ঢাকা, শুক্রবার 04 August 2017, ২০ শ্রাবণ ১৪২8, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মধ্য শ্রাবণের বর্ষণে রাজধানী ঢাকা ডুবলেও খরায় পুড়ছে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল

 

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দিনাজপুর : মধ্য শ্রাবণের এই সময়ে যখন পানিতে থৈ থৈ করার কথা মাঠ-ঘাট-প্রান্তর, ঠিক তখন বৃষ্টির দেখা নেই ধানের জেলা দিনাজপুরসহ উত্তরের কোন এলাকায়। যেন চৈত্রের খরায় পুড়ছে মাঠ! ভরা আমন মৌসুমের এই সময়ে বৃষ্টি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের চাষিরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও দিনাজপুরসহ উত্তরের এ অঞ্চলে দেখা নেই কাঙ্খিত বৃষ্টির। তবুও চাষিরা বসে নেই, সেচ দিয়ে কষ্ট করে হলেও আমন রোপণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে সেই চেষ্টায় বাধ সাজছে বিদ্যুৎ। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকছে এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। বিস্তৃণ আবাদ ভূমি নিয়ে তাই উত্তরের কৃষকরা এখন হা-হুতাশ করছে। আমন রোপন করতে কৃষকরা এখন ফরিয়াদ করছে-আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে।

জানা গেছে, অতিবর্ষনে ডুবে যায় রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ এলাকা। ৩০ মিনিটের ভারী বর্ষণে সব এলাকার সড়ক হাটু পানিতে তলিয়ে যায়। তীব্র পানিবদ্ধতায় বিপাকে পড়ে নগরবাসী। সরকারের মন্ত্রীরাও বলছেন, সচিবালয়ে এতো পানি তারা জীবনেও দেখেননি। কিন্তু আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য- যেখানে বৃষ্টি প্রয়োজন সেই উত্তরের জেলা দিনাজপুরসহ এ অঞ্চলে দেখা নেই কাঙ্খিত বৃষ্টির। বৃষ্টির জন্য এ এলাকার কৃষককূল ফরিয়াদ করছে-আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে... বলে। এই চরম মহুর্তে বৃষ্টির জন্য কৃষকের আমন রোপন চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। অনেক কৃষক সেচ দিয়ে জমি চাষের চেষ্টা করলেও বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে তাও সঠিকভাবে করতে পারছেন না। ভরা আমন মৌসুমের এই সময়ে ধান রোপন করতে না পারলে তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় রূপ নেবে। তাই অনেকটা দিশেহারা কৃষককূল। বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পিক আওয়ারে যে চাহিদা রয়েছে তার অর্ধেকের কম সরবরাহ হচ্ছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ ৪ ভাগের ১ ভাগ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণে ঘন ঘন লোড শেডিং হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, আকাশে মেঘ জমলেই ঝড় আসুক আর না আসুক বিদ্যুৎ সঞ্চালন উধাও হলে ফিরে আসে না নির্দিষ্ট সময়ে। বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে চাষসহ বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকান্ড। ফলে সম্মুখ ক্ষতির শিকার হচ্ছি আমরা চাষিরা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা।

দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন

দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়ম ও দুর্ণীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। 

মানববন্ধন কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই করার কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। আবার  মুক্তিযোদ্ধা না এমন ব্যক্তিরা যাচাই-বাছাই কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত ছিল, যা বিধান পরিপন্থি এবং সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি। পাশাপাশি যেসব মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে এমন ২৬৯ জনকে যাচাই-বাছাই বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, অনেকেই রয়েছেন যারা রাজাকার। অথচ তারা ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙ্গিয়ে মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন, লজ্জাকর ব্যাপার। অথচ যাচাই-বাছাই বোর্ড এ ব্যাপারে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেনি। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, লাল মুক্তিবার্তা বইটিকে মুক্তিযোদ্ধাদের হাদিস/আসমানি কিতাব বা দলিল বলে গণ্য হলেও এই বইটিতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে এবং অনেক ভারতীয় ভলিয়মধারী প্রকৃত এফএফ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ পড়েছে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা জেলার ১৩ উপজেলার মনগড়া যাচাই-বাছাই বাতিল করা, উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আলাদা গেজেট প্রকাশ করা, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ভারতীয় তালিকা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন গেজেট প্রকাশ, পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন না দেয়াসহ ১৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এসব কর্মসূচীতে মুক্তিযোদ্ধা অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু হায়াত কুদরতে খোদা, মুক্তিযোদ্ধা সহদেব চন্দ্র, কামরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ