ঢাকা, শনিবার 29 July 2017, ১৪ শ্রাবণ ১৪২8, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নগরভবনে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নারী কাউন্সিলরসহ আহত ৭

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী নগর ভবনে শ্রমিক ইউনিয়নের দু’টি গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে নারী কাউন্সিলরসহ ৭ জন আহত হন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)’র কর্মচারীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা চলাকালে এ সংঘর্ষ ঘটে।
এসময় রাসিকের প্যানেল মেয়র-৩ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুন্নাহার বেগম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুসলিমা বেগম বেলী এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসিরা বেগমসহ অন্তত সাতজন আহত হন। শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি নিয়ে স্থগিতকৃত আন্দোলন সম্পর্কে একজন কাউন্সিলরের মন্তব্য করা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এসময় মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে রাসিকের কর্মচারীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় বসেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ বেশকিছু ওয়ার্ড কাউন্সিলর। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে শ্রমিকেরা তাদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি ও স্থগিতকৃত আন্দোলন সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করেন। এসময় ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ সরকার টেকন শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দাবি আদায়ের আন্দোলন করবেন ভালো কথা, কিন্তু এটা করতে গিয়ে যাচ্ছে-তাই করবেন- এটা মেনে নেয়া হবে না। এজন্য নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আপনাদের কাজ করতে হবে। সম্প্রতি আপনারা যেভাবে আন্দোলন করেছেন- তা অনেকটা জঙ্গি (উগ্রবাদী) স্টাইলের মতো হয়ে গেছে।’ তার এই বক্তব্যের পরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে সেটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য দাবি জানান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখসহ ১১ দফা দাবির সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের একটি অংশ। এ নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মেয়র ও কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতেই তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় শ্রমিকেরা চেয়ার ভাংচুর করেন এবং চেয়ার নিয়ে একে অপরের দিকে তেড়ে যান। সংঘর্ষকালে রাসিকের প্যানেল মেয়র-৩ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুন্নাহার বেগম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুসলিমা বেগম বেলী এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসিরা বেগমসহ অন্তত সাতজন। আহত অন্যরা হলেন, অফিস সহায়ক আহামদ্দুন নবী ও কেন্দ্রীয় উদ্যানের মালি জালাল উদ্দিন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত অপর দু’জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। অবশ্য মেয়র ও অন্য কাউন্সিলরদের হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাসিক অপর একটি সূত্র জানায়, কর্মচারীদের ১১ দফা দাবির প্রেক্ষিতে ১৫ ভাগ বেতন বৃদ্ধির একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই বিষয় নিয়ে বিকেলে স্থায়ী কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা চলছিল। আহত রাসিকের নারী কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম সাংবাদিকদের জানান, মতবিনিময় সভায় যে যার মতো বক্তব্য দিতে পারেন। সেটির প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে করা যেতো। কিন্তু শ্রমিকদের একাংশ ইচ্ছে করেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই নগরভবনে পুলিশ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়। পরে রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মতবিনিময় সভা শেষ করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, কর্মচারীদের দাবি নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৫ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কর্মিদের আরো ১০ টাকা করে বেশি বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়র বুলবুল আরো বলেন, মতবিনিময় সভায় শ্রমিকেরা যেভাবে নারী কাউন্সিলরদের উপরে হামলা চালিয়েছে তা এক ধরনের ধৃষ্ঠতা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পরিষদের বিশেষ সাধারণ সভা একই দিন সকালে অনুষ্ঠিত হয়। নগর ভবন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন জনগণের একটি সেবার প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পরিচ্ছন্ন বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবাসহ দৈনন্দিন জীবন গতিশীল করার জন্য কাজ করে। এ কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দায়িত্ব রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কিন্তু সম্প্রতি রাসিকের কার্যক্রমের এ গতিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কতিপয় কর্মচারী সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড করছে- যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সভায় রাসিকের প্যানেল মেয়রগণসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ