ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 August 2017, ১৯ শ্রাবণ ১৪২8, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রামপাল প্রশ্নে সরকার নৈতিক-বৈজ্ঞানিকসহ সকল যুক্তির ভিত্তি হারিয়েছে ॥ অবিলম্বে প্রকল্প বাতিল করুন

স্টাফ রিপোর্টার : ইউনেস্কোর আপত্তি সংক্রান্ত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা দিয়ে রামপাল প্রশ্নে সরকার তার নৈতিক, বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক-সকল যুক্তির ভিত্তি হারিয়েছে বলে মনে করছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিএসএস)। একই সাথে তারা সারাদেশ ও বিশ^ জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক অবিলম্বে সুন্দরবন সংলগ্ন রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল বা স্থানান্তর করতে সরকারের কাছে জোর দাবি পূণর্ব্যক্ত করেছে। 

গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারন সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ফের তাদের দাবির কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিটি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল ও রাশেদা কে চৌধুরী, প্রবীণ লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, এনজিও ব্যক্তিত্ব খুশী কবির ও এম শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বদরুল ইমাম ও অধ্যাপক এম এম আকাশ, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাম রাজনীতিক রুহিন হোসেন প্রিন্স, পরিবেশ আইনবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং পরিবেশকর্মী ডা. মো. আব্দুল মতিন ও শরীফ জামিল এই ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও সুন্দরবন রক্ষা সামাজিক কর্মীর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত ২ থেকে ১২ জুলাই সময়ে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম সভায় সুন্দরবনের সন্নিকটে প্রস্তাবিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৩০ জুলাই প্রকাশিত হয়। এগারোটি ধারায় প্রকাশিত এই সিদ্ধান্তের ৪র্থ ধারায় সুষ্পষ্ট উল্লেখ আছে যে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপর রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে একটি কৌশলগত পরিবেশ প্রভাব সমীক্ষা সম্পন্ন করার আগে কোন ধরণের বড় শিল্প বা অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না বা অগ্রসর হওয়া যাবে না। 

কমিটি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে, এ বিষয়টি নিয়ে সরকার নানা প্রকার বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা আড়াল করার চেষ্টা করে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে চাচ্ছে। তারা বলছে, ইউনেস্কোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোথাও সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ইউনেস্কোর আপত্তি তুলে নেবার কোন বক্তব্য নেই। বরং ইউনেস্কো মনিটরিং মিশন রিপোর্টে উল্লেখিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি-বায়ু দূষণ, জাহাজ চলাচল-ড্রেজিং, ভাল পানি অপসারণ জনিত ক্ষতিকর প্রভাব পূণর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং সরকারকে বিষয়সমূহের পরিবেশগত মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন করে ‘কৌশলগত পরিবেশ প্রভাব’ প্রতিবেদনের (এসইএ)’র সাথেই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির কাছে মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য কমিটির ৪৩তম সভায় পর্যালোচনা করা হবে বলেও ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইউনেস্কো কর্ত্তৃক দাবিকৃত এসব সমীক্ষা, যোগ্য ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছে সুন্দরবন রক্ষা কমিটি। 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইউনেস্কোর প্রতিবেদন ও ৪১তম সভার সিদ্ধান্ত প্রমান করেছে, রামপাল প্রশ্নে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, পরিবেশকর্মী, নাগরিকসমাজ ও আপামর জনতার উদ্বেগ ও এটি সুন্দরবনের পাশ থেকে সরিয়ে নেয়া বা বাতিলের জোর দাবিটি পূরোপূরিই সঠিক ছিল এবং রামপাল প্রশ্নে সরকার তার নৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং এমনকি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক - সকল যুক্তির মূল ভিত্তি হারিয়েছে। অতএব আমরা সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংস্থাসমূহের পক্ষ থেকে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল প্রকল্প নির্মান স্থগিত, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি প্রতিশ্রুত আনুগত্য বজায় রাখা এবং পাশাপাশি আর বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিয়ে বাংলাদেশ ও সারাবিশে^র জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক দ্রুত রামপাল প্রকল্প বাতিল বা স্থানান্তরের জন্য আমরা সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি পূণর্ব্যক্ত করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ