ঢাকা, রোববার 30 July 2017, ১৫ শ্রাবণ ১৪২8, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে : বনমন্ত্রী

খুলনা : সুন্দরবনে আট শতাধিক ক্যামেরায় তোলা ছবি পর্যালোচনা করে বাঘের সংখ্যা নিরূপণের চেষ্টা চলছে

খুলনা অফিস : সুন্দরবনে আট শতাধিক ক্যামেরায় তোলা ছবি পর্যালোচনা করে বাঘের সংখ্যা নিরূপণের চেষ্টা চলছে। প্রকৃত বাঘের সংখ্যা জানতে আরো দু’বছর লাগবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে শনিবার দুপুরে ‘বাঘ আমাদের গর্ব, বাঘ রক্ষা করব’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে বিশ্ব বাঘ দিবসের আলোচনা সভায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় বর্তমান সরকার বিদেশীদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমছে না, বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনের বাঘ অনেক নিরাপদে রয়েছে।
বনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যার ওপর প্রতিবেদন করা হয়। এগুলো কিন্তু আমাদের কোনো জরিপের ওপর ভিত্তি করে করা হয় না। বিদেশীদের করা জরিপের ওপর ভিত্তি করা হয়।
তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় বিদেশী অর্থায়নে চলতে থাকা স্মার্ট পেট্রলিং তারা বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এই স্মার্ট পেট্রলিং চালু রেখেছি। সুন্দরবন না থাকলে বাগেরহাট-খুলনা নয়, মঠবাড়িয়া ও গোপালগঞ্জও থাকবে না।
প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ, খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল ও বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান। আলোচনা সভা শেষে বাঘ সুরক্ষায় পঠগান ও লোকজ সংঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
এর আগে সকালে শহরের শহীদ মিনার পাদদেশ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্র বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সম্প্রতি ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ মনিটরিং সার্ভের সাতক্ষীরা রেঞ্জে প্রথম ধাপের মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ বনবিভাগ ও ওয়াইল্ড টিম যৌথভাবে এ সার্ভে পরিচালনা করছে। 
বন কর্মকর্তারা জানান, এর মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘের হ্রাস-বৃদ্ধি, চলাচলের ঘনত্ব এবং  জীবনাচরণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। প্রথম ধাপের সার্ভে শেষে শুরু হবে খুলনা, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের কাজ । তবে সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও দুই বছর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনার কাজ মার্চে শেষ হয়েছে। গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে এ পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘ পরিবীক্ষণ শুরু হয়। সুন্দরবনের শুধুমাত্র সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪০২টি স্টেশনে গাছ ও খুঁটির সঙ্গে ৮০৪টি ক্যামেরা বসিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার গণনার কাজ করা হয়।
বাঘ মনিটরিং সার্ভে প্রকল্পের পরিচালক ও খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ছবি তোলার কাজ শেষ হয়েছে। এখন তা ল্যাবে সফটওয়ারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা এসব ছবি পর্যালোচনা করছেন। এর মাধ্যমে সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের বিচরণ ও ঘনত্ব সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে। তবে খুলনা, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে সার্ভে কাজ সম্পন্ন হলে গোটা সুন্দরবনে বাঘের মোট সংখ্যা জানা সম্ভব হবে। এ কাজ শেষ করতে  আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।’
বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সূত্র জানায়, প্রথম দফায় সুন্দরবনের ২৬ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাঘ শুমারি করা হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের দক্ষিণ দিক থেকে বনের ৫০ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন করে এবারের গণনা কার্যক্রম চালানো হয়। এর আগে যেসব এলাকায় বাঘের উপস্থিতি বেশি এমন এলাকাগুলো বেছে নেয়া হয়েছিল। ইউএসএইডের অর্থায়নে বাঘ প্রকল্পের অধীনে ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘ গণনা করা হয়।
সূত্রটি জানায়, ৮ সদস্য বিশিষ্ট ৬টি টিমের ৪৫ জন সদস্য বাঘ গণনার কাজ করেন। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের পাশাপাশি খাল সার্ভের মাধ্যমেও বাঘ গণনা করা হয়েছে। এখন তা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই কাজে সহযোগিতা করবে বন্যপ্রাণী বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ওয়াইল্ড টিম।
ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে কোনও মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্যপ্রাণিদের ছবি পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণি চলাচলের রাস্তায় দীর্ঘ মেয়াদের ব্যাটারিচালিত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এরপর মানুষহীন এ ক্যামেরার সামনে যে কোন নড়াচড়া হলেই উঠতে থাকে একের পর এক ছবি। এভাবে গবেষকরা পেয়েছেন দিন বা রাতের আঁধারে লুকিয়ে থাকা বন্যপ্রাণীদের চারিত্রিক বৈশিষ্টসহ নতুন সব তথ্য।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সূত্র জানায়, সুন্দরবনের শুধুমাত্র সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪০২টি স্টেশনে ৮০৪টি ক্যামেরা বসিয়ে বাঘের ছবি তোলা হয়। প্রতিটি ক্যামেরা ৫/১০ সেকেন্ড পর পর একটি করে ছবি তোলে। ছবির ডোরাকাটা পর্যালোচনা করে বাঘের সংখ্যা নিরূপণ করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ সাতক্ষীরা রেঞ্জের বাঘের প্রকৃত সংখ্যার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ