ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 August 2017, ১৯ শ্রাবণ ১৪২8, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৫৭ ধারায় মামলার আগে পুলিশ সদর দপ্তরের আইন শাখার পরামর্শ লাগবে

 

স্টাফ রিপোর্টার : তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি ) আইনে মামলা করার আগে পুলিশ সদর দফতরের আইন শাখার পরামর্শ নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইজিপির সভাপতিত্বে পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসান বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে দেশে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই সময় আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যে, ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করতে হলে পুলিশ সদর দফতরের আইন শাখার পরামর্শ নিতে হবে। সারাদেশে এ নির্দেশনা পৌঁছে দেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায় , তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা রুজুর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের পরামর্শ নিতে হবে। গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে এ কথা জানানো হয়। আদেশে জানানো হয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনয়ন এবং নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিতকল্পে এ ধারায় মামলা রুজুর পূর্বে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ৫৭ ধারায় সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্তে মামলা রুজুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অভিযোগ সম্পর্কে কোনরূপ সন্দেহের উদ্রেক হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি এন্ট্রিকরত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে যাচাই বাছাই করতে হবে। মামলা রুজুর পূর্বে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আইন শাখার সাথে আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং কোন নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

গত ছয় মাসের ব্যবধানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই ৫৭ ধারার। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ১৯টি মামলা হয়েছে একই ধারায়।

সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারিতে আইসিটি আইনে মামলা হয়েছে ৪২টি। জুনে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৯। এই ছয় মাসে মোট মামলা হয়েছে ৩৯১টি। এসব মামলায় আসামী ৭৮৫ জন, যাদের ৩১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই ৩৯১টি মামলার বাইরে একই সময়ে সাইবার অপরাধের ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯৩টি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৮৫টি মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার খুলনায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার মামলায় আবদুল লতিফ মোড়ল নামের এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেসবুকে একটি ছাগলের মৃত্যুর খবর শেয়ার করায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের মানহানি হয়েছে এই অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদীও আরেক স্থানীয় সাংবাদিক সুব্রত ফৌজদার। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৯ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হলো। তাদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন স্থানীয় মন্ত্রী-সাংসদদের ঘনিষ্ঠজনেরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ