ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নগরীর সকল উন্নয়ন মেয়াদের মধ্যেই শেষ হবে -মেয়র নাসির

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এর দায়িত্ব গ্রহণের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সুধি সমাবেশে নগরীর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ নানা শ্রেণি ও পেশার বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 সুধি সমাবেশে সিটি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত সময়ে তার কার্যক্রমের উপর প্রামাণ্যচিত্র বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়াও ২ বছরের যাবতীয় কার্যক্রমের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি বই উপস্থিত সকলের কাছে বিতরণ করা হয়।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন,  সততা, সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছে। কাউন্সিলর চসিক এর কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে শতভাগ নাগরিক সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রয়াস চলছে। সরকার চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা লাঘবে আন্তরিক। এ লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণিত হচ্ছে। কিছুটা সময় দিন জলাবদ্ধতা নিরসন সহ কাঙ্খিত সকল উন্নয়ন নির্দ্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। মেয়র বলেন, সুধি সমাজের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পরামর্শ মতে আইনী কাঠামোর মধ্যে থেকে সচেতনতার সাথে নাগরিক প্রত্যাশা পুরণের চেষ্টা করছি। নগরবাসীকে দেয়া প্রতিটি ওয়াদা ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে পুরণ করব। এ লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
 প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, বিগত ২০ বছরের তুলনায় সকল প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে।  বর্তমানে উন্নয়ন কার্যক্রমে কেন ধরনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি নেই। উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারগণ স্বাধীনভাবে অনলাইনে আবেদন করতে পারছে। মেয়র বলেন, নগরবাসীর নিকট থেকে যে সকল খাতে পৌরকর গ্রহণ করা হয় তাদের প্রতিটি পয়সার ব্যয় সঠিকভাবে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশের স্বার্থে পরিচ্ছন্ন কাজের আমুল পরিবর্তন করা হয়েছে। বিকেল ৩ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত নগরবাসীকে নির্দ্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার আহবান জানানো হয়েছে। পরিচ্ছন্ন বিভাগ রাত ১১ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত আবর্জনা অপসারণ কাজে নিয়োজিত থাকে। মেয়র বলেন, নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নগরীকে এলইডি লাইটিং এর আওতায় এনে নগরীকে শতভাগ আলোকিত করা হবে। নগরীর অলি-গলি, রাজপথ শতভাগ কার্পেটিং করা হবে। এক ইঞ্চি জায়গাও কাঁচা সড়ক থাকবে না।
 মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়াদ শেষে পাই টু পাই ওয়াদা বুঝে নেয়ার জন্য নগরবাসীকে আহবান জানান।মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ ১৮৮০ সন থেকে চট্টগ্রাম নগরীর অধিবাসী। নাগরিক দায়বদ্ধতা আমাদের রয়েছে। নাগরিকদের সেবা দেয়ার জন্য দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে জীবন দিয়ে দায়িত্ব পালন করব। যদি দুর্নীতির আশ্রয় নিতে হয় হাসি মুখে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাব। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের কার্যক্রমের সকল তথ্য উপাত্ত সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কোন ধরনের ভুল ভ্রান্তি থাকলে তার দায় আমি নিতে প্রস্তুত আছি। জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতার ক্ষেত্রে নগরবাসী বা অন্য কারোর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা নিরসন করতে হবে। তবে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত জলাবদ্ধতা নিরসন করা অনেকাংশে কঠিন  ও দীর্ঘমেয়াদী। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সনের ড্রেনেজ মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন সহ সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি ফ্লাইওভারের পিলার দ্বারা বহদ্দারহাট ও রেল ষ্টেশন এলাকায় নালা বন্ধ করে দেয়ার কারণে জলাবদ্ধতা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সমন্বয়হীনতা ও অপরিকল্পিত কর্মকান্ডের কারণে নাগরিক দুর্ভোগ বেড়েই যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ