ঢাকা, মঙ্গলবার 25 July 2017, ১০ শ্রাবণ ১৪২8, ৩০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিরোধীদের সভা-সমাবেশ করার অধিকার ‘বাকশালী খাঁচায়’ বন্দী

স্টাফ রিপোর্টার: সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকারকে সরকার ‘বাকশালী খাঁচায়’ বন্দী করে  রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার বিকেলে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, সংবিধানে সকল দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে, সাংবিধানিক সেই বিধান আপনারা (সরকার) মানছেন না। সেই সাংবিধানিক অধিকার আপনারা বাকশালী খাঁচায় বন্দী করে রেখেছেন। অর্থাৎ নিজেদের মতো করে সংবিধানকে দুমড়ে মুচড়ে হাতের মুঠোয় রেখে যখন যতটুকু ব্যবহার করা দরকার ততটুকুই করছেন, ততটুক সংবিধান বিদ্যমান আছে। এই পথ থেকে সরকারকে সরে আসার আহবান জানিয়ে রিজভী বলেন, এখনো বলছি, জনগনের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। অন্যথায় নিজেদের অপকর্মের জন্য পালানোর পথ পাবেন না।
ক্ষমতাসীন দলের ‘একতরফা’ প্রচারণার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের অসমতল মাঠ সমতল করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই কাজটি নির্বাচনের পক্ষে তিন মাসে করতে পারা কখনোই সম্ভব নয়, এটি এখন থেকে শুরু হওয়ার কথা। অথচ সিইসি বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর সেটি দেখবেন। আমরা বলতে চাই, ইউপি নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন- এই নির্বাচনগুলো কী সুষ্ঠু করা তার দায়িত্ব নয়। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করা, যথাযথ দায়িত্ব পালন করা, ভোটাদেরকে ভোট কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে আসতে দেয়ার দায়িত্ব কী নির্বাচন কমিশনের নয়? তিনি (সিইসি) সেটি করবেন না। এটা তার মনের ইচ্ছা। কারণ তাকে যারা বসিয়েছে মনের স্বাদ মেটানোর জন্য, তাদের স্বাদ মেটাতেই তো তিনি ব্যস্ত থাকবেন। বর্তমান সিইসির এই ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, শুধু দেশবাসীই নয়, বিশ্ববাসী বিশ্বাস করে যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। কিন্তু আপনি (সিইসি) সেটিরই সাফাই গাইছেন। সিইসি হিসেবে আপনার ভূমিকা সর্বমহলে সমালোচিত হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তি কখনোই এমন দল অনুগত কাজ করতে পারে না। আপনি পূর্ব থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিকট আত্মা বিক্রি করে দিয়েছেন। আপনি ভোটার বিহীন সরকারের হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করছেন।
তারেক রহমানকে নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব সাহসের কথা বলেছেন। আমি বলতে চাই, ১/১১ সময়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সকল নির্যাতনকে ধারণ করে দুই বছর এদেশেই ছিলেন, কারাবন্দী ছিলেন, নির্যাতন সয়েছেন মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের বন্দীশালায়, শারীরিক আঘাত সহ্য করেছেন। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সাথে আঁতাত করে আপনাদের নেত্রীর মতো বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাননি। এই সাহসের দৃষ্টান্ত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের। আমি বলব, সাহসের দৃষ্টান্ত থেকে আপনারা কিছু শিখুন। আর সত্যিকারের সাহস যদি দেখাতে চান, তাহলে জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন এর সরকার তারেক রহমানকে বন্দী করে কিভাবে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে তা নিশ্চয় কারো অজানা নেই। অন্যায়ভাবে একজনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করা কী সাহসের দৃষ্টান্ত না কাপুরুষের নমুনা কাদের সাহেব। সেই সময় কিন্তু আপনাদের সাহসের পরিচয় দিতে দেখিনি যে অন্যায় করছে, অবিচার করছে, জুলুম করছে তার বিরুদ্ধে দুইটি কথা বলতে। বরং আমরা দেখেছি, সেই ১/১১ এর অবৈধ সরকারকে আপনারা বলেছেন আপনাদের আন্দোলনের ফসল, তাদের সকল অন্যায়কে বৈধ করে দেবেন বলেছিলেন। আপনারা সেই আন্দোলনের ফসলের সেই রক্তাক্ত জুলুম নির্যাতনের ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রেখেছেন। ১/১১ সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা কে কি বলেছেন, তা জনগণ ভুলে যায়নি। দেশবাসী আপনাদের সাহসের সমাচার ভালো করেই জানে। ১/১১ সময়ে খালেদা জিয়ার আপোষহীনভাবে দেশে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
 নোয়াখালীর সেনবাগের সদ্যকারামুক্ত নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের সংবর্ধনা সভায় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার, ভোলার লালমোহনের গৌড়নগর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করীমসহ নেতা-কর্মীদের বাড়িতে  আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলা, টাঙ্গাইল ও চট্টগ্রামের হাটাজারীতে দলীয় সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সভায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার দাবি করেছেন রিজভী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ