করা।
আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে এমন দল থাকতে হবে, যারা ভাল কাজের দিকে ডাকবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজে বাধা দিবে। আল-কোরআন।
গ. ইসলামের শত্রুদের দ্বারা প্রভাবিত পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়ার তথ্য প্রমাণহীন, ইসলাম, আলেম ওলামা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠান বিরোধী বানোয়াট প্রতিবেদনের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং জনগণকে সতর্ক রাখা। তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত না হওয়া। এরা মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে সরকার এবং ইসলামী মহলের মধ্যে সংঘাত বাধিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ বলেন, যদি কোন ফাসিক ব্যক্তি তোমাদেরকে কোন খবর দেয়, তখন তা তদন্ত ও পর্যালোচনা করে দেখিও। আল-কোরআন। ইহুদী ও নাস্তিকদের এজেন্ডা অনুযায়ী তারা সকল ইসলামী কাজকে জঙ্গি রং লাগিয়ে সমাজ, প্রশাসন ও সরকারকে বিভ্রান্ত করে ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতি করতে চায়। অপর দিকে সরকার ইসলামের ক্ষতি করতেছে বলে প্রচারণা চালিয়ে জঙ্গি সংগ্রহের অভিযান চালায়। তাই সরকারের ভিতরে থেকে কোন নাস্তিক যেন ইসলাম বিরোধী কোন কাজ করতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘ. ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারা কেন জঙ্গিবাদী কাজ করছে তা তথ্য প্রমাণ সহ স্বচ্ছতার সাথে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে এবং জঙ্গিদের নিরপেক্ষ ও যথাযথ বিচার করতে হবে। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদেরকে ন্যায়বিচারের আদেশ দিয়েছেন। আল-কোরআন।
ঙ. জঙ্গিবাদকে ইসলামের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে না দেয়া। ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, জেহাদ, জঙ্গিবাদ, রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একাকার করে ফেলা থেকে বিরত থাকা। জঙ্গিবাদকে রাজনীতিকরণ করলে জঙ্গিবাদ নির্মূলকারী মহল বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত হবে। জঙ্গিবাদ আসকারা পাবে। আল্লাহ বলেন, অন্যদের শত্রুতায় যেন তোমরা সীমা লংঘন না কর। আল- কোরআন। জঙ্গিবাদকে রাজনীতির হাতিয়ার বানালে জঙ্গিবাদ বৃদ্ধি পাবে।
চ. জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী ধরা পরলে তাদেরকে ক্রস ফায়ারে হত্যা না করে তাদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জঙ্গি ও জঙ্গিদের গডফাদার কারা তাদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা। কোন জঙ্গি ধরা পরার সাথে সাথে তারা অমুক দলের লোক অথবা তাদের সাথে ওদের সম্পর্ক আছে এই ধরনের অগ্রিম উক্তি করা থেকে বিরত থাকা। অন্যথায় জঙ্গিবাদীদের গডফাদার আড়ালে থেকে যাবে। এ ব্যাপারে মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করা। আল্লাহ বলেন, মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত। আল-কোরআন। আল্লাহ আরো বলেন, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়নীতির ভিত্তিতে সত্যের সাক্ষীদাতা হও। আল কোরআন।
ছ. দেশে যেন ইসলাম বিরোধী কোন কাজ এবং মানবতা বিরোধী কোন জুলুম অত্যাচার ও নির্যাতন হতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। সবার জন্য স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
মাননীয় স্বরাষ্ট মন্ত্রী মহোদয় কে ধন্যবাদ।
কয়েক দিন আগে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, জঙ্গিরা বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট বানাতে চেয়েছিল এবং তারা ইসলামের ক্ষতি করার জন্যই এসব করতেছে। আসলে দেশ ও ধর্মের শত্রুরাই যে এই জঙ্গিবাদ লালন করছে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ইহা বুঝতে পারায় ওনাকে ধন্যবাদ। আসা করি এখন জঙ্গিদের এবং তাদের গডফাদারদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা সহজ হবে।
শেষ কথা: বেশ কয়েক বছর হতে জঙ্গিবাদী তৎপরতা চলছে। শেখ আব্দুর রহমান বাংলা ভাইকে মারা হল, নারী আর শিশু মারা গেল, জঙ্গিবাদ কিন্তু নির্মূল হল না, বরং আরো বৃদ্ধি পেল। জঙ্গিবাদী কারা, এদের পডফাদার কারা এত বছরেও তা চিহ্নিত করা গেল না। শুধু এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করেই যাচ্ছে। এই অবস্থায় সকল ধরনের সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মতৎপরতা বন্ধ করতে চাইলে, সকল রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ধর্মীয় মহলকে ঈমানদারী ও দেশ প্রেমের ভিত্তিতে জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। এই ব্যাপারে ইমাম, খতীব ও ওয়ায়েজদেরকে আরো বেশী সক্রিয় হয়ে ওয়াজে বয়ানে জঙ্গিবাদ বিরোধী আলোচনা বাড়াতে হবে। সাথে সাথে যে সব নাস্তিক, মিডিয়া, মুশরিক, ইহুদী ও ইসলাম বিরোধী মহল জঙ্গিবাদ সৃষ্টি ও লালন করে ইসলাম, জিহাদ, ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও আলেম ওলামাদের ক্ষতি করতে চায় এবং জিহাদ ও ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের ব্যাপারেও জনগণকে সতর্ক ও সচেতন করতে হবে।
লেখক : খতীব, বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ