ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রামপাল প্রশ্নে সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ইউনেস্কো

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিতর্কিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রশ্নে সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কো) বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সুন্দরবন ও রামপাল বিষয়ে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের ৪১তম সভার সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ইউনেস্কোর এ অনড় অবস্থানের কথা জানা গেছে। গত রোববার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ‘আমাদের যুক্তি মেনে নিয়েছে ইউনেস্কো’- সরকারের এমন দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেননা ওই সময়েই রামপালবিরোধীরা সরকারের দাবিকে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। 

গত ১২ জুলাই বৈঠক শেষ হলেও ওই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া গেল ১৮ দিন পর। তবে বৈঠক চলাকালেই এটির সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭ জুলাই একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়, যাতে দাবি করা হয়, ২ জুলাইয়ের অধিবেশনে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপারে ইউনেস্কো তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছে এবং সুন্দরবনের নাম বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে।

এদিকে, চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গতকালও সাংবাদিক সম্মেলন করে ব্যাখ্যা দেন এবং খসড়া প্রতিবেদনে রামপাল বন্ধ থাকার কথা ছিল বলে দাবি করেন। 

জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেসকো সুন্দরবনের কাছে রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে সরে এসেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের সঙ্গে তা মিলছে না। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চলতি বছর জুলাইয়ের শুরুতে হেরিটেজ কমিটির শুনানিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী দাবি করেছিলেন, আমরা ইউনেস্কোকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি বলেই তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির সভা শেষে দেশে ফিরে ১০ জুলাই ঢাকায় এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ‘ইউনেস্কোর সরে আসা’ প্রসঙ্গে বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।

২০১৬ সালের মার্চে ইউনেস্কোর একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে যে প্রতিবেদন তারা জমা দেয়, তাতে রামপালকে সুন্দরবনের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রকল্পটি বাতিল বা অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিলো। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনের যাতে ক্ষতি না হয়, তার সব ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে।

তিনি সেদিন বলেন, “ইউনেস্কো আগে প্রকল্প বন্ধ করতে বলেছিল। সুন্দরবন এলাকায় রামপালসহ সব অবকাঠামো উন্নয়ন বন্ধ রাখতে বলেছিল। এখন রামপালের বিষয়ে সেই কথা তারা তুলে নিয়েছে। কিন্তু পরিশেষে ইউনেস্কো জানিয়ে দিয়েছে যে তারা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে মত বা সিদ্ধান্ত মোটেও বদলায়নি।”

কয়লাভিত্তিক ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করে পরিবেশবাদীদের একটি অংশ শুরু থেকেই রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। সরকারের ওই দাবি নিয়ে সে সময় সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনকারীদের একটি সংগঠন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, অসততা ও একগুয়েমি করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে চাইছে সরকার। আমরা এখন চাইব, ইউনেস্কোর এই প্রতিবদন প্রকাশের পর সরকার রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরে আসবে এবং যেসব অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা হচ্ছিল, সেখান থেক সরে এসে সুন্দরবনকে রক্ষার নীতিমালা প্রণয়ন করবে।”

পরে ৭ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ আলোচনার পর হেরিটেজ কমিটি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে সুন্দরবনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে বাংলাদেশ সরকার পরিকল্পিত স্থান রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে ‘অনুমোদন করেছে’।

ইউনেস্কোর সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর গতকাল সোমবার তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ইউনেস্কো অধিবেশনের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের মাধ্যমে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সরকারের মিথ্যাচার, একগুঁয়েমী এবং প্রতারণার ন্যাক্কারজনক চিত্র স্পষ্ট হলো। জনগণের অর্থ খরচ করে দলেবলে ইউনেস্কোকে প্রভাবিত করবার একাধিক ঘোষণার পর সরকার থেকে বলা হয়, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সম্পর্কে ইউনেস্কো তার আপত্তি প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু ইউনেস্কোর প্রকাশিত সিদ্ধান্তে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে (১) কৌশলগত পরিবেশগত সমীক্ষা (এসইএ) না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবন পাশ্ববর্তী এলাকায় কোনো ধরনের শিল্প বানিজ্যিক স্থাপনা করা যাবে না। বলা বাহুল্য যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এ ধরনের স্থাপনার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। এবং (২) রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ইউনেস্কো সমীক্ষা দলের সিদ্ধান্ত পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট সুন্দরবন রক্ষার জন্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্র অবশ্যই বন্ধ অথবা সুন্দরবন এলাকা থেকে সরাতে হবে।

ইউনেস্কোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুই পৃষ্ঠার বাংলাদেশ অংশে যে ১১ দফা সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় একটি কৌশলগত পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (এসইএ) চালানোর যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে, সেটি যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। এরপর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র সেটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারকে (আইইউসিএন) দিয়ে সেটি পর্যালোচনা করে নেবে। যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। কমিটির ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় ৪৩তম অধিবেশনে ওই প্রতিবেদন নিরীক্ষা করা হবে।

ইউনেস্কোর ১১ দফা সিদ্ধান্তসমূহ হলো : ১. ডব্লিউএইচসি/১৭/৪১.সিওএম/৭বি নথিপত্র যাচাই। ২. ৩৯ সিওএম ৭ বি.৮ সিদ্ধান্ত প্রত্যাবর্তন, যেটি ২০১৫ সালে জার্মানির বনে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের ৩৯তম অধিবেশনে গৃহীত হয়। ৩. ওরিয়ন পাওয়ার প্ল্যান্ট ও রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় পর্যায় অনুমোদন না করার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত। ৪. রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় একটি কৌশলগত পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (এসইএ) চালানোর যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে, তাকে স্বাগত। এই সমীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে কোনো বৃহদাকার শিল্প বা অবকাঠামো নির্মাণ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হলো। এসইএ যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করে একটি প্রতিবেদন বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র এটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারকে (আইইউসিএন) দিয়ে পর্যালোচনা করে নেবে। ৫. পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের তথ্য দেওয়ার জন্য স্বাগত। সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণের প্রবেশ, স্বাদু পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়গুলো সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থানের ওপর যে হুমকি সৃষ্ট করেছে, তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের জন্য স্বাগত। এই হুমকির কারণে সম্পদ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ৬. বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ পুরো সুন্দরবনের ব্যাপারে বাংলাদেশ (সুন্দরবন) ও ভারতের (সুন্দরবন ন্যাশনাল পার্ক) আন্তসীমান্ত সহযোগিতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে উভয় দেশের সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর মিশনের করা সুপারিশ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

৭. রামপাল প্রকল্প নিয়ে ২০১৬ সালে ইউনেসকোর রিঅ্যাক্টিভ মনিটরিং মিশনের করা অন্যান্য সুপারিশও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ৮. ‘ন্যাশনাল ওয়েল স্পিল অ্যান্ড কেমিক্যাল কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’-এর (এনওএসসিওপি) খসড়া তৈরির অগ্রগতিকে স্বাগত। সেই সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল জোগান এবং মানবসম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানানো হলো। সাম্প্রতিক নৌদুর্ঘটনাগুলোতে বিপজ্জনক উপাদান ছড়িয়ে পড়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যবেক্ষণের ব্যাপারে আরো তথ্য দিতে হবে। নৌচলাচলের কারণে ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে নৌচলাচল ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিংয়ের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে। ৯. পশুর নদে পরবর্তী কোনো ড্রেজিং কার্যক্রম চালানোর আগে সুন্দরবনের আউটস্ট্যান্ডিং ইউনিভার্সাল ভ্যালুর (ওইউভি) ওপর এর প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা চালানোর অনুরোধ জানানো হলো। সেই সঙ্গে কৌশলগত পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করারও অনুরোধ জানানো হলো। ১০. কমিটি উদ্বিগ্ন যে, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হলে সুন্দরবনে পরিবেশগত প্রভাব পড়বে। বায়ু ও পানিদূষণ বাড়বে। নৌচলাচল ও ড্রেজিং বেড়ে যাবে। মিঠা পানি কমে যাবে। এর মধ্যেই ওই অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম অধিবেশন ডব্লিউএইচসি/ ১৭ / ৪১. কম/ ১৮, পি ১০৪ অনুসারে কমিটি কৌশলগত পরিবেশ মূল্যায়নের (এসইএ) অংশ হিসেবে এসবের প্রভাব নিরূপণ নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে। ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। সুন্দরবনের আউটস্ট্যান্ডিং ইউনিভার্সাল ভ্যালুর (ওইউভি) ওপর ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে বাংলাদেশকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১১. সবশেষে অনুরোধ, যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। কমিটির ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় ৪৩তম অধিবেশনে ওই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করা হবে।

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪১তম সভায় সুন্দরবন বিষয়ে শুনানিতে গৃহিত প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত জাতিসংঘ সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ হওয়ার পরদিন গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসেন তৌফিক-ই ইলাহী। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “রামপাল প্রকল্প চলমান থাকবে। সেই সঙ্গে ইউনেসস্কোর পরামর্শ অনুযায়ী স্ট্রাটেজিক্যাল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্টও চলবে।” তিনি বলেন, “ইউনেস্কোর খসড়া প্রতিবেদনে ‘ইনক্লুডিং রামপাল’ শব্দ ছিল। (শুনানিতে) যুক্তিতর্কের পরে ওই শব্দটা তুলে নিয়েছে। তারা বলেছিল, পরিবেশ সমীক্ষা না করে বড় প্রকল্প না করতে। আমরা সেখানে রামপাল ছাড়া আরও কয়েকটি প্রকল্প স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছি। তারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, খসড়া প্রতিবেদনে রামপাল বন্ধ থাকার কথা ছিল। এখন তারা বলছে, না এটা চলবে। এতে যদি কোনো প্রতিকার নেয়ার প্রয়োজন হয়, সেটা নিতে হবে। তিনি বলেন, “এখানে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। সবাই দেশকে ভালোবাসে। ভুল ব্যাখ্যা বা সঠিক ব্যাখ্যা বলতে কিছু নেই। কোনো সমস্যা থাকলে সমাধানের উপায় নিয়ে আসতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব।”

ক্রাকাও বৈঠকে ইউনেসকোর আগের অবস্থান থেকে কোন কোন জায়গায় সরে এসেছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মৌলিক পরিবর্তন হল, নতুন স্ট্রাকচার না করার ক্ষেত্রে আগে তাদের কথা ছিল ‘ইনক্লুডিং রামপাল’ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কথাটা তারা বাদ দিল। উই রিগ্রেটস স্টেট পার্টিৃ. এই বাক্য থেকে রিগ্রেটস শব্দটা বাদ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আগে বলেছে, তোমরা রামপাল প্রকল্প বন্ধ রাখবা, দেশে শুনে তারপর হবে। এখন বলছে না এটা চলবে। পাশাপাশি যদি আমরা দেখি যে এনভাইরনমেন্টাল এসেসমেন্টের ফলে আরও মিটিগেটিং মেজার নেওয়া প্রয়োজন যেটা আমরা আগে হিসাবের মধ্যে ধরিনি, সেটা করতে হবে। তৃতীয়ত, সুন্দরবন ডেনজার সিচুয়েশনে.. যেটা বলেছিল সেটা এখন আর বলছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ