ঢাকা, রোববার 30 July 2017, ১৫ শ্রাবণ ১৪২8, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

লুটপাট সভ্যতা-ভব্যতা ছাড়িয়ে

লুটপাটের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। সরকারি অর্থ লুটপাটের নতুন ফন্দি হয়ে উঠেছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে খয়রাতি বরাদ্দ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মুসলমানদের ওয়াজ মাহফিল, এতিমখানায় খাদ্য ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নামযজ্ঞসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এ খয়রাতি অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। ধর্মীয় কাজে সহায়তা সরকারের ভালো উদ্যোগ হলেও তা বাস্তবায়নে লক্ষ্য করা যাচ্ছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এ প্রসঙ্গে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণীর নেতা এবং মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা একটি বিশেষ সিন্ডিকেট লুটেপুটে খাচ্ছে এ অর্থ। সারাদেশে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দিয়ে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে খোদ মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি মাগুরা জেলাতেই ১ হাজার ৭৭৬টি ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য ২৪ কোটি টাকার খয়রাতি সাহায্য বরাদ্দ করা হয়, যার ৯৫ শতাংশই ভুয়া বলে জানা গেছে। যেখানে ওয়াজ মাহফিল দেখানো হয়েছে এর অধিকাংশই ভুয়া, আবার যাদের নাম-পরিচয় দিয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তারাও কিছুই জানেন না। কে বা কারা এ প্রকল্প পাঠিয়েছেন তাও জানেন না তারা। এ ঘটনায় মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, ‘মাগুরার ঘটনা আমাদের দৃষ্টিতে আসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে’। উল্লেখ্য যে, খয়রাতি প্রকল্পের জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাই নয়, সচিবালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী বিভিন্ন পেশাজীবীও ভিড় জমান। তারাও নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের প্যাডে আবেদন করে মন্ত্রীর সঙ্গে সখ্যের কারণে বরাদ্দ নিয়ে অর্থের পুরোটাই আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব যাচাই বাছাই করে বরাদ্দ দেয়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব হয় না।
সব দেখে শুনে মনে হয় আমাদের সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের চরম অধঃপতন ঘটেছে। নয়তো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে বরাদ্দ নিয়ে তা লুটপাট করা হয় কেমন করে? এক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের রাজনীতির যে হাল এবং প্রশাসনে সুশাসনের যে সংকট চলছে তাতে তারা কাক্সিক্ষত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। অথচ আমরা জানি, দেশ থেকে দুর্নীতি ও লুটপাটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার তথা রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের সঙ্গত ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া বর্তমান সময়ে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি নীতি-নির্ধারকদেরও সুস্পষ্ট ভূমিকা পালন প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ