ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় তিনটি ফ্লাইওভার হচ্ছে

খুলনা অফিস : খুলনায় এবার তিনটি ফ্লাইওভার (ফুট ওভার ব্রিজ) নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। এ জন্য এক কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রস্তাবিত বাজেটে ধরা হয়েছে। চলমান যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেয়ার স্বার্থে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আযম। এছাড়া এবারই প্রথম পূর্ব ও পশ্চিম রূপসা বাস টার্মিনাল কেসিসির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২৫তম বিশেষ সভায় (বাজেট)  ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় কেসিসি’র ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত খসড়া বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আযম। উত্থাপিত খসড়া বাজেটের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনান্তে আগামী ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হবে মর্মে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রস্তাবিত বাজেট ৪শ’ ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ২শ’ ৬৪ কোটি ৫২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ওই বছরের সংশোধিত বাজেট ২শ’ ৬৪ কোটি ৫২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা অনুমোদন দেয় বিশেষ সভায় কাউন্সিলররা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রকৃত আয় দেখানো হয়েছে ২শ’ ৯২ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে কর বাবদ ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ধরা হয় ৩১ কোটি ৬৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় ২ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে টেন্ডার ফরম বিক্রি বাবদ ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ধরা হয় ৩ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাসফল্ট প্লান্ট হতে আয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে আয় ধরা হয় ৫ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় হয় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ট্রাক টার্মিনাল থেকে আয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ধরা হয় ১ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় ৪৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পূর্ব ও পশ্চিম রূপসা বাস টার্মিনাল হতে আয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে কোন আয় ধরা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব তহবিল থেকে মোট আয় ধরা হয়েছে ১শ’ ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ধরা হয় ৯৪ কোটি ২১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় হয় ৫৩ কোটি ৯৩ লাখ ৪ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব তহবিল বাবদ ধরা হয়েছে ১শ’ ৫৫ কোটি ১৩ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ধরা হয় ১শ’ ৩০ কোটি ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় দেখানো হয় ৯২ কোটি ৮৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রাপ্ত মোট আয় বাবদ ধরা হয়েছে ২শ’ ৮৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ধরা হয় ৩শ’ ৩৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় দেখানো হয় ১শ’ ৭১ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব তহবিলে মোট সংস্থাপন ব্যয় বাবদ্দ ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৮৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ধরা হয় ৮৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত ব্যয় ৪৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ব্যয় ধরা হয় ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪শ’ ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে ব্যয় ধরা হয় ৪শ’ ৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত ব্যয় দেখানো হয় ২শ’ ৯২ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বমোট রাজস্ব তহবিলে আয় ধরা হয়েছে ১শ’ ৫৫ কোটি ১৩ হাজার টাকা, অথচ চলতি বাজেটে এ খাতে আয় ধরা হয় ১শ’ ৩০ কোটি ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ওই খাতে প্রকৃত আয় দেখানো হয়েছে ৯২ কোটি ৮৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। রোববারের বিশেষ সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তা অনুমোদন হয়।
 কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাষ, শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, রুমা খাতুনসহ কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আযম বলেন, খুলনায় এবার তিনটি ফ্লাইওভার (ফুট ওভার ব্রিজ) নির্মাণ করা হবে। এ জন্য দেড় কোটি টাকা প্রস্তাবিত বাজেটে ধরা হয়েছে। চলমান যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেওয়ার স্বার্থে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজগুলো হচ্ছে দৌলতপুর বিএল কলেজ গেট, শিববাড়ি মোড় ও ডাকবাংলা মোড়। তিনি বলেন, রেলস্টেশন চালু হলে নগরীতে খুবই ভিড় হবে। পথচারিদের চলাচলে ভোগান্তি হবে। এসব বিষয়ে মাথায় রেখে শেষ মুহূর্তে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, বিগত দু’টি অর্থবছর আগে এ প্রকল্প বাবদ কনসালটেন্সী (পরামর্শক) নিয়োগ বাবদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। তবে এবার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ টাকা এডিপি থেকে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ