ঢাকা, শনিবার 05 August 2017, ২১ শ্রাবণ ১৪২8, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ ॥ জীবনযাপনের ছক ওলট-পালট

সাদেকুর রহমান : গত বৃহস্পতিবার ভারি বর্ষণের সতর্কবার্তা ছিল না আবহাওয়া অধিদফতরের, অথচ ওইদিন দুপুরের পর মাত্র তিন ঘন্টায় রেকর্ড ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ঢাকায়। এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। সংশ্লিষ্ট অফিসের পূর্বাভাসকে ‘ভূয়া’ প্রমাণ করে টানা তুমুল বারিপাত কিংবা কাঠ ফাটা রোদের দাপট পরিলক্ষিত হচ্ছে। শুধু ভারি বা অতি ভারি বর্ষণ নয়, চলতি বছর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অস্বাভাবিক মাত্রায় বজ্রপাত, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধসের মতো একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এসব কারনে মানুষের জীবনযাপনের ছক অনেক ওলট-পালট হয়ে গেছে। 

কিন্তু এর কারণ কী? প্রকৃতির এই বৈরী আচরনকে গবেষক-বিজ্ঞানীরা জলবায়ূর পরিবর্তন জনিত প্রভাব বললেও, এর সাথে একমত নন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। অধিদফতরের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ওই সিদ্ধান্তে আসতে গেলে অন্তত ৫০ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে। 

আবহাওয়া অধিদফতরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, এক মওসুমে ঘন ঘন এমন আবহাওয়াকে তারা ‘ক্লাইমেট ভেরিয়েবিলিটি’ হিসেবে দেখছেন। প্রকৃতির এই ‘অস্বাভাবিক আচরণকে’ তারা বলতে চাইছেন স্বল্পমেয়াদী ‘ক্লাইমেট ফেনোমেনা’। 

জুন মাসে দেশে স্বাভাবিক যে তাপমাত্রা থাকার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি তাপে অতিষ্ঠ ছিল সাধারণ মানুষ। জুলাই মাসের শুরুতেও ছিল না বৃষ্টির দেখা। আবার জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে টানা ৮-৯ দিন ধরে বৃষ্টিতে নগর-বন্দর পানিতে টুইটুম্বুর। চলতি মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। 

আবহাওয়া বিভাগের হিসাব বলছে, এই জুলাইয়ে দেশের সর্বত্র স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এ মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৫৫৬ মিলিমিটার, অথচ মাসের ৫ দিন বাকি থাকতেই বৃষ্টিপাত হাজার মিলিমিটার ছাড়িয়েছে। যার কারণে চট্টগ্রাম এখন পানির নিচে অনেকটাই তলিয়ে গেছে। সিলেট বিভাগে জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ৪৫৬ মিলিমিটার। অথচ মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাত হাজার মিলিমিটার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে জুলাইয়ে বৃষ্টিপাতের এই চিত্র স্বাভাবিক নয়। তবে কয়েক বছর ধরে এমনটাই হচ্ছে। এখন শুধু যে একেক সময় একেক অঞ্চলে বৃষ্টি হয়, তা নয়। জুলাইয়ে যে রকম বৃষ্টি হওয়ার কথা, তা হয়তো হচ্ছে সেপ্টেম্বরে। হয়তো জুনের শুরুতে প্রচন্ড তাপ, পরক্ষণেই আবার টানা বৃষ্টি। তারপর একটানা সাত দিন কিংবা ১০ দিন একেবারে বৃষ্টিহীন, খড়খড়ে।

এ বছর এপ্রিল ও মে মাসে ‘মারুথা’ ও ‘মোরা’ নামে দুটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এর বাইরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকবার, তার মধ্যে দুই দফা নিম্নচাপে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ে ভূমিধসে মৃত্যু হয় দেড় শতাধিক মানুষের। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবার। বর্ষা মওসুমের শুরুতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের মানুষকেও ভুগতে হয়েছে। আগস্টেও বড় বন্যার আভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস। অকাল বন্যাকবলিত মানুষগুলোতে আকষ্মিক দুর্যোগের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে। 

বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর গত বছর তিনেক ধরেই বেড়ে গেছে। আর ভারি বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতায় নাকাল হতে হচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঢাকায় তিন ঘণ্টার ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ফের ডুবে যায় ঢাকা মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা। অপ-উন্নয়ন, পয়ঃনিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়া, খালগুলো দখল ও আশপাশের নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানিজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। স্কুল-কলেজ বা অফিসগামী লোকটি আগে যেতো যে রকম পরিবহনে করে, বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেলে তাকে হয় পানি ভেঙ্গে কিংবা নৌকায় যেতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় ধানসহ অন্যান্য কৃষি ফসলের ক্ষতি হওয়ায় এ বছর চালের পাশাপাশি শাকসবজির দামও অনেক বেড়ে গেছে। দামের উর্ধ্বগতির কারনে নি¤œ বিত্ত বা সীমিত আয়ের মানুষকে খাওয়া-দাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বৃহস্পতিবারের ওই বৃষ্টি স্বল্প সময়ের বিবেচনায় গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৪ সালের ৬ আগস্ট ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছিল ১৩৪ মিলিমিটার। এর পর ২০০৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় তিন ঘণ্টায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড ছিল।

এবার বর্ষার শুরুতে গত ১২-১৩ জুন ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় ঢাকায়। ১৩ জুলাই ১০৩ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টি হয়। ২৬ জুলাই রাতে মাত্র ৬৭ মিলিমিটারের বৃষ্টিতে নগরবাসীকে দিনভর পানিজট ও যানজটে ভুগতে হয়। রাজধানীর বাইরে ২০ জুলাই সীতাকুন্ডে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৪ মিলিমিটার; রাঙামাটিতে ১২ জুন ৩৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

আবহাওয়াবিদ মান্নান বলেন, এবার নির্দিষ্ট এলাকায় খুব বেশি বৃষ্টি দেখা গেল। এটাকে ‘শর্টলাইফ ক্লাইমেট ফেনোমেনা’ বলা হয়। এ ধরনের আবহাওয়ায় আকস্মিক দুর্যোগ নেমে আসে, জনজীবনেও চরম ভোগান্তি হয়। গত কয়েক বছর ধরে এমন আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতিকে দুর্যোগ বলতে হলে ৫০ বছরের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা বাড়ছেই : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই এখন ঢাকা-চট্টগ্রামে পানিবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। রাজপথে চলাচলে ব্যবহার করতে হচ্ছে নৌকা। চট্টগ্রামের পর ঢাকায়ও প্লাবিত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নাগরিকদের বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় পানিকবলিত মানুষের পাশে লাইফবোট নিয়ে দাঁড়ায় ফায়ার সার্ভিস বিভাগ। কিন্তু ১৯৫৬ সালে বৃষ্টির পরিমাণ ৩০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেলেও সে সময় এতোটা দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা পোহাতে হত না। পানির প্রাকৃতিক আধার সমূহ বিনষ্ট তথা খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং জনসংখ্যা ও শহরের আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এখন মানুষকে বেশি ভুগতে হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। 

স্বাধীনতার আগে-পরে ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় তিনশ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির রেকর্ড রয়েছে। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তার আগে ১৯৫৬ সালের ২৪ জুলাই ৩২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশে বর্ষায় ভারি বর্ষণ হবেই। আগে নগরে বৃষ্টি পানি নেমে যাওয়ার সব পথ সচল ছিল, তখন সমস্যা হয়নি। এখন পানি আটকে থাকাকে দুর্যোগ ভাবা ঠিক হবে না।

তবে স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবার আগাম অতিবৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালি আগামী দিনে আরও বাড়বে। দেশে আবহাওয়ার যে নিয়মতান্ত্রিকতা ছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেটি ভেঙে পড়েছে। কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়া তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছে না, বরং বাড়াচ্ছে। তাদের ভোগ-বিলাসের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়তই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এ কারণে দুই মেরুতে জমাট বরফ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এর প্রভাবে আগে যেসব জায়গায় জোয়ারের পানি উঠত না, সেসব অঞ্চল এখন প্লাবিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম তার ভুক্তভোগী।

অবশ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বলেন, মহানগরের নানা সমস্যার কারণে আজ নাগরিকদের পানিবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রাজধানীতে খাল নেই, রাস্তাঘাটে কাজ চলছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভালো নয়। ঢাকা-চট্টগ্রামে যা ঘটছে তাতে দুর্ভোগ হচ্ছে, আর সেটা দুর্যোগের মতো মনে হচ্ছে।

তবে ভূমি ধস ও হাওরের আকস্মিক বন্যায় আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন তিনি। তার মতে, রাঙামাটিতে এমন ভূমিধস ৫০ বছরেও ঘটেনি; হাওরে মার্চ-এপ্রিলের আকস্মিক বন্যাও অনেকদিন পর দেখা গেল। সুনামগঞ্জে বন্যার সময় যেন এগিয়ে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এটা হচ্ছে কিনা তা গবেষণার মাধ্যমে উঠে আসবে আশা করি। এবারের অভিজ্ঞতা থেকে আগামীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে বলে রিয়াজ আহমেদ জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দেশের শতাধিক স্থানে পানির স্তরের পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের পরিমাণও পরিমাপ করে। পাউবোর মতে, বৃষ্টিপাতের ধরন আর আগের মতো নেই। যখন যতটা হওয়ার কথা তখন ততটা হয় না। অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়। বাকি সময় থাকে বৃষ্টিহীন।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, বৃষ্টিপাতের ধরন বদলাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এটা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে বলে অনেকে সেটা বলতে দ্বিধা করছেন। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এটা আরো বদলাবে। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা সবার জানা জরুরি। কিন্তু কতজন বিষয়টি জানেন?

আবহাওয়া প্রাণঘাতি হয়ে উঠার শংকা : অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিউিট অব টেকনোলজির (এমআইপি) একদল গবেষক সম্প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান গতিতে চলতে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানেও একই পরিস্থিতি হবে। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভবিষ্যতের সব থেকে মারাত্মক ঝুঁকি হলো- তাপদাহ ঘনীভূত হয়ে থাকে গঙ্গা ও সিন্ধু অববাহিকায় অবস্থিত ঘনবসতিপূর্ণ কৃষি এলাকাগুলোতে। এতে করে এই অঞ্চলের ১৫০ কোটি নিবাসী ঝুঁকিতে পড়বেন। আশঙ্কা রয়েছে তাদের জন্য নিজেদের অঞ্চলে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

গত বুধবার প্রকাশিত এ গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে তাপ ও বাতাসের আদ্রতার মারাত্মক মিশ্রণে অরক্ষিত ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টির নেপথ্যে অন্যতম কারণ কার্বন নির্গমন প্রতিহত করতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া না হলে তা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এমআইটির অধ্যাপক এলফাতিহ এলতাহির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিমূর্ত কোনো ধারণা নয়, এটা ঝুঁকিতে থাকা বহুসংখ্যক মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে। যেভাবে চলছে সেটা অব্যাহত থাকলে মারাত্মক তাপদাহ সৃষ্টির ঝুকি থাকবে।

এমআইটির গবেষণায় বাতাসের আর্দ্রতা, মানব শরীর ঠাণ্ডা হওয়ার সক্ষমতা এবং তাপের মাত্রা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই তিনটি ফ্যাক্টর একসঙ্গে ‘ওয়েট-বালব তাপমাত্রা’ হিসেবে পরিচিত। একটি থার্মোমিটার ভেজা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে বাতাসের তাপমাত্রা রেকর্ড করার মাধ্যমে এটা মাপা হয়ে থাকে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এই পরিমাপ দিয়ে পানি কত সহজে বাষ্পীভূত হয় তা অনুমান করতে পারেন। 

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পযন্ত ওয়েট-বালব তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে। তাপমাত্রা এর বেশি হলে, ঘর্মাক্ত অবস্থা থেকে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হিট স্ট্রোক বা মৃত্যুও হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানে তীব্র তাপদাহে সাড়ে তিন হাজার মানুষ মারা গেছেন।

সম্প্রতি আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জীবন বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। ১৯৫০ সালের পর বন্যার কারণে যত মানুষ হতাহত হয়েছে তার বেশির ভাগই ঘটেছে বাংলাদেশ, চীন ও ভারতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ