ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘লুটে খা’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক

‘কাবিখা কোথায় যায় কারা খায়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায়। ২৪ জুলাই তারিখে মুদ্রিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করছেন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। এসব প্রকল্পের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। নামে প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অনেক প্রকল্প। বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৩৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এখানে অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই অধিকাংশ টাকা তোলা হয়েছে। এছাড়া বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বাদশা আলমগীরের বিরুদ্ধে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর নগদ অর্থ) প্রকল্পের কাজ না করে তিন লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাঝিরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তারেক হোসেন সুমন এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই যুবলীগ নেতা স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আলতাব আলীর কাছ থেকে এসব প্রকল্প বাগিয়ে নেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, শুধু একটি ঘটনাই নয়, গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের দুর্দশা লাঘবে সরকারের টিআর  (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচিতে বরাদ্দ অর্থের অর্ধেকই চলে যায় প্রভাবশালীদের পেটে। যাদের জন্য প্রকল্প বরাদ্দ করা হচ্ছে তাদের উন্নয়ন না হয়ে উন্নয়ন হচ্ছে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের কতিপয় নেতা এবং স্থানীয় কিছু অসাধু কর্মকর্তার। তাই এখন জনমনে প্রশ্ন, টিআর-কাবিখা কারা নেয়, কী করে? প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বরাদ্দকৃত অর্থের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশেরই কোনো কাজ হয়না। অনেক সময় শতভাগই গায়েব করে দেয়া হয়। টিআর ও কাবিখার বরাদ্দে উন্নয়নের নামে উপজেলা পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ‘লুটে খা’ সিন্ডিকেট। নানা কৌশলে প্রশাসনের যোগসাজশে এ লুটপাট ও দুর্নীতি এখন ওপেন-সিক্রেট।
শুধু ‘লুটে খা’ সিন্ডিকেট নয়, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে ‘আকাশ-বাতাস’ নামে আরও একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মূল হোতা এক প্রভাবশালী ব্যক্তির এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তার দাপটে তটস্থ থাকেন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এছাড়া তারা বিভিন্ন এমপির ভুয়া ডিও দিয়েও কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা অনেকটাই ওপেন-সিক্রেট। গ্রামীণ উন্নয়ন ও দরিদ্র মানুষের দুর্দশা লাঘবের অর্থ লুটপাট হচ্ছে একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক ও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার উদ্যোগে। এসব মেনে নেয়া যায় না। এদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দায় সরকার ও প্রশাসনের ওপরই বর্তায়। সেই দায়িত্ব তারা পালন করেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ