ঢাকা, মঙ্গলবার 25 July 2017, ১০ শ্রাবণ ১৪২8, ৩০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাগর উত্তাল ইলিশ ধরা ৫ সহস্রাধিক জেলে আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে

খুলনা অফিস : মওসুমী বায়ুর প্রভাবে গত বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। যা কি-না আরো দু’দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে। এ কারণে মংলায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। ভারি বর্ষণে পঞ্চম দিনের মতো সোমবার সকাল থেকে বন্দরের পশুর চ্যানেল, হাড়বাড়িয়া এবং বর্হিনোঙ্গরে অবস্থান করা জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। জাহাজের পণ্য পরিবহন কার্যক্রমও মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে খাদ্যবাহী কার্গো জাহাজের কাজ। এ তথ্য জানিয়েছে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে সাগর উত্তল থাকায় ইলিশ ধরা ৫ সহ¯্রাধিক জেলে আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে। পাশাপাশি একটানা ভারি বর্ষণে মংলা বন্দর শহরের কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, বর্তমানে বন্দরের পশুর চ্যানেল, হাড়বাড়িয়া এবং বর্হিনোঙ্গরে দেশি-বিদেশি ৪টি জাহাজ অবস্থান করছে। তার মধ্যে ৩টি বিদেশি এবং একটি দেশি জাহাজ রয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে ১টি মেশিনারিজ, ১টি ইউরিয়া সার, ১টি ক্লিংকার ও ১টিতে কন্টেইনার রয়েছে।
এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীগুলো উত্তাল রয়েছে। ফলে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসের জন্য ব্যবহৃত লাইটারেজ জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। তারা বিদেশী এ বাণিজ্যিক জাহাজের গায়ে ভিড়তে পারছেনা।
মংলা ইস্টিভিডরস প্রতিষ্ঠান মেসার্স খালিদ ব্রাদার্স কোম্পানির ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানায়, সৃষ্ট মওসুমী বায়ুর চাপ আর ভারি বর্ষণের কারণে গত ৫ দিন জাহাজে পণ্য খালাসের জন্য শ্রমিক বুকিং দিতে পারছে না কোম্পানি। ফলে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এ জাহাজের খালাস-বোঝাইয়ের কাজ।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন এবং জেলে ও মৎস্যজীবীরা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ফলে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। প্রচন্ড ঢেউয়ের কারণে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলো সাগরপাড়ে টিকতে পারছে না। র্দীর্ঘ ৫ দিন বেকার বসে থাকার পর দ্রুত ফিরে আসতে শুরু করেছে জেলেরা। ইলিশ ধরতে যাওয়া ৫ থেকে ৬ সহ¯্রাধিক জেলে ও তাদের ফিশিং ট্রলারগুলো গভীর সাগরে অবস্থান করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বড় বড় ফিশিং বোটগুলো সুন্দরবনের কচিখালী, মেহের আলী, সুপতি, দুবলাচর, নারকেলবাড়িয়াসহ বনের ছোট ছোট বিভিন্ন নদী ও খালে আশ্রয় নিয়েছে।
অপরদিকে একটানা ভারি বর্ষণে মংলা বন্দর শহরের কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামে ও শহরের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট, পুকুর ও চিংড়ি ঘের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কোন কোন এলাকায় বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। টানা বৃষ্টিতে মংলা শহরের সিঙ্গাপুর মার্কেট সংলগ্ন বিএলএস পুকুর, মাদরাসা রোড এলাকার, কুমারখালী সড়ক, মিয়া পাড়া, কবরস্থান রোড বড় পুকুর, শেলাবুনিয়া, কুমারখালী, জয়বাংলাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকার পুকুর ও নিম্নাঞ্চলের চিংড়ি ঘের বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির কারনে তলিয়ে যাওয়ায় বেরিয়ে গেছে ওই সব ঘের ও পুকুরের মাছ। জলাবদ্ধতার কারণে ছোট ছোট শিশুদের দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।
পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, বসত ঘর-বাড়ি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। এছাড়া পৌর শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহমান সরকারি রেকর্ডিয় ঠাকুরানী খালের দু’পাশের বাসিন্দারা অবৈধভাবে দখল করে রাখায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি নামতেও পারছে না। খাল দখল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পৌর শহরের পূর্ব কবরস্থান রোড, মিয়াপাড়া, কুমারখালী, মাছমারা, জয়বাংলা, সিগনাল টাওয়ার, মুন্সীপাড়াসহ অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল গত সপ্তাহখানেক ধরে বৃষ্টির পানি জমে তলিয়ে রয়েছে। পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত ও সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব কবরস্থান রোড এলাকা। এ এলাকার পূর্ব কবরস্থান রোডটি বিগত অন্তত ২০ বছরেরও পুরানো। ইটের এই রাস্তাটি তৈরির পর কোনদিন মেরামতও করা হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইউনুস আলী বলেন, ড্রেনসহ পূর্ব কবরস্থান রোডটি নতুন করে করার জন্য ইতোমধ্যে পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলীর সাথে আলাপ হয়েছে। তিনি আগামী প্রজেক্টের মাধ্যমে এ রাস্তাটি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমার ৭নং ওয়ার্ডসহ পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেন, পাইপ ও খালের মাধ্যমে যাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলরদের ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন কারণ কেউই কারো বাড়ির ওপর দিয়ে অন্য বাড়ির পানি নামাতে দিতে চান না। মূলত এ কারণেই পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ