ঢাকা, শুক্রবার 22 November 2019, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জলবায়ু পরিবর্তনে ইউরোপে বছরে দেড় লাখ প্রাণহানীর আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব কাটিয়ে ওঠতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় ২১০০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ইউরোপে দেড় লাখের মতো মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নাল পরিচালিত ও প্রকাশিত পরিবেশ বিষয়ক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মৃতের এই সংখ্যা বর্তমান সংখ্যার ৫০ গুণ।

ওই গবেষণায় বলা হয়, আবহাওয়া সম্পর্কিত মৃত্যুর ৯৯ শতাংশই হবে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে। এর ধাক্কা ইউরোপের দক্ষিণাংশে লাগবে সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় পাওয়া তথ্যগুলো খুবই উদ্বেগজনক।

ইউরোপিয়ান কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের গবেষকদের পরিচালনায় ওই গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনহাউজ গ্যাসসমূহের নিঃসরণ এবং চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার সৃষ্ট দুর্যোগের প্রভাব কমাতে কিছু না করা হলে ইউরোপের জনজীবনের ওপর তার ফল ভয়াবহ হবে। গবেষণায় আশঙ্কা করা হয়েছে:

চরম আবহাওয়ায় নিহতের সংখ্যা ১৯৮১ থেকে ২০১০ সময়টাতে ৩ হাজার ছিল। সেটি বেড়ে ২০৭১ থেকে ২১০০ সাল সময়ের মাঝে ১ লাখ ৫২ হাজার হতে পারে।

২১০০ সালের মধ্যে ইউরোপের প্রতি তিনজনে দু’জন ব্যক্তি প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হবে, চলতি শতাব্দীর শুরুতে যা ছিল প্রতি ২০ জনে একজন।

উপকূলীয় বন্যায় নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। একবিংশ শতকের শুরুতে যা ছিল বছরে ৬ জন, শতাব্দীর শেষদিকে তা বেড়ে বছরে ২৩৩ জনে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

গবেষণাটিতে সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশে তাপপ্রবাহ, হঠাৎ তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, দাবানল, খরা, নদী ও উপকূলীয় কন্যা এবং শুষ্কঝড় – সবচেয়ে ভয়ানক এই সাতটি আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

এর আগে কিছুদিন আগেই জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে আরেকটি ভীতিকর গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষক দলের পরিচালিত সেই গবেষণায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ৩০ শতাংশ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক তাপপ্রবাহের শিকার হতে পারে।

কার্বন নিঃসরণ কমানো না হলে ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বেশিরভাগ অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে মানুষের বেঁচে থাকার যোগ্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রার একেবারে কাছাকাছি চলে যাবে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে সেই গবেষণায়।-চ্যানেল আই

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ