ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তামাই শিল্প এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : অসহনীয় লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ এবং তাঁত শিল্পাঞ্চল তামাই এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর তামাই এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার দুপুরে এরিয়া অফিসের সামনের সড়ক বন্ধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন। পরে সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আজাহার মাহমুদের অনুরোধ ও সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেয় ভুক্তভোগীরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁত পল্লী খ্যাত বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পাওয়ার লুম (বিদ্যুৎ চালিত) তাঁত রয়েছে। এসব তাঁতে প্রতিদিন কাপড় উৎপাদনসহ তাঁত সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। অথচ তামাই এরিয়া অফিসের মাধ্যমে মাত্র দেড় মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এরপরও বৃহস্পতিবার থেকে  দিনে গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় কাপড় উৎপাদনে ধস নেমেছে। একারণে এ শিল্পের সাথে জড়িত শত শত মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। লোকশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১১ লক্ষ টাকার কাপড় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ শিল্পের সাথে জড়িতরা। একারণে ব্যবসায়িক ভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই ব্যাংক  লোন নিয়ে এ ব্যবসা চালু রাখলেও উৎপাদান ব্যাহত হওয়ায় বেচাবিক্রী বন্ধ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেনার বোঝা দিন দিন  বেড়ে যাচ্ছে। এদিকে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তা নামতে হয়েছি। তারা আরো জানান, আমরা আন্দোলন করতে চাই না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চাই। যদি বিদ্যুৎ বিভাগ আমাদের দাবি না মানে তাহলে আমাদের রুটি রুজির জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ খান, আজহার আলী, মনিরুল ইসলাম, কানন রহমান ও ডা. রুহুল আমিনসহ শতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ খান ও কানন রহমান বলেন, প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টার বেশি  লোডশেডিং হওয়ায় আমাদের তাত ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব  জেনারেটর ব্যবহার করে মেশিন চালাতে হচ্ছে। এতে কাপড়ের উতপাদন খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। সে অনুপাতে বিক্রি না হওয়ায় চরম দুর্দশায় পড়েছে ব্যবসায়ীরা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে। সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার দাবি জানাই।
এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিরাজগঞ্জ-২এর বেলকুচি  জোনাল অফিসের উপ-ব্যবস্থাপক আব্দুল বারী জানান, টেকনিক্যাল সমস্যা থাকার কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে মেরামত কাজ এগিয়ে চলছে, আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্যা  আর থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ