ঢাকা, শনিবার 29 July 2017, ১৪ শ্রাবণ ১৪২8, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারগুলোতে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বেড়েছে মুরগির দামও। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। ৮০ টাকা দরের কাচাঁ মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। এছাড়া বেশকিছু সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। হঠাৎ করে এভাবে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য অব্যাহত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারাদেশে বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন পর্যায়ের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে  পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের উৎপাদনে।
তবে ভোক্তারা বলছেন, ষড়ঋতুর এই দেশে রোদ-বৃষ্টি-শীত এসব থাকবেই। এগুলোকে অযুহাত হিসেবে দেখিয়ে দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে  কোনো পণ্যের দাম কমানো হয় না। মূলত সিন্ডিকেট ব্যবসার জন্যই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ  ভোক্তা।
গতকাল শুক্রবার বাজার ঘুরে  দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ ১০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ৪০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বেগুন কেজি প্রতি ৬০-৮০ টাকা; শিম ১২০-১৩০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১৬০-১৮০ টাকা; দেশি টমেটো ১০০ টাকা; শশা ৫০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটল ৫০-৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা; করলা ৫০-৫৫ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেজি প্রতি দেশি রসুন ৯০ টাকা; ভারতীয় রসুন ১২০ টাকা; আলু ২৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া বলেন, ৪-৫ দিন টানা বৃষ্টির কারণে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে সে প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়ছে।
মুদি বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনের আদা ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা; হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ভোজ্য তেলের দাম গত দুই সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনা করে দামের কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে, টিসিবির মূল্য তালিকায় ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫১০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০২-১০৭ টাকা।
চালের বাজারে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল ২ টাকা কমে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, পারিজা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ টাকা, বিআর২৮ ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ২০০০ টাকা।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম গত সপ্তাহের বাড়তি দামে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ৫ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর গোশত ৫০০ টাকা এবং খাসির গোশত ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ