ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ

ফাইল ফটো

অনলাইন ডেস্ক: ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক (৮ কোটি) মানুষ। এদের একটি বড় অংশই বাস করে দেশের দুই প্রধান নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

আর বড় আকারের ভূমিকম্প হলে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর এলাকার দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রথম জাতীয় কনভেনশনের মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আর এ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘ভূমিকম্প থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এটি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে। তা না হলে ভূমিকম্প ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। শুধু বিল্ডিং কোড মেনে ভবন করলেই হবে না, যেই মাটিতে ভবন নির্মাণ করা হবে সেই মাটিও সহনীয় হতে হবে।

কারণ অনেকেই জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেন। এটা ঠিক নয়। ভূমিকম্প হলে জলাশয়ের ওপর নির্মিত ভবনে ঝুঁকি থেকে যায়।’

হাইতি এবং চিলির ভূমিকম্পের উদাহরণ দিয়ে জামিলুর রেজা বলেন, ‘২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে সাত দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প হয়। তাতে তিন লাখ মানুষ প্রায় হারান। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিলিতে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। কিন্তু সেখানে মাত্র ৫৬২ জন মানুষ প্রাণ হারান। পরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কারণেই চিলিতে মানুষের মৃত্যু অনেক কম হয়। কারণ ১৯৬০ সালে চিলিতে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই থেকে তারা মাস্টার প্ল্যান করে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করেছে। এ কারণে হাইতির চেয়ে অনেকগুণ কম মানুষ মারা গেছে।

এভাবে আমরাও যদি প্রস্তুতি না নেই তাহলে ঝুঁকি থেকে যাবে।’ বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে বুয়েটের এ সাবেক অধ্যাপক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

১৯৭০ সালের বন্যায় ভোলায় আমাদের পাঁচ লাখ মানুষ মারা গেছেন। ১৯৮৫ সালের উড়ির চরে বন্যায় ১১ হাজার মানুষ মারা গেছেন। ১৯৯১ সালের বন্যায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এরপর আমরা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে মাস্টার প্ল্যান করি। ফলে ২০০৭ সালে সিডরে আমাদের মানুষ মৃত্যুর হার অনেক কমে আসে। সিডরের এ অভিজ্ঞতার পর ২০০৯ সালের আরেক ঘূর্ণিঝড় আইলায় ৪০০ মানুষ মারা গেছেন। ১৯৯২ সালের মাস্টার প্ল্যানকে যুগোপযোগী করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ