ঢাকা, সোমবার 20 November 2017, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ৩০ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চেহারা শনাক্ত করবে ক্যামেরা!

অনলাইন ডেস্ক : চলতি আগস্ট থেকে বার্লিনের এক ট্রেন স্টেশনে শুরু হচ্ছে বিশেষ ক্যামেরা দিয়ে চেহারা সনাক্ত করার পরীক্ষা৷ কিন্তু এ নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক৷ পরীক্ষা সফল হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা কি হুমকির মুখে পড়বে?

কে কাকে দেখবে?

বিশেষ এই নজরদারি ক্যামেরা কেমন কাজ করে, জানতে প্রাথমিকভাবে বেছে নেয়া হয়েছে বার্লিনের স্যুডক্রয়েৎস ট্রেন স্টেশনকে৷ জার্মান রেল সংস্থা ডয়চে বানের সাথে মিলে যৌথভাবে এই পরীক্ষা চালাবে জার্মান ফেডারেল পুলিশ, ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷

প্রায় ২৫০ স্বেচ্ছাসেবক এই কাজের জন্য নাম লিখিয়েছেন৷ ক্যামেরা যাতে চেহারার সাথে মেলাতে পারে, সেজন্য প্রত্যেকের নাম ও দুই কপি করে ছবি জমা করা হয়েছে একটি ডেটাবেসে৷

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?

প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রবেশমুখ এবং সিঁড়ি দিয়ে কারা আসা-যাওয়া করে দেখার অন্য তিনটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে৷ একটি কম্পিউটার এই তিন ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজের সাথে ডেটাবেসে থাকা ছবির চেহারা মিলিয়ে দেখবে৷ স্বেচ্ছাসেবকরা এই নির্দিষ্ট এলাকা দিয়েই যাওয়া আসা করবেন৷ সবাইকে একটি করে ট্রান্সমিটার দেয়া হয়েছে, যাতে তারা যখন প্ল্যাটফর্মে আসেন, তখনই ক্যামেরা মনিটরিং শুরু করতে পারে৷

এই প্রযুক্তির পরীক্ষা কেন দরকার?

সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ ক্যামেরা, বলছে পুলিশ৷ তারা বলছে, এই নতুন প্রযুক্তি অপরাধ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে৷ চলচ্চিত্রে অনেক আগে থেকেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধী খুঁজে বের করার গল্প দেখানো হলেও, বাস্তব জগতে এই প্রযুক্তি কখনও চালু হয়নি৷

তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই প্রযুক্তির ভুল হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে বেশি বিচলিত৷ তাদের মতে প্রতি ১০ লাখে একটি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা এতে থেকেই যায়৷ শহরজুড়ে প্রতিদিন গণপরিবহণে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ যাতায়াত করে৷ ফলে প্রতিদিন অন্তত তিনজন ব্যক্তি ভুলভাবে শনাক্ত হওয়ার আশংকা করছেন তারা৷

তথ্যের গোপনীয়তা কি থাকছে?

ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার সমর্থকরা বলছেন, চেহারা শনাক্ত করার এই প্রযুক্তি বেআইনি৷ জার্মানির ফেডারেল ডেটা প্রোটেকশন কমিশনার আন্দ্রে ফসহফ এই প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহার মেনে নিলেও এর ‘মৌলিক বিষয়ে আপত্তির' কথাও বলছেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘যদি সত্যিকার অর্থেই এই ব্যবস্থা চালু হয় তাহলে মৌলিক অধিকারের ওপর একটি বড় হস্তক্ষেপ হবে এটি৷''

‘‘যে কোনো স্থানে পরিচয় গোপন করে চলাফেরা করার অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে এতে, ''বলছিলেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির ইন্টারনেট ও ডেটা প্রোটেকশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার লাউর৷ ‘‘সে তুলনায় এর থেকে যে সুবিধা পাওয়া যাবে, তার পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায়৷''

পরীক্ষার পরের ধাপ কী?

কর্তৃপক্ষ বোঝার চেষ্টা করছে, ক্যামেরা এবং কম্পিউটার কতটা নির্ভুলভাবে মানুষের চেহারা শনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে৷ পরবর্তী ব্যবহার অনেকটাই নির্ভর করছে কতটা সফল হবে এই প্রযুক্তি৷

বার্লিনের বিভিন্ন স্টেশনে এরই মধ্যে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সংখ্যা বাড়াচ্ছে ডয়চে বান৷ দেশজুড়ে প্রায় ৬ হাজার ক্যামেরা ৮০ শতাংশ যাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করে৷ ক্যামেরার নেটওয়ার্ক শহরতলীতে ছড়িয়ে দিতে কয়েক মিলিয়ন ইউরো বাজেট প্রয়োজন৷ রেলস্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাবওয়ে এবং বাসস্ট্যান্ডেও এরই মধ্যে কাজ করছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা৷

প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ

যেসব ব্যক্তি ‘বিপজ্জনক বা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে', তাদের ‘চিহ্নিত ও তালিকাবদ্ধ' করাই এই প্রযুক্তির কাজ, দাবি জার্মান কর্তৃপক্ষের৷ তবে এর অন্য ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না৷ স্টেশন, ট্রেন ও এর আশেপাশে যারা গ্র্যাফিতি শিল্পী আছেন, তাদের আটকাতেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগাতেই পারে ডয়চে বান৷

শুধুমাত্র ডেটাবেসে সংরক্ষিত ছবির সাথেই ফুটেজ মিলিয়ে দেখতে পারে এই প্রযুক্তি৷ এখন শুধু স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর পরীক্ষা চালনো হলেও, পরবর্তীতে সন্দেহভাজনদের ওপর চালানো হবে এ নজরদারি৷

কিন্তু চাইলেই কোনো দেশের সরকার এই ডেটাবেসে যে কোনো তথ্য মজুদ করতে পারবেন৷ এর ফলে ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত জীবনের ওপর অন্যান্য হস্তক্ষেপেরপাশাপাশি যোগ হতে পারে নতুন ধরনের নজরদারি৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ