ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 August 2017, ১৯ শ্রাবণ ১৪২8, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাবির প্রশাসনিক ভবন টানা তৃতীয় দিন অবরুদ্ধ

সাভার সংবাদদাতা : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল বুধবার সকাল থেকে ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গত সোমবার থেকে চার দফা দাবি আদায়ে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের প্রথমদিন জাবি শিক্ষক সমিতির নেতারা আলোচনার জন্য আন্দোলন বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। তবে কোনো সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, চার দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষিত প্রশাসনিক ভবন লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। ওই চার দফার মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থীদের নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অবৈধ তদন্ত কমিটি বাতিল, পুলিশি হামলার বিচার ও নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন। এদিকে শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করবে না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অপরদিকে, মামলা প্রত্যাহার না হলে লাগাতার প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখবে শিক্ষার্থীরা। দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অবরোধের কারণে গতকাল বুধবারও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী কেউই প্রশাসনিক ভবনে অফিস করতে পারেন নি। এদিকে মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
আন্দোলনের সংগঠক ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি ইমরান নাদিম বলেন, সিন্ডিকেট এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না পর্যন্ত আমাদের এই লাগাতার অবরোধ চলবে। এদিকে ক্যাম্পাসে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভিসির বাস ভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এবিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘তারা (আন্দোলনকারীরা) সম্ভবত লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ধরে রাখতে চাচ্ছে। এটা তাদের অশুভ পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। সেটা যদি তারা না মানে, আর তাদের ব্যানারে যদি সব সময় লেখা থাকে; মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তাহলে আমরা সেটার উপরে দাড়িয়ে আসলে কিন্তু কোন সমাধান করতে পারবো না।’
বুধবার সন্ধ্যায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাস ভবনের ভিতরে চলছে জরুরী সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে বাস চাপায় জাবির দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় প্রায় ৬ ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে জাবি শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেলে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ছুঁড়ে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনে গিয়ে ভাঙচুর ও কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয়সহ মোট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে জাবি প্রশাসন। ওই মামলা প্রত্যাহরের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তখন জাবি প্রশাসন সম্মানজনক উপায়ে মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলে অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা মামলা প্রত্যাহারের ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয়। ওই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ার গত ৩০ জুলাই মশাল মিছিল ও ৩১ আগস্ট থেকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ