ঢাকা, মঙ্গলবার 25 July 2017, ১০ শ্রাবণ ১৪২8, ৩০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মঠবাড়িয়ায় ভারি বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : অমাবস্যায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম ভারি বর্ষণে মঠবাড়িয়া উপজেলার আমনের বীজতলা, মছের ঘের এবং নিম্নাঞ্চল প্রায় ১/২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে আগামী আমন আবাদ এবং ঘেরের মাছের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন কুষকরা। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, বাড়ির আঙ্গিনা এবং রভি শস্যের ক্ষেতও পানির নিচে তলিয়ে আছে।
জানাগেছে, ভারি বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে  বলেশ্বর নদী তীরবর্তী তুষখালী, বড় মাছুয়া, বেতমোর রজপাড়া,ও সাপলেজা ইউনিয়নসহ মিরুখালী, গুলিশাখালী ও ধানীসাফা ইউনিয়নের অধিকাংশ আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী তীরবর্তী কচুবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফরহাদ জানান, তার প্রায় ৭০ শতাংশ আমনের বীজতলা ১/২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি আর ৩/৪ দিন থাকলে বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। বীজ নষ্ট হলে আমন আবাদ হবে বলে তিনি জানান। মিরুখালী ইউনিয়নের ছোট শৌলা গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ জালাল খান জানান, তার প্রায় এক একর জমির বীজতলাসহ পার্শ্ববর্তী বাঁশবুনিয়া, বড়শৌলা ও দেবীপুর গ্রামের অধিকাংশ বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ি উপজেলায় প্রায় ১৪ শত হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ ভাগই স্থানীয় জাতের ধানের বীজতলা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত আড়াই শত হেক্টর বীজ তলা পানিতে তরিয়ে গেছে। তবে বীজের মাতা পানির উপর থাকলে এবং জ্জ দিনে পানি নেমে গেলে বীজের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান।
এদিকে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের সাপলেজা গ্রামের মৎস্য ঘেরের মালিক মোঃ মোবারক হাং জানান, তার প্রায় ৭ একর জমিতে ৫টি মাছের ঘেরে ১০ লাখ টাকার মাছ আছে। ঘেরের সীমনা বাঁধ ছুই ছুই পানিতে অর্ধ লাখ টাকার মাছ ভেসে পেছে। পানি আরো বাড়লে গেরের মাছ রাখা যাবেনা বলে তিনি জানান। মোবারক হাং আরো জানান, গত বছর পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় ব্যাংক ও এনজিও সহ বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট তিনি ৭ লাখ টাকা ঋনি আছেন। এবছরও পানিতে মাছের ঘের ডুবে গেলে তার পথে বসতে হবে। তার এই দুঃসময়ে উপজেলা মৎস্য অফিস কোন ধরনের সাহায্য সহযোগীতা পাননি বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে  যোগযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী আবরুদ্ধ
পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী আজ সোমবার দুপুরে এক সমাবেশে ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্মীদের সন্ত্রাসী ও ডাকাত বলায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও এলাকাবাসী তাকে অবরুদ্ধ করেছে। পরে থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে তাকে পুলিশ প্রহরায় উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া নিয়ে  আসেন।
জানা গেছে, জাতীয় সৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাপলেজা মডেল হাই স্কুলে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রেখে মৎস্য সংরক্ষণ ও চাষ বিষয়ক উদ্ভুদ্ধ করণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী এমপি স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের সন্ত্রাসী ও ডাকাত বলে পুলিশকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে বক্তব্য রাখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় যুবলীগ,  ছাত্রলীগ ও এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পরে এবং সমাবেশস্থলে প্রায় এক ঘন্টা এমপিকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোঃ মিরাজ মিয়া অভিযোগ করেন, কোমলমতি ৩’শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ করে মেঝেতে বসিয়ে সমাবেশ করে। ওই সমাবেশে আমিসহ আমার দলের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী ও ডাকাত বলায় এলাবাসী ও আমার নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ঘন্টা খানেক তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী শাহ্ নেওয়াজ জানান, উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে এনে এমপিকে মঠবাড়িয়া নিয়ে আসা হয়।
এমপি ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, তার জন প্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজের নির্দেশে তার উপর পরিকল্পতিভবে হামলার চেষ্টা চালায়। এব্যপারে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের আসামী করে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ