ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে ভয়াবহ লোডশেডিং জীবনযাত্রা ও ব্যবসায়ে বিপর্যয়

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী : রাজশাহীতে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং-এ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হবার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে লোডশেডিং-এর কারণে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসায়ে অচলাবস্থা দেখা দিচ্ছে। হাসপাতাল-ক্লিনিকেও দুর্ভোগ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহীতে চাহিদার মাত্র অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। গত মে মাসে রাজশাহীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছিল। চলতি মাসে এই দুর্ভোগ আবারো শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, উৎপাদন কম হচ্ছে, তাই লোডশেডিং বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীতে পিক আওয়ারে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫০/৫৫ মেগাওয়াট। নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর এলাকার পাঁচটি অঞ্চলে গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাওয়া গেছে ৪৮ মেগাওয়াট। সন্ধ্যার দিকে এই চাহিদা আরো বেড়ে যায়। সেই অনুপাতে সরবরাহ বাড়েনি।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। গভীর রাতের লোডশেডিং এর কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। অন্যদিকে বিদ্যুতের আসা যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ যাওয়ার মাত্রা বেড়েছে। দিনে রাতে অসংখ্য বার লোডশেডিং হচ্ছে। লোডশেডিং আর ভ্যাপসা গরমে বেকায়দায় পড়ছেন বৃদ্ধ, শিশু ও রোগীরা। শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এরই মধ্যে গত শনিবার থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান জেনারেটরটি বিকল হয়ে গেছে। চরম দুরবস্থার মধ্যে আছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনেরা। কলকারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহীর কাটাখালী গ্রিড থেকে জেলার পবা উপজেলার কিছু এলাকা, পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকা ও চারঘাট উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে এই এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২১ মেগাওয়াট। রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, দুর্গাপুর ও পবার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। শনিবার রাত আটটার দিকে এই এলাকার চাহিদা ছিল ৫১ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে পাওয়া গেছে ২৭ মেগাওয়াট। গতকাল দুপুরে তাদের চাহিদা ছিল ৩২ মেগাওয়াট, তার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছিল ২৫ মেগাওয়াট।
মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি কলকারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহী নগরীর বিসিক এলাকার একজন কারখানা মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মে মাসের দুর্ভোগ অনেকটা দূর হয়েছিল। কিন্তু দু’তিন দিন ধরে আবার একই দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ এক ঘণ্টা পর আসছে, এক ঘণ্টা থেকে আবার চলে যাচ্ছে। কখনো দুই ঘণ্টা থাকছে। তারা বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। নগরীর তালাইমারী এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ থাকে না। একই এলাকা বাসিন্দা নাহিদ হোসেন জানায়, বিদ্যুৎ গেলে আর আসার খবর থাকে না। কয়েক দিন থেকে এই রকম চলছে। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার নিয়ে বিশেষ করে সন্ধ্যা বা রাতে পড়ালেখায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নর্থ-ওয়েস্ট জোন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল রশিদ বলেন, রাজশাহীতে পর্যাপ্ত চাহিদা মতো বিদ্যুৎ না থাকার কারণে লোডশেডিং সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহে সমস্যা হচ্ছে। ফলে তার প্রভাব নগরীতে পড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ