ঢাকা, শনিবার 05 August 2017, ২১ শ্রাবণ ১৪২8, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফের আন্দোলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : রাতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে ফের আন্দোলনে নেমেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন। এ নিয়ে টানা ছয় দিন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। গতকাল কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের পাঁচটি পরীক্ষা, ক্লাস ও উপস্থাপনা ছিল। কিন্তু কোনো পরীক্ষা বা ক্লাস হয়নি। 

আন্দোলনের সমন্বয়ক শেখ নোমান পারভেজ বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসনকে বলা হয়েছিল, তদন্ত চলাকালীন সময় রেজিস্ট্রারকে তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়র প্রশাসন তা করেনি। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

নোমান বলেন, গতকালের মতো আন্দোলন কর্মসূচি শেষ করা হয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রারকে বরখাস্ত না করলে আজ শনিবার আবারও আন্দোলনে নামবেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখপাত্র কামরুন নাহার ডানা বলেন, রেজিস্ট্রার আফজালের অধীনে আমরা কোনও পরীক্ষা দেবো না। তাই আবারও আন্দোলনে নেমেছি। দাবি না মানলে আজ আবারও আন্দোলনে নামবো।

এদিকে শুক্রবার আন্দোলন কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণার পরে গণমাধ্যমকে পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে ৪ দফা দাবির কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ শাহুল আফজাল, সহকারী রেজিস্ট্রার মাহি উদ্দিন এবং অফিস অব কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজের সিনিয়র অফিসার জাভেদ রাসেলকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টির নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা, যৌন নিপীড়নের অভিযোগটি তদন্ত করতে হবে এবং তদন্ত চলাকালে ফাইনাল পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।

গত রোববার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহমুদ শাহুল আফজাল ও সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাহিউদ্দিন ও জাভেদ রাসেলের বিরুদ্ধে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহম্মেদকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

সাড়ে ৮ ঘণ্টার অনশন : এ দিকে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা শেষ না হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ নিরাপত্তাকর্মীরা ছাত্রীদের গায়ে বাজেভাবে হাত দিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করে। অনশনকারী শিার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের ইয়াসিনুর রহমান, আইন বিভাগের কামরুন নাহার ডানা, ইরফানুল রহমান, সাদিয়া আফরিন, শেখ নোমান এবং ম্যাথমেটিকস ও ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের আকাশ আহমেদ। অনশনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, যতক্ষণ না বিচার হবে, ততক্ষণ আমাদের অনশন চলবে।

চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করলে তাতে সমর্থন জানান বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা। 

অনশনরত শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের দাবিতে অনশন, তবুও চুপ প্রশাসন’, ‘ বোনের গায়ে হাত কেন? বিচার চাই, জবাব চাই’, ‘অনশন অনশন, বিচার চাই, বিচার চাই’ প্রভৃতি শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান ও অনশনে অংশ নেয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ করায় ও আশ্বাস দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা সাড়ে আট ঘণ্টা পর অনশন ভাঙেন।

১ আগস্ট আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মের বাইরে বল প্রয়োগের অভিযোগের ব্যাপারে ‘যৌন হয়রানিবিষয়ক কমিটি’র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাঁদের চারটি দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শাহুল আফরোজ, সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাহি উদ্দিন ও সিনিয়র অফিসার জাবেদ রাসেলের পদত্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওপর নিরাপত্তাকর্মীদের লাঞ্ছনাকারীদের বিচার, চলমান সংকটে সবার সামনে ভিসির ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষার্থীদের দাবি মানার পর ফাইনাল পরীক্ষার শিডিউল পরিবর্তন করা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চুক্তিতে থাকা আইন বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে গত ৩০ জুলাই মানবসম্পদ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে রেজিস্ট্রার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা তাঁর আইডি কার্ড নিয়ে নেন, তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এরপর থেকেই মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার থেকে দুদিনের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ