ঢাকা, মঙ্গলবার 01 August 2017, ১৭ শ্রাবণ ১৪২8, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের স্কুল ও কলেজে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালিত

চট্টগ্রাম অফিস : কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) এর উদ্যোগে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে ৮ম পে-স্কেলে ঘোষিত ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, শতকরা হারে ঘরভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অবিলম্বে বৈশাখী ভাতা প্রদানসহ বর্ধিত ৪% কর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং অবসর ভাতা ও কল্যাণ ফান্ডের জন্য প্রতি অর্থ বছরে ৬০০ কোটি টাকা ভুর্তুকি প্রদানের দাবিতে গতকাল সোমবার (৩১ জুলাই) চট্টগ্রাম অঞ্চলের আওতাধীন চট্টগ্রাম জেলা, মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ, কক্সবাজার জেলার ৩ শতাধিক স্কুল ও কলেজে দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
কর্মবিরতি পালনকালে প্রাত্যহিক সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি দাবি সমূহের যৌক্তিকথা তুলে ধরে ম্যানেজিং কমিটি, গর্ভনিং বডি, শিক্ষক পরিষদ ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেছে স্ব স্ব বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষক পরিষদ।
সভায় বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যর্থতা ও সরকারি আমলাদের স্বৈরাচারি মনোভাবকে দায়ী করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজ। গতকাল সোমবার দিনব্যাপী স্বর্তঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আগামী দিনের কঠোর আন্দোলনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ।
সীতাকুন্ডে  স্কুল মাদরাসার শিক্ষক কর্মবিরতি পালন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে সোমবার সীতাকুণ্ডের সকল স্কুল মাদরাসার শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছে। শেখের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সীতাকুণ্ড শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ আবু বকর জানান তারা  কোন ক্লাশ করেনি। ছাত্র ছাত্রীরা ঘুরাফেরা করে কয়েক ঘন্টা পর তারা বাড়ি চলে যায়। এভাবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে একই অবস্থা। সীতাকুণ্ড শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুল্লাহ জানায় সারা দেশের শিক্ষকরা এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারী করার দাবিতে আন্দোলন করছে। সীতাকুণ্ডেও তা অব্যাহত রয়েছে। আজ সীতাকুণ্ডের সকল বেসরকারী স্কুল মাদরাসায় কোন ক্লাশ হয়নি। শিক্ষকরা পালন করছে কর্মবিরতি।শিক্ষক নেতৃবৃন্দরা বলেন, জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে শিক্ষা। জাতীয় শিক্ষার ৯৫ ভাগ দায়িত্ব পালন করেন বেসরকারি শিক্ষকরা। রাষ্ট্রের এই গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও বেসরকারি শিক্ষকরা আজ বৈষম্যের শিকার। তারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সব সুযোগ সুবিধা সরকারি শিক্ষকদের জন্য দিচ্ছেন। এই বৈষম্যের কারণে শিক্ষার কাঙ্খিত লক্ষ্য ও উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।সমযোগ্যতা, সম অভিজ্ঞতা ও সমদায়িত্ব পালনকারী বা একই সিলেবাস পাঠদানকারী বেসরকারি শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের অনুরূপ বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন চালাতে ভীষণ কষ্টের সম্মুখীন।নেতৃবৃন্দ একই সাথে সরকারি শিক্ষাকদের অনুরূপ একই সিলেবাসে পাঠদানকারী বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, বৈশাখী ভাতা, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা, টাইম স্কেল, পূর্ণাঙ্গ পেনশন, পদোন্নতি এবং যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী সকল নন এমপিও শিক্ষকদের এমপিও প্রদানসহ ১১ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ