ঢাকা, বুধবার 26 July 2017, ১১ শ্রাবণ ১৪২8, ১ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর জনজীবন বিপর্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার : নিম্নচাপ ও সক্রিয় মওসুমী বায়ূর প্রভাবে চলমান বৃষ্টিমুখর আবহাওয়া আরো দু’দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। টানা বর্ষণ, পানিবদ্ধতা আর খানাখন্দকে রাজধানীবাসীর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম তো ডুবন্ত শহরে পরিণত হয়েছে। এদিকে কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও ফেনীসহ অনেক এলাকায় নতুন নতুন জনপদ প্লাবিত হচ্ছে। নদীভাঙ্গন তীব্র হয়ে লোকালয় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

সক্রিয় মওসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪ - ৮৮ মি:মি:) থেকে অতি ভারি (৮৯ মি:মি: বা অধিক) বর্ষণ হতে পারে। ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ী এলাকার কোথাও কোথাও ফের ভূমিধসের আশংকার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। 

একই সাথে আজ বুধ ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাবেলা মুষলধারে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদ শাহিনুর ইসলাম। 

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী চব্বিশ ঘন্টায় ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৪ মিলিমিটার। এদিন দুপুর একটা থেকে পরবর্তী ছয়ঘন্টায় বৃষ্টির পরিমান ছিল ১২ মিলিমিটার। আর গেল চব্বিশ ঘন্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে ২২১ মিলিমিটার। এছাড়া টাঙ্গাইলে ১০৪ মিলিমিটার, ফরিদপুর ১০৪, মাদারীপুর ৩৪, গোপালগঞ্জ ১৯, ময়মনসিংহ ৬৬, নেত্রকোনা ৩৯, চট্টগ্রাম ২৯, সন্দ্বীপ ৩১, সীতাকুন্ড ২২, রাঙ্গামাটি ২১, কুমিল্লা ৬৬, চাঁদপুর ৪৮, মাইজদীকোর্ট ৩০, ফেনী ১৭, হাতিয়া ৩৩, কুতুবদিয়া ৮৬, টেকনাফ ৫৫, সিলেট ১১, শ্রীমঙ্গল ২, রাজশাহী ৫৪, ঈশ্বরদী ১৯, বগুড়া ৫৮, বদলগাছী ৫০, তাড়াশ ৪৭, রংপুর ২১, দিনাজপুর ২২, সৈয়দপুর ১৮, তেতুলিয়া ১৫, ডিমলা ৯, রাজারহাট ৩৪, খুলনা ৩১, মংলা ২৮, সাতক্ষীরা ৪০, যশোর ১০৩, চুয়াডাঙ্গা ১৩, কুমারখালী ৪৬, বরিশাল ৭৩, পটুয়াখালী ৫৪, খেপুপাড়া ৬০ ও ভোলায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরো ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপরূপে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মওসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মওসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দম্কা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবতির্ত থাকতে পারে।

বৃষ্টি, পানিবদ্ধতা ও খোড়াখুড়িজনিত ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারণে রাজধানীবাসীর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর সকল প্রধান সড়কেই যানজট লেগে থাকে দিনভর। অনেক এলাকায় স্যুয়ারেজ বিকল হয়ে পড়ায় কোমর পর্যন্ত পানি জমে যান চলাচল বিঘিœত করছে। কী শিক্ষাথী, কী অফিসগামী, কী-বা সাধারন পথচারী, সবাইকেই দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা সইতে হচ্ছে। রাজধানীর বেহাল দশায় অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে শূন্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, কি লাভ হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগ করে আর সরকার উন্নয়নের ফুলঝুড়ি ফুটিয়ে আসলে কি হাসিল করতে চায়?

আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অনেক এলাকা এখনও ৭ ফুট পানির নিচে রয়েছে। মেয়র আ জ ম নাছির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি চেষ্টা করছেন। তবে চট্টগ্রামের পানিবদ্ধতা দূর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল প্রকল্প দরকার। গতকাল বৃষ্টি কমে এলেও পানি সরতে না পারায় নাগরিক দুর্ভোগ খুব একটা কমেনি। 

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কপোতাক্ষ নদীর পানি ঝিকরগাছায় বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার, দোহাজারিতে সাঙ্গু নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার এবং মাতামুহুরীর পানি লামায় ৭০ ও চিরিঙ্গাতে বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। 

এদিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফেনীর ছয় উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বড় ফেনী, ছোট ফেনী, মুহুরী, কহুয়া, সিলোনীয়া ও ডাকাতিয়া নদীর পানি বেড়ে ফেনী সদর, দাগনভূইয়া, ছাগনাইয়া, ফুলগাজী ও সোনাগাজীর এসব গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্ধ রয়েছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। অনেক গ্রামীণ সড়ক, বীজতলা ও পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ