ঢাকা, শনিবার 29 July 2017, ১৪ শ্রাবণ ১৪২8, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বেগুন চাষে লাভবান বাগমারার কৃষক

বাগমারায় ক্ষেতে বেগুন উত্তোলনে ব্যস্ত কৃষক -সংগ্রাম

বাগমারা (রাজশাহী) থেকে আফাজ্জল হোসেন ঃ রাজশাহীর বাগমারায় চলতি মওসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন  দাম ভালো পাওয়ায় এলাকার কৃষক লাভবান হচ্ছে। এলাকায় শবজির দাম বাড়ায় অল্প সময়ে অধিক ফলনশীল আবাদ বেগুনচাষের প্রতি এলাকার কৃষকর ঝুঁকে পড়েছে। গত বছর বেগুনের ভালো ফলন হলেও দাম না পেয়ে চাষিরা লোকশান দিয়েছে। তবে এবারে বর্ষায় নি¤œ অঞ্চলের শবজির ক্ষতির কারণে তরিতরকারীর দাম বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় বেগুনের চাহিদা বেড়ে যায়। সবজি হিসেবে বেগুনের উৎপাদন ও বাজার দর ভাল থাকায় কৃষকরা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগাম লাভের আশায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌর এলাকায় ১২০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষাবাদ করা হয়েছে।  বাসুপাড়া ইউনিয়নের বালানগর গ্রামের বেগুনচাষি ইসমাইল হোসেন জানান, গত মৌসূমে তিনি ৫ কাঠা জমিতে বেগুন চাষাবাদ করে আর্থিক ভাবে তেমন লাভবান হতে পারেননি। তবে অল্প খরচের ফসলে বেশী আয়ের বেগুনচাষে তিনি হাল ছাড়েননি। চলতি মওসুমে আগাম বর্ষা দেখে বেশী লাভের আশায় এক বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন তিনি। শুরুতে বেগুন উৎপাদন এবং বাজার দর ভাল থাকায় এবারো তিনি লাভবান পাচ্ছেন। তিনি জানান, বেগুন ক্ষেতে এখনো পরিচর্যা করে আসছি। এরই মধ্যে ক্ষেত থেকে বেগুন উত্তোলন ও বাজারজাত করা চলছে। প্রতি মণ বেগুন ১ হাজার থেকে ১২ শত টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবারে কয়েক দিনের টানা বর্ষায় নীচু জমির সবজি মরে গেছে। এতে করে বাজারে বেগুনের চাহিদা বাড়ছে। একই গ্রামের এরশাদ আলী জানান, অধিক লাভের আশায় তিনি দশ কাঠা জমিতে এবারে বেগুন চাষ করেছেন। বেগুনের বাজার দর ভাল থাকায় লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নন্দন পুর গ্রামের আইউব আলী জানান, অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি তিনি বেগুন চাষাবাদ করছেন। প্রথম দিকে বৃষ্টির কারণে বেগুন গাছের কিছুটা ক্ষতি হলেও পরে উৎপাদন ভাল হওয়ায় এবং বাজার দর ভাল থাকায় উৎপাদন খরচ বাদে অধিক লাভ পেয়েছেন। তিনি জানান, অন্য ফসলের তুলনায় বেগুনচাষে শ্রমিক কম লাগে বর্তমানে এলাকায় শ্রমিকের মজুরী অনেক বেশী। লাভ দেখে বেগুনচাষে নেমেছেন বলে তিনি মত পোষণ করেন।   এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন জানান, বেগুন চাষের শুরুতে কিছু কিছু জায়গায় সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও বর্তমানে বেগুন ক্ষেত ভাল অবস্থায় রয়েছে এবং উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থা ভাল থাকায় কৃষকরাও আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ