ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হোমিওপ্যাথি : প্রশ্ন আছে অনেক -অধ্যাপক ডা. আহমদ ফারুক

হোমিওপ্যাথি : প্রশ্ন ও উত্তর
প্র. শিশুর ঘন ঘন কানে জীবাণু সংক্রমণ। নাক দিয়ে পানি পড়া। ঘ্যান ঘ্যান কান্নাকাটি। চুলকানি। ব্যবস্থাপনা জানতে চাই।
-শফিক, চট্টগ্রাম।
উ: শিশুটির সম্ভবত অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকও সাহায্য করতে পারেন।
প্র. চিকুনগুনিয়ার জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ চাই।
-মাহমুদ, ঢাকা
উ. রাসটক্স-৩০ শক্তি বা এলএম-২ শক্তি ঘন ঘন প্রয়োগ করলে রোগী দ্রুত উপকার পায়। জ্বর কমে গেলে চায়না-৩০ তিন দিন এবং তারপর ব্যথার জন্য ব্রায়োনিয়া-৩০ পনের দিন সেবন করুন।
প্র. মাইগ্রেন মাথা ব্যথায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ কার্যকর কিনা?
-আফতাব, বরিশাল
উ. জি, মাইগ্রেনে হোমিওপ্যাথি ওষুধ দ্রুত কার্যকর।
প্র. নতুন পদ্ধতির ওষুধ প্রয়োগ পদ্ধতির উপর কোন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম আছে কি?
ডা. অহিদ, চট্টগ্রাম
উ. হোমিওপ্যাথিক এডুকেশন সোসাইটি নতুন পদ্ধতির ওষুধ প্রয়োগ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
প্র. মহিলাদের স্তনে চাকা কিংবা ব্যথা থাকলে কি ক্যান্সার হতে পারে? স্তনে ব্যথার সাথে মানসিক চাপের কোন সম্পর্ক আছে কি?
-নাজমা, রংপুর।
উ: স্তনে চাকা অনেক কারণে হতে পারে। এ চাকা থেকে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কম। আর স্তনে ব্যথা স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কদাচিৎ ঘটে। মানসিক চাপের কারণেও স্তনে ব্যথা হতে পারে।
প্র. তোতলামির জন্য ভাল ওষুধ চাই।
-শামিম, চট্টগ্রাম।
উ : তোতলামি একটি মানসিক ব্যাধি। কদাচিৎ শারীরিক অঙ্গসমূহের ত্রুটি এর জন্য দায়ি হতে পারে। বংশগতির প্রভাবেও হতে পারে। তাই রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জেনে চিকিৎসা দেয়া ভাল। প্রাথমিক ভাবে লাইকোপডিয়াম-৩০ শক্তি, দিনে একবার, ৭ দিন সেবন করে অপেক্ষা করুন।
প্র: আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগছি। আমার দাম্পত্য জীবনে সমস্যা হচ্ছে। পরামর্শ চাই।
-আফজাল, ঢাকা।
উ : আপনার জন্য সাইকোথেরাপি প্রয়োজন। হোমিওপ্যাথি ওষুধও আপনি সেবন করতে পারেন। তবে কোন ধরনের উত্তেজক ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
প্র : গর্ভবতী মহিলার প্রসব বেদনা স্থিতিশীল করার জন্য কোন ওষুধ বেশ কার্যকর?
-ডা. সহিদুল্লাহ, কক্সবাজার।
উ : “বেলেডোনা ৩০ শক্তি” বেশ কার্যকর।
প্র: ঋতু পরিবর্তনকালীন সর্দি জ্বরের জন্য ওষুধ চাই।
-মান্নান, যশোর।
উ : একোনাইট, ডালকামারা রাসটক্স, লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োগ করা যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা ভাল।
প্র: আপনার এক লেখায় দাবি করেছেন যে, নি:সন্তান দম্পতিদের জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ কার্যকর। অথচ আমি দীর্ঘ ৫ বছরেও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় কোন ফল পাইনি। আসলেই কি কোন সফলতা আছে?
-নাইম, ঢাকা।
উ : হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় নিঃসন্তান দম্পতিরা ভাল ফল পেতে পারেন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসকের চিকিৎসায়। অনেক দম্পতির মুখে হাসি ফুটেছে বলে প্রমাণ আছে। তবে সবাই যে উপকার পাবেন এমনটি বলা যায় না।
প্র : প্রাথমিক আঘাতের জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ আছে কি?
-রতন, চট্টগ্রাম।
উ : “আর্নিকা-৩০ শক্তি” সবার কাছে রাখুন।
প্র: ওষুধ প্রয়োগের বিধি-বিধান জানার জন্য একটি বইয়ের নাম চাই।
-ডা. সুব্রত, বরিশাল।
উ: অর্গানন অব মেডিসিন ভালভাবে পড়ুন। এছাড়া ‘ওষুধ প্রয়োগ বিজ্ঞান’ বইটি হাতের কাছে রাখুন। বইটি সংগ্রহ করতে চাইলে ১০০ টাকা বিকাশ করুন এই নম্বরে: ০১৭৪৭-১২৯৫৪৭, কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো হবে।
প্র: ভারতের অনেক চিকিৎসক বাংলাদেশে আসেন বিভিন্ন সেমিনারে এবং চিকিৎসার জন্য? মন্তব্য চাই।
-ডা. আহমদ সরকার, কুষ্টিয়া
উ: ভারতের হোমিওপ্যাথি শিক্ষা অনেক উন্নত। অনেক ভাল ভাল চিকিৎসক রয়েছেন ভারতে। যে উচ্চমানের চিকিৎসকরা বাংলাদেশে তেমন একটা আসেন না। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনেক সাধারণমানের চিকিৎসককে বাংলাদেশে আসতে দেখা যায়।
বার বার গর্ভ নষ্ট হওয়ার কারণ কি? চিকিৎসা আছে কি?
-শায়লা, ঢাকা
উ. বার বার কোন মহিলার গর্ভ নষ্ট হওয়ার জন্য অনেক কারণ থাকতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে অসুস্থ ডিম্বকোষ বা শুক্রাণু, জরায়ুর গঠনের (আকারের) সমস্যা, জরায়ুতে ফাইব্রয়েড, শরীরে হরমোনের অসম অবস্থান, গর্ভাশয়ে বা যোনিপথে সংক্রমণ, মানসিক চাপ ইত্যাদি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ভাল ফল পাওয়া যায়।
প্র. পুরুষেরও কি স্তন ক্যান্সার হতে পারে?
উ. জি, পুরুষেও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। তবে তা মহিলাদের তুলনায় অনেক কম।
প্র. ডিএইচএমএস পাস নতুন চিকিৎসকদের জন্য আপনারা কোন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন কি?
-ডা. লায়লা, ঢাকা।
উ. হোমিওপ্যাথিক এডুকেশন সোসাইটি নতুন চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের নিয়মিত আয়োজন করে থাকে। দক্ষ চিকিৎসক হওয়ার জন্য আপনিও এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারেন। যোগাযোগ করতে পারেন ০১৫৫৬৬৩১৯৬৫। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জিএম ফারুক।
প্র. কিছু বাচ্চা রোগীর মধ্যে অন্যকে কামড়ানোর অভ্যাস পাই। আবার কেউ কেউ সারাক্ষণ দাঁত দিয়ে নখ কাটে। এ ধরনের অভ্যাস কি হোমিওপ্যাথিতে সমাধান করা যায়?
ডা. সামছুর রহমান, ঢাকা
উ. হ্যাঁ, এ ধরনের অভ্যাসগত সমস্যা, থাকে ম্যানিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তার হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান রয়েছে। বাচ্চাদের মধ্যে অনেকেরই নিজের হাত কামড়ানো এবং অন্যকে কামড়ানোর অভ্যাস দেখা যায়। এ ধরনের বাচ্চাদের জন্য ওষুধ হচ্ছে ‘বেলেডোনা’।
দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস বড় ছোট অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এ ধরনের অভ্যাসের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি ‘সিনা’ এবং ‘সালফার’ ওষুধ দুটি বেশি ব্যবহার করি এবং ভাল ফল পাচ্ছি। এছাড়া আর্সেনিক অ্যালবাম, বেরাইটা কার্ব, হায়েসিয়েমাস, মেডোরিনাম, ন্যাট্রাম মিউর, প্রভৃতি ওষুধ রোগীর সার্বিক চরিত্র বিবেচনায় প্রয়োগ করা যায় এবং নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করতে পালে ভাল ফলও পাওয়া যাবে।
Anorexia Nervosa-এর বিপরীত চরিত্র হচ্ছে Bulimia Nervosa। বুলিমিয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক খাবার খাওয়ার প্রবণতা। তার খাওয়া যেন শেষ হতে চায় না। যাকে চলতি কথায় বলা যায় ‘খাই খাই ভাব।’ যা পায় সে তাই খায়। তবুও তার খাবারে তৃপ্তি নাই। ১৭-১৮ বয়সের যুবক-যুবতীদের মধ্যে বুলিমিয়া বেশি দেখা যায়। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে এ সমস্যাটি বেশি। মানসিক বিষণ্নতা, একাকীত্ব জীবন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, বিভিন্ন সামাজিক দ্বন্দ্ব থেকে এ ধরনের সমস্যার উৎপত্তি। এদের জন্য মানসিক কাউন্সিলিং কিংবা সাইকোথেরাপি খুব প্রয়োজন।
অতি ওজন, অবসাদ, উদ্বিগ্নতা, চুল পড়া, ঘুম না হওয়া, পাকস্থলীর সমস্যা, কিডনি, হৃদযন্ত্র বিকল হওয়া, সন্তানাদি না হওয়ার () মত সমস্যাও এদের দেখা দিতে পারে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ‘কারসিনোসিন’ এদের জন্য ভাল ওষুধ আর্জেন্টাম নাইট, ইগনেশিয়া, ন্যাট্রাম মিউর, মেডোরিনাম, পালসেটিলা, সালফার ইত্যাদি ওষুধগুলোও ভাল কাজ করে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচনে অবশ্যই কারণ তত্ত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। কি কারণে রোগী এ ধরনের আচরণ করছে তা খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য রোগীর সূক্ষ ইতিহাস অনুসন্ধান চিকিৎসকের জন্য খুবই জরুরি।
প্র: গর্ভাবস্থায় হাত-পা ফুলে গেলে তা হোমিওপ্যাথি ওষুধ প্রয়োগে সারে কি? -ডা: সিতারা বেগম, বরিশাল
উ: প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে কি কারণে হাত-পা ফুলছে।  গর্ভাবস্থায় পায়ের গোড়ালি এবং পা ফুলা স্বাভাবিক। তবে হাত ও মুখ ফুললে তা রক্ত দুষণের লক্ষণ (Toxmia), বিশেষভাবে তার সঙ্গে মাথা ব্যথা, অস্বচ্ছ দৃষ্টি ও পেটে ব্যথা থাকতে পারে। আর এ জন্য রোগী ফিটও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মা ও শিশু দুজনই মারা যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই দেরী না করে রোগীকে হাসপাতালে পাঠানো বুদ্ধিমানের কাজ। গর্ভাবস্থায় পায়ের গোড়ালি এবং পা ফুলা থাকলে এপিসমেল ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া এপোসাইনাম, আর্সেনিক অ্যাল্বাম, এবং ডিজিটালিস, ওষুধগুলোর মধ্যে থেকে উপযুক্ত ওষুধ বাছাই করে প্রয়োগ করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন রক্তদূষনজনিত (Eclampsia) কারণে হাত-মুখ ফুলা থাকলে সে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।
প্র: আমাদের কমবয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে অনেকে খেতে চায় না। আবার অনেকে বেশি বেশি খেতে চায়। এ ধরণের সমস্যায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ কেমন কাজ করে? -ডা: আসমা, ঢাকা।
উ: বয়:সন্ধিকালে অনেক ছেলেমেয়েই খাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে থাকে। বিশেষত যুবতী মেয়েরা তাদের শরীর চিকন রাখা বা মোটা হওয়ার ভয়ে খেতে চায়না। এটা একধরণের Eating disorder. যাকে ডাক্তারী ভাষায় Anorexia Nervosa বলা হয়। একে অন্য ভাষায় সাইকোফিজিওলজিক সমস্যা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। এসব রোগীরা তাদের শরীর-চেহারা সম্পর্কে অতি সচেতন। তারা সামান্য খাওয়া খেলেও মনে করে বেশী খাওয়া হয়েছে। তাই অনেক সময় তারা ইচ্ছাকৃত বমি করে খাবার বের করে দেয়। তাদের মধ্যে মানসিক বিষাদ (ডিপ্রেশন) খিটখিটে ভাব, অস্থিরতা ইত্যাদি থাকতে পারে। অবসাদ, বিষাদ, নির্ঘুম, পাকস্থলীর সমস্যা, যৌন জীবনের প্রতি অনাগ্রহ, বিবাহিত জীবনে সন্তানহীনতা (infertility) হৃদযন্ত্র ও কিডনীর সমস্যা, হাড়ের সমস্যা (osteoporosis) ইত্যাদি কষ্টে তারা দিনযাপন করে থাকেন। এ সমস্যাটিকে এখন অনেক চিকিৎসক নিছক মানসিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। হোমিওপ্যাথি ওষুধ, আর্সেনিক, চায়না, সালফার এক্ষেত্রে ভাল ফল দেয়। কারসিনোসিন, ইগনেশিয়া, ন্যাট্রাম মিউর, স্ট্যাফিসেগরিয়া, ওষুধগুলোও ভাল কাজ করে।
প্র: প্রসবকালে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ভাল কাজ করে। কখন, কিভাবে এবং কি কি ওষুধ এ সময়ে ব্যবহার করা যায়? -ডা: সাবেরা জাহান, ঢাকা
উ: গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাস থেকেই হোমিওপ্যাথি ওষুধ নিয়মিত পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করলে নিরাপদ প্রসবের আশা করা যায়। এটাকে বলে এপ্টিনেটাল কেয়ার। কিন্তু আমাদের অনেক চিকিৎসক এ ব্যাপারে প্রশিক্ষিত না হওয়ায় গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন। প্রসূতি বিদ্যায় প্রসবকালকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম স্তর: জরায়ু মুখ খোলার জন্য সংকোচন শুরু হয় এবং শেষ হয় জরায়ু মুখ সম্পূর্ণ খুলে গেলে। প্রথম সন্তানের মায়ের জন্য এই প্রক্রিয়া ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা বা তারও বেশি স্থায়ী হয়। পরবর্তি সন্তান প্রসবের সময় এই প্রক্রিয়া ৭-১০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। অনেক সময়ে এ ‘সময়’ পরিবর্তন ঘটে থাকে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হচ্ছে, জরায়ু মুখ খোলা থেকে শিশুর জন্ম পর্যন্ত। এ পর্যায়টি শেষ হতে ২ ঘণ্টার মতো লাগতে পারে। তৃতীয় স্তরটি হচ্ছে, শিশুর জন্ম থেকে গর্ভফুল বেরিয়ে আসা পর্যন্ত।
প্রসবের প্রথম পর্যায়ে ‘‘কলোফাইলাম (পধঁষড়)’’, সিমিসিফির্ডগা (পরসরপরভঁমধ), পালসেটিলা (ঢ়ঁষংধঃরষষধ), সিপিয়া (ংবঢ়রধ), আর্নিকা (অৎহরপধ), একোনাইট (অপড়হরঃব), বেলাডোনা (ইবষষধফড়হধ), জেলসেমিয়াম (এবষংবসরঁস), নাক্সভমিকা (ঘীাঁড়সরপধ), ইত্যাদি ওষুধ অবস্থানুযায়ী প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
প্রসবের দ্বিতীয় পর্যায়ে আর্নিকা (অৎহরপধ), কারবো ভেজ, আর্সেনিক অ্যাল্বাম (অৎংবহরপ অষন), একোনাইট ন্যাপ (অপড়হরঃবহধঢ়), বেলাডোনা (ইবষষধফড়ঁধ), ক্যাম্পর , ওপিয়াম (ঙঢ়রঁস), ডিজিটালিস, প্রভৃতি ওষুধ থেকে অবস্থা বুঝে প্রয়োগ করা যায়। প্রসবের তৃতীয় পর্যায়ে আর্নিকা, কেলেওলা, স্ট্যাফিস্যাগরিয়া, প্রভৃতি ওষুধ থেকে অবস্থানুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে। প্রসব পরবর্তি অন্যান্য জটিলতায়ও বিভিন্ন ভাবে হোমিওপ্যাথি ওষুধ উপকার দিয়ে থাকে।
প্র: ‘‘ফুসফুস ক্যান্সার’’ বিষয়ে হোমিওপ্যাথির অবস্থান জানতে চাই। আমরা কি এসব রোগীর চিকিৎসা দিতে পারব? -ড: সামছুল হক, ঢাকা।
উ: ফুসফুস ক্যান্সার (Lung cancer) আমাদের মতো দেশে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ একটি রোগ, যা ৮০-৯০% হয়ে থাকে ধুমপানের কারণে। সরাসরি ধূমপানে যেমন এ রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি পরোক্ষ ধূমপানেও এর ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য যে সমাজে যত্রতত্র ধূমপানের সুযোগ রয়েছে, সে সমাজের কোনো ব্যক্তি সরাসরি ধূমপানে অভ্যস্থ না হলেও পরোক্ষ ধূমপানে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। যেমন, কোনো মহিলার স্বামী ধূমপায়ী, তাই পরোক্ষ প্রভাবে মহিলাও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। এখানে মনে রাখা দরকার যে, সরাসরি ধূমপানের চেয়ে পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। ফুসফুস ক্যান্সারে হোমিওপ্যাথি ওষুধের কার্যকারিতা বেশ ভাল। ফুসফুস ক্যান্সার বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ না থাকলে এ রোগের চিকিৎসা না দেয়াই ভাল। হোমিওপ্যাথি ওষুধ যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে না জানলে রোগীর উপকারের বদলে অপকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সাবধান।
প্র. যৌন সংক্রামক গনোরিয়া কিভাবে বুঝা যায়?
-রাসেল, ঢাকা
উ. গনোরিয়া একটি গুরুতর যৌন সংক্রামক রোগ। পুরুষদের ক্ষেত্রে কোন সংক্রামক ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গম করার ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পায়। লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, লিঙ্গ থেকে স্রাব, প্রসাবের সময় যন্ত্রণা বা জ্বালা, অণ্ডকোষে যন্ত্রণা বা স্ফীতি ইত্যাদি। এ ধরনের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হোমিওপ্যাথিতেও এর ভাল চিকিৎসা রয়েছে।
প্র. হেপাটাইনিস-বি থেকে কি ক্যান্সার হতে পারে?
-মশিউর, ঢাকা
উ. হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণের কয়েক বছর পর যকৃতের ক্যান্সার হতে পারে। নিরাপদ জীবন, পুষ্টিকর খাবার, ব্যায়াম এবং হোমিওপ্যাথি ওষুধ রোগীকে ভাল রাখতে পারে।
উত্তরদাতা : নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ
প্রশ্ন পাঠাতে : ০১৭৪৭১২৯৫৪৭, ০১৭১২৮১৭১৪৪, faccbook.com/drgmfarouq

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ