ঢাকা, শনিবার 29 July 2017, ১৪ শ্রাবণ ১৪২8, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নোংরা পানিতে নাকাল খুলনা মহানগরবাসী

খুলনা : নোংরা পানি ও বর্জ্যতে নাকাল খুলনা মহানগরবাসী......

খুলনা অফিস : কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ডুবেছে নগরী। জলাবদ্ধ হয়েছে নগরীর প্রাণকেন্দ্র। এমনিতেই যানজটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। সাথে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতা। সাথে রয়েছে ডাস্টবিনের বর্জ্য। ডাস্টবিনের বর্জ্য মিশ্রিত নোংরা পানি ঢুকছে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে।
সরেজমিন দেখে গেছে, গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ অনেক এলাকা ডুবে গেছে হাঁটুসমান পানিতে। কোথাও কোথাও পানির পরিমাণ আরো বেশি। এর মধ্যেই যানবাহন চলতে শুরু করেছে নৌকার মতো। বিশেষ করে মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, রয়েল মোড়, জাতিসংঘ শিশু পার্ক, শান্তিধাম, বয়রা বাজার, টুটপাড়া জোড়াকল বাজার, মিস্ত্রিপাড়া, বাগমারা, বাইতিপাড়া, দিলখোলা রোড, লবণচরা বান্দাবাজার এলাকার অবস্থা বেশি খারাপ।
এতে সর্বোচ্চ ভোগান্তিতে পড়েছে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী আর খেটে খাওয়া মানুষেরা। গণপরিবহন থেকে শুরু করে ইজিবাইক, অটোরিক্সা ও রিক্সা পর্যন্ত পেতে নগরবাসীর নাকাল অবস্থা। সবধরণের পরিবহণ দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে।
ময়লাপোতা, পিটিআই মোড়, শঙ্খ সিনেমা হলের সামনে থেকে পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি করছে যানজট। সাথে যুক্ত হয়েছে পিটিআই মোড়, শেখপাড়া মোড়, নিউমার্কেটের পাশে, খুমেক হাসপাতালের পাশে, বয়রা পূজাখোলা মোড়, খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতাল রোড এলাকার খোলা ডাস্টবিনের বর্জ্য। রাস্তাজুড়ে বর্জ্যযুক্ত পানি একাকার। তার ওপর বেশির ভাগ ফুটপাত কেটে রাখা আর স্লাব ওঠানোর কারণে হাঁটারও উপায় নেই পথচারিদের। এজন্য পথচারিরা ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতাকে দায়ি করলেন পথচারিরা।
বয়রা পূজাখোলা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ পাল বলেন, আমাদের এখানে গৃহস্থালির বর্জ্য নিয়ে ফেলে দেয় মেইন রোডের ওপর। সেখানে সবসময় দুর্গন্ধ থাকে, পরিবেশ দূষিত হয়। আর এখন সেই সব ময়লা বৃষ্টির পানিতে ভেসে মন্দিরের ভেতর, বাড়িঘরে একাকার হয়ে গেছে। এই নোংরা পানিতে পা দিতেই ঘৃণা লাগে। কিন্তু কি করবো।
খুলনা হাজী আব্দুল মালেক কলেজের ছাত্র মো. ইমরান হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই খুলনার রাস্তায় পানি জমে যায়। সেই সাথে সব ধরনের পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায়। আর প্রায় জায়গায় রয়েছে ওপেন ডাস্টবিন। ডাস্টবিনের ময়লা পানির সাথে মিশে পানি নোংরা হয়ে গেছে। ডাস্টবিনের ময়লা যদি ঠিকঠাক মত পরিষ্কার রাখা যেত তাহলে কিছুটা স্বস্তি হতো নগরবাসীর।
চর্ম, এলার্জি ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ ধরণের পানিতে পানিবাহিত রোগ হতে পারে। পেটের পীড়া হতে পারে। সংক্রামক রোগ হতে পারে। জার্মাটাইটিস, ফাংগাল ইনফেকশন হতে পারে। সে কারণে সকলকে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, খুলনা শহরে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ সচেতনতার ঘাটতি। তাছাড়া জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারে না। ভাটা শুরু হলে তৎক্ষণাৎ পানি নেমে যায়। কেসিসি দিনে দু’বার বা প্রয়োজনবোধে একই ডাস্টবিন থেকে দিনে পাঁচবারও ময়লা পরিষ্কার করে। শহরের মানুষ যদি তাদের বাড়ির বর্জ্যটা ড্রেনে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতো তাহলে এমন নোংরা অবস্থা সৃষ্টি হতো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ