ঢাকা, শনিবার 29 July 2017, ১৪ শ্রাবণ ১৪২8, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে পরিবহনের ধাক্কায় আলমসাধু ও পাখিভ্যান চালক এবং ট্রেনে কেটে ১ জনের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুই পরিবহনের ধাক্কায় দুইজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যুগিরহুদা নামকস্থানে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি পরিবহনের ধাক্কায় আলমসাধুচালক এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে নবীনগর নামকস্থানে পরিবহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে পাখিভ্যানচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তিন ঘন্টার ব্যবধানে একই সড়কে দুইটি দুর্ঘটনা ঘটলেও ঘাতক কোন পরিবহনকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিহি কৃষ্ণপুর থেকে আলমসাধু বোঝাই কচু নিয়ে সরোজগঞ্জ বাজারে বিক্রির পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ী ফেরার সময় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে যুগিরহুদা নামকস্থানে ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি পরিবহন পিছন থেকে আলমসাধুর ধাক্কা দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর পড়ে যান খলিল। এসময় তার মাথা পরিবহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। নিহত খলিল (৩০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিহি কৃষ্ণপুরের মৃত মহিনউদ্দীনের জামাতা। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায় হালসা গ্রামে বলে জানা গেছে। পরে সংবাদ পেয়ে সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌছে দুর্ঘটনায় নিহত খলিলের লাশ ও খন্ডবিখন্ড আলমসাধু উদ্ধার করে। অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবীনগরে পরিবহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে আইনাল হোসেন নামের এক পাখিভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নবীনগরের গোলজার মাস্টারের চাতালের নিকট এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পাখিভ্যান চালক আইনাল হোসেন (৩৫) সরোজগঞ্জ বোয়ালিয়া পূর্বপাড়ার হাসেম আলীর ছেলে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরে কুতুবপুর ইউনিয়নে বোয়ালিয়া পূর্বপাড়ার হাসেম আলীর ছেলে পাখি ভ্যান চালক আইনাল (৩৫) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নবীননগরে যাত্রী নামিয়ে সরোজগঞ্জ বাজারে আসছিলেন। পথিমধ্যে নবীনগরের চাতালের সামনে পরিবহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
ট্রেনে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ায় আলো মন্ডল (৪০) নামের রোগী মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বৃহ¯পতিবার দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনের অদূরে সিগনালের নিকট এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলো মন্ডল রেলপাড়ার মৃত টেংরা মন্ডলের ছেলে। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে।
জানা যায়, আলো মন্ডল দীর্ঘদিন যাবত মাথার সমস্যায় ভুগছিলো। এছাড়া এই রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজনও ছিলো। চিকিৎসার ব্যয়ভার মিটাতে ব্যর্থ হয়ে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় আলো। পরিবারের লোকজন জানায়, সকালের খাবার খেয়ে সাড়ে ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হয় আলো মন্ডল। তার ঘন্টাখানিক পরেই পরিবারের সদস্যরা খবর পায় আলো মন্ডল ট্রেনের মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ