ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশি হত্যায় মার্কিন যুবকের ৬০ বছরের জেল

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্ট্যামফোর্ডে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ কামাল হত্যায় শোটা মেকোসভিলি নামে এক মার্কিন যুবককে ৬০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ড সুপরিয়র কোর্টের বিচারক জন ব্লাউয়ি এ রায় দেন।

সর্বোচ্চ শাস্তিপ্রাপ্ত শোটা মেকোসভিলি (৩২) জর্জিয়ার বাসিন্দা। রায় ঘোষনার আগে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালতের সামনে স্ট্যামফোর্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ করেন। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।

২০১৪ সালের ২৭ আগষ্ট বুধবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ কামাল (৪৭) কে হত্যার পর রাস্তার পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় ঘাতক শোটা মেকোসভিলি। ডোলিট রোডের পাশে কর্মরত শ্রমিকরা কামালের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে স্ট্যামফোর্ড পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষার পর কামালের মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত কামালের দেহে ১১৭টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল বলে পুলিশ জানায়। ছুরিকাঘাতের আগে নিহত কামালের সঙ্গে ঘাতকের দীর্ঘ সময় ধস্তাধস্তি হয়েছে। নিজের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কামাল। ঘাতক শোটা ছিলেন কামালের টাক্সির যাত্রী ছিলেন। ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ খুনি শোটা মেকোসভিলি(২৯) কে গ্রেপ্তার করেন। ওইদিন তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কিছু আলামত উদ্ধার করে। শোটার কাছ থেকে রক্তমাখা ডলার উদ্ধারের পর কামাল হত্যার সঙ্গে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হন। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। শোটা মেকোসভিলি আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। স্ট্যামফোর্ড সুপরিয়র কোর্টের বিচারক তার বিরুদ্ধে এক মিলিয়ন ডলারের জামিন নামা ধার্য করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। দুইদিন পর শুক্রবার আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ করলে বিচারক শোটা মেকোসভিলির জামিন নামায় আরও দুই লাখ ডলার বাড়িয়ে দেন।

২৫ জুলাই ট্যাক্সিচালক কামাল হত্যার রায় ঘোষনার পর তার স্ত্রী রাজিয়া শালিয়া বলেন, খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় তিনি খুশি। এর ফলে কামালের আত্মা শান্তি পাবে।

রায় প্রদানের সময় কামাল দম্পতির একমাত্র ছেলে শাফায়েত (৭) আদালতে সামনের সারিতে বসে ছিলেন। 

রায় প্রদানের পর বিচারক জন ব্লাউয়ি বলেন, শোটা মেকোসভিলির সর্বোচ্চ শাস্তি ৬০ বছরের কারাদণ্ড নিহত কামালের পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। যে একজন নিরীহ মানুষকে ১২৭ বার ছুরিকাঘাতে খুন করতে পারেন তার জন্য এ শাস্তি একেবারেই নগণ্য।

সিনিয়র অ্যাসিষ্ট্যান্ট ষ্টেট এটর্নি জেমস বার্নার্ডির পক্ষে নিহত কামালের মামলা পরিচালনা করেন সুজান ক্যাম্পবেল। তিনি বলেন, এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খুনি শোটা মেকোসভিলি নির্মমভাবে আঘাতের পর আঘাত করে তাকে হত্যা করেছে। কামালের দেহে ১২৭ টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটা একটি বিরল ঘটনা। ওইদিন রাতে কামালের স্ত্রী সারারাত তার স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন কিন্তু স্বামী ঘরে ফেরেনি।

ঘাতক শোটা মেকোসভিলি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নর্ম প্যাটিস। তিনি কোন মন্তব্য করেতে রাজি হননি।

অপর দিকে মামলার রায় ঘোষণার আগে ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালতের সামনে স্থানীয় স্ট্যামফোর্ডের শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি বিক্ষোভ করেন। সমাবেশে থেকে কামালের খুনি শোটা মেকোসভিলির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। স্থানীয় বখতিয়ার সুন্নি সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা্র আয়োজনে বিক্ষোভকারী সবার হাতে ছিল প্লাকার্ড ও ফেস্টুন।   

নিহত কামাল ১৯৯২ সালে ডিভি লটারি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ড শহরে বাস করেছেন। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার চিপাতলী বখতিয়ারপাড়ায় তার গ্রামের বাড়ি বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ