ঢাকা, সোমবার 31 July 2017, ১৬ শ্রাবণ ১৪২8, ৬ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইসি মাত্র দুই ঘন্টায় ৭ বিষয়ে ৫৯ জন বিশেষজ্ঞের মতামত নিতে চায়

মিয়া হোসেন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ অংশীজনদের সঙ্গে আজ সোমবার থেকে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোমবার সকাল সোয়া ১১টায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ৭টি বিষয়াদী নিয়ে সুশীল সমাজের সঙ্গে কমিশন সংলাপে বসবে। এ সংলাপে অংশ নেয়ার জন্য ৫৯ জন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ সংলাপের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া ১১টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত। প্রথম ১৫ মিনিট প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাগত বক্তব্য দিবেন, আবার শেষে ৫ মিনিট ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। আর এ সংলাপ চলাকালীন সময় ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংলাপ শুরুর প্রথম ৬ মিনিট সময় দেয়া হবে শুধুমাত্র ছবি নেয়ার জন্য। তারপর সাংবাদিকদেরকে বের করে দিয়ে সংলাপ চলবে। তবে ইতিপূর্বে এসব সংলাপে সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মাত্র দুই ঘন্টায় ৫৯ জন বিশেষজ্ঞের মতামত কিভাবে নেয়া হবে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সূত্রমতে, আজ সোমবার সকাল সোয়া ১১টা সুশীল সমাজের সাথে সংলাপ শুরু হয়ে চলবে সোয়া ১টা পর্যন্ত। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে দুপুর ২টায় আবারো সংলাপ শুরু হবে। সংলাপ শেষে বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদেরকে ব্রিফিং করবে কমিশন। ইতিপূর্বে এসব সংলাপে সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এবারের সংলাপে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিষয়ে একজন কমিশনারের সাথে সাংবাদিকরা বৈঠক করলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র আরো জানায়, সুশীল সমাজের সাথে বৈঠকের পর পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে কোন দিন কোন দলের সাথে সংলাপ হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি বলে ইসি থেকে জানানো হয়েছে। সংলাপে কমিশন প্রণীত নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ উপস্থাপন করে এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রীসহ প্রধান অংশীজনদের মতামত নেয়া হবে। তাদের পরামর্শ ও মতামতের উপর ভিত্তি করে কমিশন তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপের আলোকেই সংলাপের এজেন্ডা বা কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে। সংলাপে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ আইন যুগোপযোগী করা, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নে পরামর্শ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রম যুগোপযোগী করার বিষয়ে পরামর্শ, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবনাসহ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত গ্রহণ সংলাপের এজেন্ডায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংলাপে যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এদের মধ্যে রয়েছেন- তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, এম হাফিজ উদ্দিন খান, এডভোকেট সুলতানা কামাল, আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বেগম রাশেদা কে চৌধুরী, মির্জা আজিজুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া এ রহমান, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বিচারপতি গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. ফরাস উদ্দিন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ড. শাহদীন মালিক, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, বাসস পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান সাংবাদিক রাহাত খান, সাবেক সচিব ড. সা’দত হোসেন, সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মেজর (অব.) এসএম শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল বারাকাত, তারেক শামসুর রেহমান, সাংবাদিক কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সাংবাদিক মিজানুর রহমান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের কমিশনও এ ধরনের সংলাপ করেছিল। কিন্তু তখনকার ওই সংলাপের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসির এই সংলাপ আয়োজন নিয়েও রয়েছে মিশ্র অভিমত। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থা অর্জনই হবে কমিশনের প্রধান কাজ। সংলাপে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এমন পরামর্শই আসবে বলে তারা জানিয়েছেন। যদিও সংলাপে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের মতো যাতে সংলাপ উদ্যোগ ব্যর্থ না হয় ইসিকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে তাদের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে হবে।

সূচি অনুযায়ী আমন্ত্রিত সবাই অংশ নিলে প্রত্যেকে দুই মিনিট করে কথা বলতে পারবেন। আলোচনার এই সময় বেঁধে দেয়ায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে তারা খোলামেলা পরামর্শ দিতে চান। এমনকি কমিশন কি করতে চায় তাও তারা শুনতে চান। সময় বেঁধে দেয়ায় আমন্ত্রিতরা বিস্তারিত পরামর্শ দেয়ার সুযোগ পাবেন না।

তারা জানিয়েছেন, সংলাপের পরও যেন লিখিতভাবে মতামত দেয়ার সুযোগ রাখে সে বিষয়ে ইসি’র কাছে তারা দাবি রাখবেন। সংলাপে আসা ও লিখিতভাবে প্রাপ্ত সুপারিশ যেন লিখিত নথি আকারে প্রকাশ করা হয় সে বিষয়েও দাবি রাখবেন তারা। আমন্ত্রিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের রোডম্যাপের চাইতে সব দল এবং জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি। কমিশন যাতে সে উদ্যোগ নেয় তারই পরামর্শ দেয়া হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সংলাপের কোনো এজেন্ডা পাননি তিনি। ইসির রোডম্যাপ পেয়েছি। দুই মিনিটে কি বলবো? আমাদের অনেক পয়েন্ট আছে। সুজন থেকে কিছু প্রস্তাবনা নিয়ে যাবো। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, ইসি’র সাত দফা কর্মসূচি নিয়ে সম্ভবত কথা হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ৬০ জন বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে কথা বলে কী সমস্যাটা সমাধান হবে? সমস্যা হচ্ছে এক জায়গায়। সেটা হচ্ছে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। এ সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে ইসি কি করবে, কি করতে পারে- এটাই আসল। বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে তাদের তো কোনো ভূমিকা নেই। তারা কি করবে? আমার বক্তব্য একটাই। আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে উল্লেখ করে ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, ইসি কিভাবে উদ্যোগ নেবে সেটা ইসি’র ব্যাপার। আমরা কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারবো না। ইসি এটা সিদ্ধান্ত নেবে। কৌশলটা কি হবে সেটা তারাই দেখবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, সংলাপের কোনো এজেন্ডা পাইনি। সময় বরাদ্দের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি তো ফরম্যাট জানি না। দু’ঘণ্টায় কি কথা হবে? দুই মিনিটে কি কথা বলবো? ওখানে কিছু বলতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। আমার কথা বলার ফোরামের অভাব নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ